ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

যখন সাঁওতালদের ঘর পোড়ে, গুলি করে মেরে ফেলা হয়; তখন আমরা বলি, হায়! হায়! এসব করছেন কী? এই ভুখা-নাঙ্গা মানুষগুলোর উপর নির্বিচারে গুলি করছেন? পুলিশ কেন তাদের সামান্য কুঁড়ে ঘরেও আগুন দিচ্ছে? তখন আপনারা বলেন, এটা চিনিকলের জায়গা, ওরা জোড় করে দখল করে রেখেছে! আমরা বলি, তাই যদি হয় তাহলে বিজিএমইএ বিল্ডিংটা ভাঙছেন না কেন? তখন বলেন, ওটা আইন-আদালতের ব্যাপার! আবার যদি মনে করিয়ে দেই, ঐ কেসে তো আইনের কড়চা শেষ হয়েছে? তখন আপনারা মিট মিট করে হাঁসেন! আর আমরা বুঝে যাই, সাঁওতালরা গরীব মানুষ, তাই তাদের হাতের লেখা খারাপ!

যখন আমরা বলি- পাহাড়ে তো শান্তি চুক্তি করেছিলেন সেই কবেই! তাহলে এখনো সেখানে অস্থিরতা বিরাজ করছে কেন? উত্তরে বলেন, “চুপ থাক! এবিষয়ে কথা বলবি না! বললাম, আচ্ছা!

একদা হাওয়া ভবনে বসে রাজপুত্র এসির হাওয়া খেতে খেতে বলেছিল, আর কোনদিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারবে না! সেই সময়ের প্রধানমন্ত্রী গর্ব ভরে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিলেন,আওয়ামী লীগ আগামী ৫০ বছরেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না! কিন্তু এই বাংলার জনগণ দেখেছে তাদের সেই কথা সত্য হয়নি!

সেই হাওয়াযুগে যখন আওয়ামী লীগকে রাজপথে নির্মমভাবে পেটানো হয়েছে, গ্রেনেড মেরে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চেয়েছে! তখনও আমরা প্রতিবাদ করছি। কিন্তু তখনকার যুগে যেহেতু এই অনলাইনের সুযোগ ছিল না, তাই আমজনতার সেই প্রতিবাদের কথা কোথাও লেখা নেই। তা না থাক! কিন্তু নিজেরা যখন নিজেদের গণতান্ত্রিক দল হিসেবে দাবি করছেন, দেশকে বলছেন গণতন্ত্রের দেশ! তাহলে বিএনপি একটা রাজনৈতিক দল হিসেবে কেন প্রকাশ্যে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচী পালন করতে পারবে না? উত্তরে আপনাদের অভিব্যাক্তি সেই হাওয়াযুগের মতই! তাহলে বিএনপির সাথে আপনাদের পার্থক্য কোথায়? “বিএনপি-আওয়ামীলীগ একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ” – আমজনতার বলা কথাটা কি তবে সত্যি হয়ে যাচ্ছে না? এখন এই এপিঠ-ওপিঠের বিকল্প হিসেবে আমজনতা যদি ‘শক্ত কাউকে’ পছন্দ করে, তাহলে কোথায় হবে আপনাদের অবস্থান? নাকি ভাবছেন, আমাদের ‘টিনের বাক্স’ একেবারে এয়ার টাইট? একদা হাওয়া ভবনও এমনি ভেবেছিল!

যখন আমরা বলি, তনুর বাবা-মা কী সন্তান হারানোর বিচার পাবে না? উত্তরে আপনারা নিশ্চুপ থাকেন! তনুর বাব-মা গরীব বলে তাদেরও হাতের লেখা খারাপ! তাই তারাও বিচার পায় না! এবিষয়ে আপনাদের কোন উত্তর জনগণ পায় না! ভাবখানা এমন, এটা আসলে ঘটেইনি!

একটার পর একটা গারো মেয়ে ধর্ষিত হচ্ছে! ধর্ষিতা বলে, “তাকে নির্যাতন করেছে পাঁচ থেকে ছয় জন” আর আপনার বলেন, না! এটা করেছে মাত্র দুইজন! মাথায় আসে না, তাহলে একটা চলন্ত গাড়ীতে দুইজন কিভাবে এই অপরাধ সংগঠিত করলো। সেইসময় গাড়ীটা কি ‘অটো পাইলট’ মোডে ছিলো? তবে কী গুগলের আগেই আমাদের বাঙ্গালী ভাইরা ‘স্মার্ট কার’ আবিষ্কার করেছিলো? উত্তর নাই! আর আমরাও বুঝি কম! কারণ এই জাতি ‘জর্জ মিয়া’ নাটক দেখে দেখে অভ্যস্ত! আর তাই তো, এদেরই কেসে আদালত থেকে পুলিশের সামনে দিয়ে ‘ধর্ষণকারী রুবেল’ পকেটে হাত দিয়ে গান গাইতে গাইতে বাসায় ঘুমাতে যায়, আর তা দেখে জনগণ বেদনার হাঁসি হাসে! অপরদিকে গারো মেয়ের কেস বলে সেখানে মিডিয়াকেও দেখা যায় না! তাই বলতে হয়, এরাও যে গরীব মানুষ রে ভাই! হাতের লেখা সেই একই; খারাপ!

বিএনপির আমলে যেখানে হাজার পাঁচেক লুটেরা বাঙ্গালী মালয়েশিয়াতে ‘সেকেন্ড হোম’ করেছিলো, সেখানে এই আমলে শোনা যাচ্ছে এর সংখ্যা পনের-বিশ হাজার! কেন? তবে কী ব্যাংক লুট, টেণ্ডার লুট, প্রজেক্ট লুটের টাকা সেখানেই পাচার করছে নতুন লুটেরাদের দল? এই প্রশ্নের কোন উত্তর নাই! ভাবখানা এমন, কেউ এর কিচ্ছুই জানে না?

আমজনতা কী চায়?

একদিন ট্রাম্প, রডরিগোর মত সরকার প্রধান আসবে ইউরোপের ঘরে ঘরে! আসবে কানাডায়, মালয়েশিয়ায়। তারপর, তারা লুটেরাদের পাচার করা সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করবে! করবে ডিপোর্ট! আর তাই দেখে আমজনতা অট্টহাসিতে ফেটে যেতে যেতে বলবে, “এটা কিচ্ছু না- পার্ট-টু”!

আগের লেখাঃ এটা কিচ্ছু না

০৬/০১/২০১৬