ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

পাসপোর্ট অফিসের কথা শুনলেই আরও অনেকের মত আমারও গায়ে জ্বর আসে! মনে মনে আতংকিত থাকি নানারকমের হয়রানির জন্য।

আমার পাসপোর্টের ‘ম্যাচুরিটি ডেট’ এক্সপায়ার হয়ে যাবে আগামী ৫ মাসের মধ্যে। এবং যেহেতু আমাকে কর্মসূত্রে প্রায়ই বিদেশে যেতে হয়, তাই আমি একটু আগেভাগেই রিনিউ করে নতুন ‘এমআরপি পাসপোর্ট’ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম এবং এই উদ্দেশে আজ সকাল পৌনে আটটায় আগারগাও-এর পাসপোর্ট অফিসে যেয়ে হাজির হলাম।

কয়েকদিন আগে- অনলাইন থেকে ফরম সংগ্রহ করতে যেয়ে কিছুটা সমস্যায় পড়েছিলাম। কারণ আমার দরকার “পাসপোর্ট রিনিউয়াল” ফরম। কিন্তু পাসপোর্ট অফিসের তথ্য ঘেটে পেলাম “তথ্য পরিবর্তন/সংশোধন আবেদন ফরম”। এবং কিছুটা ঘাটাঘাটি করে জানলাম- এটা ব্যবহার করেই পাসপোর্ট রিনিউয়ালের আবেদন করতে হবে। কিন্তু এই তথ্যটা ফরমে কোথাও লেখা নেই। ফলে কিছুটা কনফিউশন নিয়েই এটা প্রিন্ট করে ‘নিজ হাতে পূরণ’ করলাম। গতকাল নির্দিষ্ট ফি- ‘জরুরী ৬,৯০০ টাকা’ ওয়ান ব্যাংকে জমা দিয়ে আজ ভোরে সেই স্লিপসহ পাসপোর্ট অফিসে হাজির হলাম।

পেজ-১

passport-3

পেজ-২
passport-4
লাইনে দাঁড়িয়ে অন্য একজনের একই উদ্দেশে পূরণ করা ফরম দেখে সেই কনফিউশনটা আরও বেড়ে গেল। অগত্যা একটা কম্পিউটার সেন্টারে বিষয়টা বুঝিয়ে বলতেই তারা বললেন, আপনার ফরম ঠিক আছে। আরও যে সমস্যায় পড়লাম, এই ফর্মে আনুষঙ্গিক কি কি সাপোর্টিং ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে তা লেখা নেই কিন্তু ঘর আছে! আমি নিজ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একটা করে পাসপোর্ট আর ন্যাশনাল আইডি’র ফটোকপি নিয়ে গেলাম। যা দরকার পড়েছিল চেকিং-এর সময় এবং ফরমের সাথে সেগুলো জমা দিলাম। এগুলো না নিয়ে গেলে আমি নিশ্চিত ভোগান্তিতে পড়তাম।
passport-1
সামরিক বাহিনীর সদস্যদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে লাইনে সুশৃঙ্খলভাবে একটার পর একটা কাজ সমাধান হয়ে গেল। এবং খুব দ্রুতালয়ে আমার রিনিউয়ালের কাজ সমাধা হলেও হঠাৎ করেই একটা অপ্রত্যাশিত সমস্যায় পড়লাম।
Passport-2
আমার বর্তমান এমআরপি পাসপোর্টে একটা সূক্ষ্ম ভুল ছিল কিন্তু কোনদিনই এটা নিয়ে সমস্যায় পড়িনি। আজ জমা নেওয়ার সময় আমাকে বলা হলো, কোন কারেকশন লাগবে কিনা? উত্তরে আমি না বললাম। কিন্তু কাগজের টোকেনটা হাতে পাওয়ামাত্র সেই ভুলটা আমার চোখে ধরা পড়লো। সাথে সাথেই সেই কম্পিউটার অপারেটরকে বললাম, ভাই আমার এই ভুলটা কারেকশন করে দিন। তিনি বললেন, আপনি তো না করলেন, আর ফর্মেও এটা লেখেন নাই? তাহলে ক্যামনে হবে? আমি আরও একটু অনুরোধ করার পর তিনি আমাকে সঠিক পন্থা দেখিয়ে দিলেন আর আমি বার চারেক কয়েক ফ্লোর ওঠানামা করে সব কাজ সমাধা করে খুশী মনে বিদায় নিলাম।

এবিষয়ে আমার কয়েকটা পর্যবেক্ষণ আছে-

১) অনলাইনের শতভাগ নিখুঁত তথ্য থাকতে হবে।
২) ফর্মে সঠিক তথ্য থাকার পাশাপাশি কোন কাজে কোন ফরম লাগবে তা স্পষ্ট করে লেখা থাকতে হবে।
৩) কোন কাজে কি কি সাপোর্টিং ডকুমেন্ট লাগবে তা প্রতিটা ফরমেই প্রিন্ট করা থাকতে হবে।
৪) কোন ব্যক্তি যদি ‘অন্য সেন্টার’ থেকে ইস্যুকৃত পাসপোর্ট নিয়ে ভিন্ন ‘পাসপোর্ট সেন্টারে’ উপস্থিত হয়ে তার পাসপোর্ট রিনিউ বা কারেকশন করতে চায়, তাহলে তাকে কী কী সাপোর্টিং ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে? তাও লেখা থাকা দরকার। অথবা সে যদি এই সুযোগের যোগ্য না হয়, তাহলেও সেটা ফরমে লেখা থাকা দরকার।
৫) পাসপোর্টের মেয়াদ ১০ বছর হওয়া উচিত।

সবশেষে বলবো, আগারগাও-এর পাসপোর্ট অফিসের সেবায় আমি সন্তুষ্ট। আর হয়রানী না হতে চাইলে, এখানে আসা নাগরিকদেরও কিছু দায়িত্ব আছে। তাদেরকে সঠিক তথ্য জেনে ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়েই এখানে হাজির হওয়া উচিত।