ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

বাটার ঝা চকচকে শোরুম আর রঙ-বেরঙের ডিসপ্লে দেখলে- ক্রেতা সাধারণের মাথা আসলেই ঘুরে যায়। তারা ভাবতে বাধ্য হন- এত সুন্দর আর দামি জায়গায় যাদের শোরুম, এত সুন্দর আর গোছানো যাদের ডিসপ্লে, তারা ভাল জিনিষ বিক্রি না করেই পারেন না! অতএব এরা বেশি কিছু না ভেবে, পাশের দেশিয় ছোট ছোট শোরুম থেকে জুতা না কিনে, বাটায় যায়। এই ক্রেতা সাধারণের মধ্যে আমিও একজন।

গত ১৩/০৬/২০১৭ তারিখে আমি বসুন্ধরা সিটির বাটার ‘মেগা সিটি স্টোর’ থেকে ৩,৯৯০/- টাকায় একজোড়া জুতা কিনলাম । সেলসম্যানকে জিজ্ঞাসা করলাম, এটা চামড়ার কিনা? সে কিছুটা কনফিউজিং উত্তর দিলো। বললো, স্যার, আমাদের ‘বাটা কমফিট’ খুবই ভাল জুতা। সহজে নষ্ট হবে না, অনেকদিন টিকবে। আমি জানি- বাটা একটা মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানি, অপরদিকে সেলসম্যানের কথায় কিছুটা বিভ্রান্তি থাকা সত্ত্বেও জুতাটা কিনে ফেললাম। ডিজাইনটাও আমার পছন্দ হয়েছিল।
Bata-1
কেনার দুইদিন পর আমি হাঁটতে যেয়ে যেই জলে পা দিয়েছি, অমনি মনে হলো- আমার ডানের পায়ের তালুতে জল লেগেছে। ভেজা ভাবটা খুব অল্প হওয়ায় আমি আর তেমন গা করলাম না। বাটার শোরুমে যেয়ে ক্যাচাল করতেও মন চাইলো না। ফলে বৃষ্টির দিনে ডান পায়ে ‘ভেজা-ভেজা’ একটা ভাব নিয়েই হাঁটতে থাকলাম।
Bata-4
এর কয়েকদিন পর, কেনার তারিখ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ দিন হবে। দেখলাম, বাম পায়ের জুতার সোল থেকে আঠা খুলে যাচ্ছে। ভাবলাম, যাক, রাস্তার পাশের কোন এক ‘জুতার কারিগর’ দিয়ে তাতে আঠা লাগিয়ে নেব! এরপর দেখলাম জুতাটা চামড়ারও তৈরী না। অর্থাৎ সেটা খুব নিম্নমানের এক ধরণের রেক্সিন দিয়ে বানানো। কাপড় টাইপের কোন ম্যাটেরিয়ালের উপর চামড়ার মত দেখতে পাতলা একধরের রেক্সিন দিয়ে সেটা বানানো হয়েছে এবং সেটাও উঠে যাচ্ছে।
Bata-3
এই কথা- কলিগ আর বন্ধুদের সাথে শেয়ার করার সাথে সাথেই, তারা আমাকে খোঁচা দিতে আরম্ভ করলো। কেউ কেউ বলল, দাদা, আপনি বাটার জুতা সম্পর্কে জানেন না? ওরা তো চায়না থেকে নিম্নমানের জুতা এনে এই দেশে বাজারজাত করে! অন্যরা বলল, আমরাও আর বাটার জুতা কিনি না, আপনি ওদেরটা কিনলেন কেন? এদের কথা শুনে আমার মনে হলো- আমি আসলেই একটা মদন। এরা সবাই বাটা সম্পর্কে এতকিছু জানে, অথচ আমি তা জানি না। আর সেটা না জেনে সেখান থেকে জুতা কিনে আমি একটা বড়সর অপরাধ করে ফেলেছি। অগত্যা আর কি! আমার হাতের কাছে আছে শুধুমাত্র এই ব্লগে লেখার ক্ষমতা। তাই এরই হেল্প নিলাম সবার আগে। পাশাপাশি জানতে ইচ্ছে করলো- আমার ব্লগ বন্ধুরা এ বিষয়ে কতটুকু জানেন?
Bata-2
নিজে ভুগে এবং অনেকের সাথে কথা বলে আমার মনে হয়েছে- এরা এদেশের ক্রেতাসাধারণকে নিয়মিত ঠকাচ্ছে। এর একটা বিহিত হওয়া দরকার। এরা চাকচিক্য দেখিয়ে খুবই নিম্নমানের জুতা বিক্রি করছে এবং সেগুলো একমাসও টিকছে না!

আমি যতদূর জেনেছি- বাটা তাদের বিক্রীত প্রডাক্টের কোন গ্যারান্টি ও আফটার সেলফসার্ভিস দেয় না। তাই এর একটা হেস্থনেস্থ হওয়া দরকার!

বাটাকে জানানো দরকার, এই বাংলাদেশেও ক্রেতা ঠকানো একটা অপরাধ! এই ঘটনাটা ইউরোপ-আমেরিকার কোন দেশে ঘটলে- এতক্ষন এদের লাল-নীল সূতা বের করে ফেলা হতো। কোন এডভোকেট যদি আমাকে ভলেনটিয়ারী সার্ভিস দেয়, তাহলে আমি বাটার বিরুদ্ধে জনস্বার্থে একটা মামলা করতে চাই! পাশাপাশি এই বিষয়টা নিয়ে ‘ক্যাবে’ একটা অভিযোগও করতে চাই।

কেউ কি এগিয়ে আসবেন?

পাদটীকা: Consumers Association of Bangladesh (CAB)- তে ইতিমধ্যেই আমি কমপ্লেইন করে দিয়েছি।

২৩/০৮/২০১৭