ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

একটা যুদ্ধে অনেকেই অনেকভাবে সহযোগিতা করে। এই যেমন- কেউ করে সরাসরি অস্ত্র হাতে নিয়ে, কেউ করে অস্ত্র দিয়ে, কেউ করে সেনাদেরকে রাস্তা দেখিয়ে, খাবার ও প্রশ্রয় দিয়ে। আবার কেউ কেউ করে নির্যাতিত মানুষদেরকে আশ্রয় ও চিকিৎসা দিয়েও। নারীরাও তাদের শরীর দিয়ে যুদ্ধে পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেন অথবা করতে বাধ্য হন। যেমন- বিপক্ষের সেনারা একটা জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভীতি ছড়ানোর জন্য ধর্ষণকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। এটা দিয়ে একদিকে যেমন শত্রুপক্ষের মনে ভয় ধরিয়ে দেওয়া যায়, তেমনি আবার নির্যাতিত মানুষের মধ্যেও তা বেঁচে থাকার লড়াইকে জোড়ালো করে। বর্তমানের শিশুরা যেন ভবিষ্যতে বড় হয়ে অস্ত্র হাতে যুদ্ধে না নামে, তার জন্যও যুদ্ধে শিশুদেরকে হত্যা করা হয়। পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত যত গণহত্যা হয়েছে তার সবগুলোতেই একই ট্রেন্ড দেখা গেছে। সেটা হোক পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর হাতে অধুনা পূর্ব পাকিস্থান তথা বাংলাদেশের হিন্দু-মুসলিম জনগোষ্ঠীর মানুষ হত্যা-ধর্ষণ, হোক সেটা তুর্কিদের হাতে আর্মেনীয় খ্রিস্টানরা, আইএসের হাতে ইয়াজদি ধর্মগোষ্ঠী, হিটলারের হাতে ইহুদী সম্প্রদায়ের মানুষ এবং হালের মিয়ানমারের সেনাদের হাতে রোহিঙ্গা মুসলিম জনসাধারণও। অর্থাৎ সব জায়গায় দেখা যায়- একটা গনহত্যা চালানোর জন্য শক্তিমানের শুধু একটা অজুহাত লাগে। খলের যেমন ছলের অভাব হয় না; তেমনি অপরাধীদেরও তাদের অপরাধকে জাস্টিফাই করার জন্য ছুতার শেষ নেই।

এমনকি বলতে গেলে বলতে হয়, বিশ্বের উন্নত দেশগুলো- যারা দিনরাত মানবতার গান গায়, তারা সহ জাতিসংঘও গণহত্যায় সহযোগিতা করছে। বলতে পারেন সেটা কিভাবে? এটার উত্তর হলো- পঞ্চ শক্তির ভেটো পাওয়ারটাই হলো অপরাধী রাষ্ট্রকে প্রশ্রয় দেওয়ার একটা হাতিয়ার। যেমন এই পাঁচ দেশের যেকোন একদেশ একটা গণহত্যায় ভেটো দিলেই জাতিসংঘের আর করার কিছু থাকে না। অর্থাৎ প্রকারন্তরে দেখা যায় এই সংগঠনই একটা গণহত্যায় পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছে। সেটা যেমন করেছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রথমদিকে, এখন করছে মিয়ানমারকে।

আমি যদি বলি- চীন, রাশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, ইসরাইলের মত দেশগুলো পাশে থেকে যেভাবে মিয়ামারকে রাখাইনের গণহত্যায় সহযোগিতা করছে, ঠিক একইভাবে কিছুটা পরোক্ষে- মালয়েশিয়া, তুরস্ক, এমনকি বাংলাদেশও তাতে উৎসাহ দিচ্ছে! বলতে পারেন, সেটা কিভাবে? এই যেমন- তুরস্ক ঘোষণা দিয়েছে তারা একলক্ষ রোহিঙ্গা রিফিউজির জন্য আবাস বানিয়ে দিবে, মালয়েশিয়া বানিয়ে দিবে একটা বড় হাসপাতাল, আর আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “একবেলা কম খেয়ে আমরা ওদেরকে খাওয়াবো, আশ্রয় দিবো!”

আমি বলি কী, এসব কাজ ও কথা, মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে রোহিঙ্গাদের উপর আরও অত্যাচার চালাতে উৎসাহ দিচ্ছে। তারা যেখানে চাচ্ছে রোহিঙ্গাদের তাড়াতে; সেখানে এসব সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হলে সেটা হবে তাদের জন্য সোনায় সোহাগা! যদিও মানুষের জীবন বাঁচানো আমাদের
প্রধান দায়িত্ব তবুও এমন কিছু বিকল্প থাকা উচিত যাতে করে মিয়ানমারের খুনে সেনাবাহিনীকে ঠেকানো যায়! তাদের বুঝিয়ে দিতে হবে তারা যেটা করছে তা আমরা মানতে পারি না! নাকি ভুল বললাম?

আজকে বিডিনিউজে প্রকাশিত রোহিঙ্গাদের রিফিউজি হয়ে এদেশে আসার যে ভিডিওটা দেখলাম, সত্যি বলতে কী, এটা দেখে আমি ইমোশোনাল হয়ে যাচ্ছি। এতদিন আমার বাবা-মা’র মুখে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তাদের রিফিউজি হওয়ার গল্প শুনতাম। বেঁচে থাকার সংগ্রাম শুনতাম! পাকিস্থানী সেনা ও রাজাকারদের হাত থেকে কিভাবে বেঁচে গেলেন তা নিয়েও এখনো তারা অবাক হন! যমুনা নদী দিয়ে যাওয়ার সময় ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকা উল্টে যেতে যেতে কিভাবে তারা বাঁচলেন- সেটা এখনো তাদের কাছে এক অলৌকিক ঘটনা! আজ যেন সেগুলোই স্বচক্ষে দেখতে পেলাম!

রোহিঙ্গাদের উপর চলা গণহত্যা বন্ধ করতে হবে!

আগের লেখাঃ রোহিঙ্গা রিফিউজি ম্যানেজমেন্ট ও কয়েকটি বেয়াড়া প্রশ্ন

১৭/১০/২০১৭