ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

আগামী দুই দিনের ছুটিটা কাজে লাগাবো বলে মনস্থির করলাম। অফিসের কাজে বেনাপোল যাবো। হঠাৎ করেই সিদ্ধান্তটা নিলাম। পাশাপাশি আমি বায়ারের সাথে মিটিং করার জন্যও ভারতে যেতে পারি- এই মর্মে একটা প্ল্যানও সাজালাম। ব্যবসায় ডেভেলপমেন্টের জন্য এটা অতীব জরুরী। কাজ করে ভুল করে পস্তানোর আগে, আমি নিজে উপযাজক হয়ে যে সব যায়গায় ভুল হয় এবং হবে বলে ধারণা করি- তা সংশোধন করে নেওয়াটাই আমার অভ্যাস। তার জন্য যেখানে-সেখানে আমি যখন-তখন যেতে তৈরী থাকি; এবং আমাদের ম্যানেজমেন্টও এবিষয়ে খবুই পজিটিভ।

আগামী দুই তিন দিনের মধ্যে আমরা বেনাপোল দিয়ে আমাদের এক্সপোর্ট শুরু করবো। তাই ভারত- বাংলাদেশের সিএন্ডএফ দ্বয়ের সাথে পরিচিতি ও পণ্যের ন্যাচার সম্পর্কে কিছু ব্রিফ দেওয়ার জন্য আমি সেখানে যাবো। অফিস থেকে দ্রুত ভ্রমণের অনুমতি নেওয়ার আগে আমি “ঢাকা টু যশোর টু ঢাকা” বিমানের টিকিটের অবস্থা কী, সেটা জানার জন্য আমাদের ট্র্যাভেল এজেন্টকে ফোন দিলাম।

যথারীতি সেখান থেকে জানানো হলো- বাংলাদেশ বিমানে আগামী দুইদিন তথা ১৫-১৬ ডিসেম্বরের’ ১৭ ঢাকা থেকে যশোর যাওয়ার কোন সীট নাই; কিন্তু ইউএস বাংলা, নভো এয়ারে সীট আছে তবে সেগুলোর দাম বেশি! অনেক চেষ্টা করলাম, আরও দুই-তিনটা ট্র্যাভেল এজেন্টের নিকট খোঁজ নিলাম। সব জায়গায় একই রিপোর্ট- “বিমানে সিট নাই!” কিন্তু ১৮ ডিসেম্বর তারিখে যশোর থেকে ফেরার পথে বিমানে সীট পাওয়া গেল যার ক্রয়মূল্য পড়লো ২,৯০০/- টাকা। আমি সেটা কিনে নিলাম। পাশাপাশি নভোএয়ারের ১৫ ও ১৬ তারিখের কোটেশন নিলাম। রেট পেলাম ৭,১০০/- ও ৪,৭০০/- টাকার। ইউএস বাংলারটা নিলাম না কারণ ওদের রেট আরও বেশি ছিল। সম্ভবত সেটা ছিল ৮,০০০/- টাকার কাছাকাছি।

কোটেশন নিয়েই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, ট্রেনে যাবো। আমার সব খরচ কোম্পানী দিলেও আমি নীতিগতভাবে আমার প্রতিষ্ঠানের অর্থ অযথা খরচ করি না। এটা আমার চাকুরীজীবনের অভ্যাস।

যেমন সিদ্ধান্ত তেমন কাজ। উবার ডেকে চলে গেলাম এয়ারপোর্ট রেলস্টেশনে। সেখানে দুই ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে কাউন্টারে পৌঁছে জানলাম আগামী দুইদিনের ঢাকা টু যশোর ট্রেনে কোন সীট নাই। মন খারাপ করে অফিসে চলে এলাম। আর ভাবতে থাকলাম কী করবো! ভাবতে ভাবতেই আবারো ট্র্যাভেল এজেন্টকে ফোন দিলাম। এবার হঠাৎ করে ১৫ ও ১৬ তারিখ দুইদিনেরই ‘ঢাকা টু যশোর’ বাংলাদেশ বিমানের সিট পাওয়া গেল। ঝটপট ১৫ তারিখেরটা ৩,৫০০/- টাকা কিনে ফেললাম। টিকেট পেয়ে আমাদের ট্র্যাভেল এজেন্ট ভীষণ খুশি হয়ে আমাকে বললেন, “দাদা, আপনি ভীষণ লাকি!” বললাম, কেন, উত্তরে তিনি বললেন, এই যে শেষবেলায় সীট পেয়ে গেলেন? বললাম, ‘তা ঠিক! বাংলাদেশ বিমান যে বেসরকারী এয়ার লাইন্সের টিকেট বিক্রি করানোর জন্য নিজেদের টিকেট বিক্রি না করে তা আটকে রাখে- এটা আগে শুনেছি। গত কিছুদিন ধরে যেহেতু আমি নিজেই টিকেটের বিষয়টা হ্যান্ডেল করছি- তাই তা নিজ চোখে দেখতে পাচ্ছি’।

Biman-2(গত ২০ শে আক্টোবরে বিমানে নেপাল থেকে ঢাকা আসার পথে বিমানের ভীতরের ফাঁকা সীটগুলো – ব্যাক ভিউ- আমার সীট থেকে।)

আমি গত ১৮-২০ অক্টোবরে নেপালে যাওয়ার আগেও একই ঘটনা দেখেছি। একেবারে শেষবেলায় বিমানের টিকেট পাওয়া যায়। বলা হয় সব টিকেট বিক্রি শেষ কিন্তু বিমানে উঠে দেখা যায় সীট ফাঁকা।

গত আক্টোবর মাসে বিমানে নেপাল থেকে ঢাকা আসার পথে বিমানের ভীতরের ফাঁকা সীটগুলো।(গত ২০ শে আক্টোবরে বিমানে নেপাল থেকে ঢাকা আসার পথে বিমানের ভীতরের ফাঁকা সীট গুলো। – ফ্রন্ট ভিউ – আমার সীট থেকে)

ঘটনার নেপথ্যেঃ আমি বিশ্বাস করছি, এই ঘটনার নেপথ্যে একটা বড় কার্টেল জড়িত যাদের মধ্যে আছে- বাংলাদেশ বিমানের উঁচু থেকে নিচের স্তরের সবাই। আরও আছে বেসরকারী এয়ারলাইন্সগুলো। এরা যেহেতু একই রুটে বাংলাদেশ বিমানের পাশাপাশি সার্ভিস দেয়; তাই এরা সবাই মিলে যেটা করে, সেটা হলো- বাংলাদেশ বিমানের প্রতিটা ফ্লাইটের কিছু টিকেট বিক্রি করে বাকী টিকেটগুলো বিক্রি না করে লক করে রাখে বা ফেক বুকিং দিয়ে রাখে। আর এই সুযোগে বেসরকারী এয়ারলাইন্সগুলো তাদের ফ্লাইটের সব টিকেট বিক্রি করে নেয়। যদি কোন ফেস্টিভ্যাল থাকে বা বড় ছুটি থাকে, তাহলে বেসরকারী লাইন্সগুলো টিকেটের রেট অনেক বাড়িয়ে দেয় এবং মানুষকে বেশী দামে টিকেট কিনতে ও তাদের ফ্লাইটে চড়তে বাধ্য করে।

পাদটীকাঃ আমি ঘটনাগুলোর রেফারেন্স হিসেবে টিকেট ও কোটেশনগুলো এই পোস্টে জুড়ে দিতে পারতাম কিন্তু তাতে আমার ব্যক্তিগত তথ্য থাকায় তা দিলাম না! তবে প্রয়োজন দেখা দিলেই দেবো!

পূর্বের লেখাঃ বাংলাদেশ বিমানে ‘ময়লা’

১৪/১২/২০১৭