ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

খবরে পড়লাম আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিঃ ট্রাম্প, সেদেশে ‘ফ্যামিলি ভিসা’ বন্ধ করে দিতে চাচ্ছেন। অর্থাৎ ডিভি বা পড়ালেখার সুযোগ পেয়ে যারা আমেরিকায় গেছেন; তারা যে প্রসেসে সেদেশে তাদের পরিবার-পরিজনকে নিয়ে যেতেন- সেই প্রসেসটাই তিনি বন্ধ করে দিতে চাচ্ছেন! এতে করে এই বঙ্গদেশে দু’ধরনের মত দেখা যাচ্ছে। প্রথমপক্ষ ভাবছে- এতে করে তাদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। আর দ্বিতীয়পক্ষ মনে করছে- কাজটা ঠিকই হচ্ছে।

আমি এই পোস্টে দ্বিতীয়পক্ষের পক্ষ নিলাম। আর প্রথমপক্ষের যারা মনে করছেন, এতে করে তাদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে- তাদেরকে বলছি, কেন এতে আপনাদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্থ হবে? আমেরিকা কি আপনাদের জন্মভূমি? সেদেশ কি আপনাকে বা আপনার পরিবারকে লালান-পালন করেছে? শিক্ষায়-দীক্ষায় উন্নত হতে সাহায্য করেছে? নাকি এই বঙ্গদেশের অর্থে, মাটিতে, বায়ুতে লালিত-পালিত হয়ে আপনারা হৃষ্টপুষ্ট হয়েছেন?

আরও একটা বিষয় খেয়াল করলাম। প্রথমপক্ষে যারা অবস্থান নিয়েছেন- তাদের বেশিরভাগই আমাদের দেশের সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠী। যাদেরকে আমরা এলিটশ্রেণী বলে থাকি। অর্থাৎ এদেশের সবচেয়ে বেশি সুবিধা এরাই নিয়েছেন; আবার এরাই আমেরিকায়ও বেশি বেশি যেতে চাচ্ছেন।

হ্যাঁ, আমেরিকা, ইউরোপ আর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো আমাদের মত তৃতীয়বিশ্ব থেকে মানুষজন নিয়ে তাদের দেশের নিম্নস্তরের কাজগুলো করিয়ে নেয়। কিন্তু একমাত্র আমেরিকা ও ইউরোপের কিছু দেশ বাদে অন্য কোন দেশ যেমন- সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, মালয়েশিয়া- কেউই সেইসব দেশে এই কর্মীদের পরিবার নেওয়ার অনুমতি দেয় না। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের কোনদেশই এই কর্মীদের সামান্যতম নাগরিক অধিকারও দেয় না, ‘পারিবারিক ভিসা’ তো দূর কা বাত!

প্রতিটা মানুষের, পরিবারের, সমাজেরই অধিকার আছে তাদের স্বাতন্ত্রতা রক্ষা করার। আমেরিকারও তা থাকা উচিত। আমি অবাক হয়ে খেয়াল করি- যে ছেলেটি এদেশে খুবই সাধারণ জীবন-যাপন করত; সেইই আমেরিকা-ইউরোপে যেয়ে সে দেশগুলোরই বিদ্বেষী হয়ে যাচ্ছেন! যে মানুষটি পারিবারিক ভিসায় বার বার আমেরিকায় যাচ্ছেন বা যেতে চাচ্ছেন বা পরিবারের অনেকই গেছেন, এখন নিজেও যেতে চাচ্ছেন! তিনিও দিনে একবার হলেও আমেরিকাকে গালি না দিয়ে ভাত খান না। শয়নে-স্বপনে সারাদিনমান তাদের কাটে- আমেরিকার ধ্বংস কামনা করে। এই যদি অবস্থা হয়, তাহলে কেন ট্রাম্পের এই ভিসা বাতিল করার সিদ্ধান্ত অন্যায় হবে?

এছাড়াও আরও যা দেখি-

১) যারা আমেরিকাসহ ইউরোপের দেশগুলোতে আমাদের মত দেশ থেকে যাচ্ছেন- এদের বেশিরভাগই সে দেশগুলোর ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্ম-গোত্রকে শ্রদ্ধা না করে প্রকাশ্যে ও গোপনে তা ঘৃণা করছেন। সেই দেশগুলোর মানুষদের প্রতি বিদ্বেষও পোষণ করছেন। এমনকি পারিবারিকভাবেও সেগুলোকে লালন-পালন করা হয়। ফলে এদের মধ্যে অতি উৎসাহীরা সুযোগ পেয়েই অপকর্ম করছেন। অর্থাৎ পারিবারিক শিক্ষাই এই অপরাধীদেরকে তৈরী করছে।

২) যারা সেই দেশগুলোতে জঙ্গীবাদের সাথে জড়াচ্ছে বলে প্রকাশ হচ্ছে- তা মূলত হিমবাহের চূড়া।

৩) সেই দেশগুলোর সোশ্যাল সুযোগ-সুবিধা নিয়ে, সেখানে তারা এক একটা কার্ল্ট তৈরী করছে, আর মনে মনে স্বপ্ন দেখছে- একদিন সেদেশগুলো তারা দখল করবেন।

৪) সামাজিক সু্যোগ-সুবিধা নিয়ে একের পর এক সন্তান জন্ম দিচ্ছে। পাশাপাশি নারীদের যতদূর সম্ভব বাইরে কাজ না করার জন্য উৎসাহিত করছেন, কখনো কখনো তাতে বাঁধাদানও করা হচ্ছে।

৫) নিজ দেশে যেমন নারীদের এরা মূল্যায়ন করত, সেই মুক্ত পরিবেশে যেয়েও তারা তা অব্যাহত রেখেছেন।

৬) এছাড়াও আরও নানা রকম আচরণ আছে যা লেখা যায় না।

এই ভিসা বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের দেশের কিন্তু লাভ হবে! সেটা হবে এভাবে-

১) যারা এদেশের খেয়ে আমেরিকায় সন্তান লালন-পালন করবে বলে স্বপ্ন দেখেন, এখন থেকে তারা নিজ দেশকে ভালবাসতে শিখবেন। এদেশে চুরি করে আর বিদেশে টাকা পাঠাবে না! কালোটাকা এদেশেই বিনিয়োগ করবে। ব্যাংক লুট করে কেউ আর পগার পাড় হওয়ার চান্স নিতে পারবে না! এছাড়াও আরও আরও অনেক উপকারিতা আছে; আছে অনেক লাভও! যেমন-

এতে করে শেয়ার বাজার-ব্যাংক, প্রজেক্ট লুটকারী দুর্নীতিবাজ রাজনৈতিক নেতা, ঘুষখোর আমলা-ইঞ্জিনিয়ার, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়- এর তাদের ভবিষ্যৎ বংশধরদের জন্য বিদেশের মাটিতে নিরাপদ আবাস গড়ার স্বপ্ন, দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে। এটা হলেই আমাদের দেশের অনেক লাভ হবে; লাভ হবে আমাদের মত আমজনতারও! দেশের টাকা দেশেই থাকবে। পালানোর জন্য নিরাপদ দেশ না পেয়ে অনেকেই ভাল হওয়ার চেষ্টা করবেন।

২৩/১২/২০১৭