ক্যাটেগরিঃ জানা-অজানা

এই জীবনে ডিম খেয়েছি অনেক। দেখেছিও অনেক। এমনকি মুরগিকে টুপ করে ডিম পাড়তেও দেখেছি! কিন্তু আজ হঠাৎ করেই অফিসে এক কলিগের হাতে হাঁসের ডিমটা দেখে চোখের গতি থেমে গেল! ডেস্ক থেকে উঠে গিয়ে সেটা হাতে নিলাম। দেখলাম ডিমটা হাঁসের ডিমই, কিন্তু উপরের সিদ্ধ অংশটা গোলাপি রঙের। কুসুমে হলদে রঙ ঠিকই আছে! বললাম, ঘটনা কী?

জানলাম, সকালে গুলশানের এক বাজার থেকে ১২০ টাকায় ১২টি হাঁসের ডিম কিনে আনা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটা সিদ্ধ করার পর তিনটায় রঙ অস্বাভাবিক, অর্থাৎ গোলাপি পাওয়া গেছে।

এ নিয়ে অফিসে হুলুস্থুল। কেউ বলে এটা রাবারের ডিম, কেউ বলে প্লাস্টিকের ডিম। কেউ বলে তবে আমরা কী খাচ্ছি? আবার কেউ রেগে বলে, “চলো, ডিমওয়ালাকে পিটিয়ে আসি!”

আমি বলি, ডিম তো ঠিকই হাঁসের ডিমের মতই দেখতে! সিদ্ধ ডিমের গন্ধও ঠিকই আছে। তবে কী প্রকৃতির কোন খেয়ালে এর রঙ এমন হয়েছে? অথবা হাঁসকে খাওয়ানো কোনো ঔষধের কারণে এমন হয়েছে? অথবা নতুন কোনো প্রজাতির হাঁস দেশে এসেছে যারা এমন রঙের ডিম দেয়?

তবে রান্না বিষয়ক একটি সাইট দেখাচ্ছে, হাঁসের ডিমের রঙ গাঢ় গোলাপিও হতে পারে! অর্থাৎ, হাঁসের ডিম বিভিন্ন রঙের হতে পারে! কেন হয় এর উত্তর না পেলেও একটা লেখা থেকে জেনেছি হাঁসের ডিমের রঙ ‘নীল’ ও ‘হলুদ’ হওয়াটা নির্ভর করে প্রকৃতির উপর। বিশ্বাস করা হয় এটা জেনেটিক্যাল কারণ। বাকিটা বলতে পারবেন জ্ঞানীরা। আমি আম পাবলিক আপাতত একটা গোলাপি ডিম কাঁচা অবস্থায় রেখে দিয়েছি। ভাবছি খেয়ে দেখতে হবে- এটা আসল না নকল!

অর্থাৎ সত্যিই ডিমটা হাঁসে পেড়েছে না মানুষে বানিয়েছে! এতে অবশ্য কিছুটা স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।  সমস্যা হলো- ‘টেস্টিং ম্যাথড’ হিসেবে আমি একটাই পদ্ধতি জানি। আর সেটা হলো ‘কাঁচা ডিম সিদ্ধ কর ও খাও!’

ওহ হ্যাঁ, খাওয়ার আগে একটু লবন লাগিয়ে নিতে হবে, স্বাদ বাড়বে এতে! নিজেকে নিজেই পরামর্শ দিলাম।

ডিম নিয়ে লেখা আগের কিছু পোস্ট:
বয়েল ডিম
ডিম-চিতই
লেটস স্টার্ট ব্রেকফাস্ট উইথ এ মুরগী’র বয়েল ডিম!
আলসে সময় ও বিশ্ব ডিম দিবস