ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

সিরিয়ার যুদ্ধ বিপদজনক দিকে মোড় নিচ্ছে। যখন তখন বড় ধরণের যুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে। বলা যায় না- এনিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধও বেঁধে যেতে পারে। যদিও মনে করি- “আমরা অলরেডি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যেই আছি”। এবারের যুদ্ধের প্যাটার্নটা ভিন্ন; তাই বোঝা যাচ্ছে না! অর্থাৎ প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মত করে এই যুদ্ধটা হচ্ছে না! হচ্ছে ভিন্ন স্টাইলে এবং সময় নিয়ে! হয়ত যেদিন এই যুদ্ধ শেষ হবে সেদিন বোঝা যাবে- হ্যাঁ, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলো অবশেষে! অথবা, যখন লেখা হবে এই সময়কালের ইতিহাস, তখন এই যুদ্ধের শুরু নিয়ে গবেষকগণ চলে আসবেন আমাদের সময়কালে! যদি তখনও গবেষণা করার মত মানুষ বেঁচে থাকেন। আমার ধারণা- সেটা থাকবে! মানুষ এত সহজে বিলুপ্ত হবে না!

বৈঠকে ট্রাম্প বলেছেন, সোমবার রাতের মধ্যে ‘বা এরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই’ প্রতিক্রিয়া জানানোর বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিবেন তিনি। সিরিয়ায় ‘সামরিকভাবে বেছে নেবার মতো অনেক বিকল্প’ যুক্তরাষ্ট্রের আছে বলে এ সময় মন্তব্য করেন তিনি। “সবাই যেরকম নৃশংসতা প্রত্যক্ষ করলাম তা হতে দিতে পারি না আমরা। আমাদের বিশ্বে এটি হতে দিতে পারি না আমরা, বিশেষভাবে যখন যুক্তরাষ্ট্রের শক্তির কারণে আমাদের সক্ষমতা আছে, আমাদের দেশের শক্তির কারণে আমরা এগুলো বন্ধ করতে সক্ষম,” বৈঠকে তিনি এমনটি বলেছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স (সূত্রঃ বিডিনিউজ২৪ডটকম)।

সিরিয়ার যুদ্ধ নিয়ে বিশ্ব ক্রমেই দুইভাবে বিভক্ত হচ্ছে। এর প্রথমপক্ষ তথা প্রেসিডেন্ট আসাদের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়ে প্রথমদিন থেকেই দাঁড়িয়ে আছে- রাশিয়া ও ইরান। তাতে সাপোর্ট দিচ্ছে আরও কিছু দেশ যেমন চীন! চীন ইতিমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছে- তারা ভবিষ্যতের যেকোন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে থাকবে! ইতিমধ্যেই তারা সিরিয়ায় ত্রাণও পাঠাতে শুরু করেছে। হয়ত অচিরেই সেখানে তাদের সেনা পাঠানোর ঘোষণা আসবে! লেবাননের শিয়া মতালম্বী যোদ্ধাদল- যারা মূলত তৈরী হয়েছিল ইসরাইলকে প্রতিরোধ করার জন্য; তারাও এযুদ্ধে জড়িয়ে গেছে। প্রত্যক্ষভাবে তারা যুদ্ধ করছে আসাদের পক্ষে। এছাড়াও এই যুদ্ধের ময়দানে আছে একটা শিয়া যোদ্ধাদল যাতে অংশ নিয়েছে পৃথিবীর ভিন্ন ভিন্ন দেশের শিয়া মতালম্বী বেসামরিক যুবকেরা; যারা এসেছে সেচ্ছায় অথবা অল্প কিছু টাকার বিনিময়ে। এই সেচ্ছাদলে যেমন আছে ইরান, ইরাকের মানুষ, তেমনি আছে আফগানিস্তনের মানুষও।

শোনা যায়, এই যুদ্ধে আরও একটা যোদ্ধাদল আছে- যারা এসেছে মূলত রাশিয়া থেকে। বলা হচ্ছে এরা ‘মার্সেনারী’ অর্থাৎ এরা রাশিয়ার নিয়মিত সেনাদল না কিন্তু এরা যুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শী। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে- এই যুদ্ধে হটাৎ করেই তুরস্কের দিক পরিবর্তন। প্রেসিডেন্ট আসাদকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য প্রথম দিন থেকে যে মানুষটি অক্লান্ত খেটেছেন, তিনি হলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান। বলা হয়- এই যুদ্ধে বিভিন্ন যোদ্ধাগ্রুপ যেমন আল-কায়দার সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন দল, আইএস তৈরিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিল তুরস্ক। এমনকি রাশিয়ার একটা যুদ্ধ বিমানও গুলী করে তারা ধ্বংস করেছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই এই দেশ পক্ষ পরিবর্তন করে রাশিয়া ও ইরানের সাথে হাত মিলিয়েছে। অর্থাৎ প্রকারান্তরে আসাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। পাশাপাশি কুর্দি যোদ্ধাদের হটানোর নাম করে সিরিয়ার আফরিন অঞ্চলটা দখলও করে নিয়েছে।

এই যুদ্ধের দ্বিতীয় পক্ষে আছে সৌদি আরবের তথা আমেরিকার নেতৃত্বে ব্রিটেন, ফ্রান্স সহ গালফ দেশগুলো। ময়দানে আছে বিভিন্ন যোদ্ধাগ্রুপ। আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের কিছু সেনাও আছে এই যুদ্ধের ময়দায়ে। আরও আছে কুর্দি যোদ্ধারা যাদের সাথে আবার সুসম্পর্ক আছে আমেরিকা ও আসাদের। বলা হয়- এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ভিক্টিম হলো এই কুর্দি দল। তারা একই সাথে আইএস ও তুরস্কের বিরুদ্ধে লড়ছে।

আমার ব্লগে লেখালেখি প্রথম দিকে- সেই ২০১৩ সালে এই সিরিয়া যুদ্ধ নিয়ে একটা পোষ্ট লিখেছিলাম। তাতে আমার বক্তব্য ছিল-

এতক্ষণে আসল কথা জানা গেল। আর তা হল সিরিয়া যদি তার রাসায়নিক অস্ত্রগুলো আমেরিকা অথবা তৃতীয় কোন দেশের হাতে তুলে দেয় তাহলে সে ‘আমেরিকা’র দ্বারা আক্রান্ত হবে না। সিরিয়া নিয়ে এত ঘটনার এটাই হচ্ছে আসল কথা। এর মাজেজা হল ইজরাইল ও সৌদি আরবকে এই অস্ত্রের আক্রমণ থেকে যেকোন উপায়ে রক্ষা করা অথবা অস্ত্রগুলো ভুলিয়ে ভালিয়ে হাতিয়ে নিয়ে তারপর আক্রমণ করা। (সূত্র: লিংক )

সেখানে আরও লিখেছিলাম-

সিরিয়ার বন্ধুবেশী রাশিয়া কী তবে বিভীষণের রূপ ধারন করবে? অর্থাৎ সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্রগুলো আসাদের কাছ থেকে নেওয়ার পর রাশিয়া কি বিট্রে করবে?

আমার প্রথম ধারণাটা কাছাকাছি গেলেও দ্বিতীয় ধারণাটা মেলেনি। অর্থাৎ রাশিয়া তথা পুতিন তার বন্ধু আসাদের সাথে প্রতারনা করেনি। উল্টো বন্ধুর পাশে শক্তভাবে দাঁড়িয়ে দাঁতে দাঁতে চেপে যুদ্ধ করছে! তাকে রক্ষা করার পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের হাতছাড়া হয়ে যাওয়া এলাকাগুলোও পুনরায় দখল করে নিচ্ছে। এই পুনঃ দখল যুদ্ধেই ফিরে এসেছে সেই পুরোনো ভয়; যার নাম ‘রাসায়নিক অস্ত্র’। বলা হচ্ছে- আসাদ শহুরে যুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করছেন। যদিও তিনি তা করেননি বলছেন, কিন্তু বারবার এই অস্ত্রের ব্যবহারে মানুষের বিশেষ করে নারী ও শিশুদের করুন পরিণতি দেখে আমেরিকা ও তার সঙ্গীরা তেতে উঠেছে। হয়ত একটা বড়সড় আক্রমণ আসাদের জন্য অপেক্ষা করছে! আর এতে হাওয়া দিচ্ছে সৌদি আরব ও ইজরাইল!

ইতিমধ্যেই সিরিয়ার দৌমা শহরের যুদ্ধে আসাদ রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে শতাধিক মানুষ হত্যা করেছেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে, অন্যদিকে ইজরাইল সিরিয়ার একটা সামরিক বিমানবন্দরে আক্রমণ চালিয়ে তা ধ্বংস করে দিয়েছে! সেখানে অন্যান্য সেনার সাথে চার ইরানী সৈন্যও মারা গেছেন বলে ইতিমধ্যেই খবর চাউর হয়েছে। অর্থাৎ সিরিয়ার যুদ্ধ ক্রমেই বিশ্বরূপ নিচ্ছে! এর পরবর্তী অধ্যায়টা লিখবে- ভবিষ্যৎ!

পূর্বের লেখাঃ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ-৮