ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

আগামী কিছুদিনের মধ্যে নোবেল কমিটির সামনে একটা ভয়াবহ খারাপ দিন আসতে পারে। কেন ও কী কারণে? ধরা যাক, প্রস্তাব এলো ট্র্যাম্প ও  কিমকে শান্তিতে নোবেল দিতে হবে। পাশাপাশি এর পক্ষে এমনসব যুক্তি ও কাজের নমুনা দেওয়া হলো যে, নোবেল কমিটির সামনে আর না করার সুযোগ থাকলো না। তাহলে কী হবে? কেন ট্র্যাম্প ও কিম নোবেল পেতে পারেন?

কোরিয়া উপদ্বীপের এই সংকট আজকের না; যুগের পর যুগ ধরে এই সংকট চলছে। চলছে হুমকি। আমেরিকা, উত্তর কোরিয়া কেউ কাউকে হুমকি দিতে কোনোদিন কার্পণ্য করেনি। এমনকি দক্ষিণ কোরিয়া আর জাপানও সুযোগ পেয়ে উত্তর কোরিয়াকে হুমকি দিয়েছে; এদিকে কোরিয়াও কম যায়নি। এইতো সেদিন, কিম ও ট্র্যাম্প একে অপরকে ‘কার ক্ষেপণাস্ত্র কত বড়’ সেটা দেখিয়েছেন।

কিন্তু হঠাৎই গণেশ উল্টে দিয়ে ট্র্যাম্প ও কিম কেন আলোচনায় বসতে রাজি হলেন? কেন তাদের মধ্যে জিইয়ে রাখা ঝগড়াটা মিটিয়ে ফেলতে উদ্যোগী হলেন? এর উত্তর হবে- এরা দুই দলই এবার ভয় পেয়েছে।

যখন ওবামা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ছিল তখনও উত্তর কোরিয়া আণবিক বোমা পরীক্ষা করেছে, ক্ষেপণাস্ত্র উড়িয়েছে। বিপরীতে আমেরিকাও নানা হুমকির সাথে কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে। এগুলো ছিল এক ধরণের রুটিন ওয়ার্ক। উত্তর কোরিয়া ভাবতো, ওবামা বড়জোর নিষেধাজ্ঞা দিবে। আবার আমেরিকা ভাবতো, উত্তর কোরিয়া  বড়জোর ছোট-খাট ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাবে। এভাবে ইস্যুটা টিকে ছিল। অপরদিকে চীন ভাবতো আমেরিকার সাথে উত্তরের সমস্যাটা বহাল থাকুক।

কিন্তু যখন কিম হাইড্রোজেন বোমা ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানো, তখনই খেলার মোড় ঘুরে গেল। ট্র্যাম্প শুধু হুমকি দিয়েই ক্ষান্ত হলেন না। কোরিয়া উপদ্বীপে আণবিক বোমাবাহী বোমারু বিমান ওড়াতে শুরু করলো আমেরিকা। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় আরও কড়াকড়ি আনা হলো।

এর ফলে কিম বিশ্নাস করলেন, ট্র্যাম্প যখন-তখন আণবিক বোমা ফেলতে পারে। ট্রাম্পও বিশ্বাস করলেন, কিম চাইলে আমেরিকার উপরও যখন-তখন হাইড্রোজেন বোমা মারতে পারেন। আর চীন ভাবলো, এই দুই দেশের আণবিক যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হবে চীনও। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানও দুই পক্ষের আগ্রাসী মনোভাব দেখে মনে ভেবেছে, এবার আণবিক যুদ্ধ বেঁধে যাবে।  এরপর ট্রাম্পের চাপে সবাই আলোচনায় রাজি হলেন।