ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

সেদিন এয়ারপোর্টের ইমিগ্রেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। তলপেটের চাপটা বাড়তে বাড়তে বিরাট আকার ধারণ করেছে! অনেকটা চৈত্র মাসের কালবৈশাখীর মত করে নীচের দিকে হামলা চালাচ্ছে। সামনে তাকিয়ে দেখি আমার মত আরও আদম সেই লাইনে ঠায় দাঁড়িয়ে আছেন। কাস্টমস পুলিশও তাদের কাজ করছেন তাদের মত করেই; কিছুটা দুলকি চালে! তারা এক-একটা করে আদমকে ডাকছেন আর পাসপোর্ট-কাগজপত্র চেক করে ইমিগ্রেশন পার করাচ্ছেন। ভেবে দেখলাম, এই যদি অবস্থা হয়, তাহলে আজ আমার খবর আছে নিশ্চিত।

 

একই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা- কলিগকে বললাম, লাগেজটা দেখেন আর লাইনে থাকেন, আমি আসি। বলেই বোর্ডিং পাশ দেখিয়ে যে গেট দিয়ে ঢুকেছি সেই গেটের পুলিশ অফিসারকে ডান হাতের কড়ে আঙুলটা দেখিয়ে বললাম, বাইরে যেতে হবে। ম্যাটার সিরিয়াস স্যার!

তিনি অনেকটাই নিমরাজি হলেন, তারপরও আমাকে গেট দিয়ে বের হতে দিলেন। হুড়মুড় করে বের হতে হতে তাকেই জিজ্ঞাসা করলাম, স্যার টয়লেটটা কোন দিকে? ইশারায় তিনি ডান দিকে যেতে বললেন। আমি আর দেরি না করে প্রায় ছুটতে শুরু করলাম। হঠাৎই সামনে তাকিয়ে দেখি এয়ারপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেটের অফিস।

এয়ারপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে জনাব মোঃ ইউসুফ আছেন সেটা আমরা অনেকেই জানি। তিনি ফেসবুকে বানসুরি নামেও পরিচিত। তিনি একটা ফেসবুক পেজ চালান যাতে তিনি তার কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দেন, পরামর্শও দেন।বিদেশে কর্মরত লাখ লাখ বাংলাদেশি যা থেকে উপকৃত হচ্ছেন। অনেকদিন ধরেই আমি এই পেজের ফলোয়ার।  এই দুইজনই যে একই ব্যক্তি সেটা আমি পরিষ্কারভাবে জেনেছি যখন উনি অসুস্থ হলেন।

সেই সময়ে তার চিকিৎসায় সহযোগিতার জন্য ফেসবুকে “সাপোর্ট টু ইউসুফ ভাই” নামে একটা গ্রুপ খোলা হয়েছিল। আমি সে গ্রুপে এড আছি। অনেক পরে ওনার ফেসবুকে ফ্রেন্ড হিসেবেও যুক্ত হয়েছি। যখন তিনি অসুস্থ হয়েছিলেন- সেই সময়টায় আমি এই ব্লগে “তার চিকিৎসা কেন দরকার“- সে বিষয়ে একটা পোষ্টও লিখেছিলাম।

বাংলাদেশের মত একটা আপাদমস্তক দুর্নীতিপরায়ণ দেশে তার মত একজন সৎ ও নির্ভীক সরকারি কর্মকর্তা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। তারচেয়েও বড় প্রাপ্তি হচ্ছে- তিনি আছেন আমাদের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ম্যাজিট্রেটের দায়িত্বে। আমরা যারা এই বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করি- তারা জানি এই বিমানবন্দরে বিদেশ গমণরত একজন মানুষের জন্য কত রকম ফাঁদ পাতা আছে। আছে নানা ছুতায় বিদেশে কর্মরত লাখ লাখ নারী-পুরুষের কাছ থেকে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য শত শত সরকারি-বেসরকারি প্রতারক। সেই জায়গায় জনাব ইউসুফ আমাদের ভরসার জায়গা। আমি বিশ্বাস করি- আমার মত অনেকেই “ম্যাজিট্রেট সাহেব আছেন”- এই ভরসায় এই এয়ারপোর্ট দিয়ে নির্ভয়ে চলাফেরা করেন।

আমি কিছুটা থমকে দাঁড়িয়ে ভাবছি সুযোগটা নেব কি না? কিন্তু অবস্থা এমন শোচনীয় যে সেই অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একমাত্র সিকিউরিটি পুলিশকে জাস্ট জিজ্ঞাসা করতে পারলাম, স্যার আছেন? তিনি উত্তরে হ্যাঁ বললেন। আমি আর দেরি না করে যথাস্থানে যেয়ে জলবিয়োগ করে হালকা হলাম।

এবার ফেরার পথে মনে মনে ক্যালক্যুলেশন করে বের করলাম- আমি লাইনের যে অবস্থা রেখে এসেছি তাতে করে ৮ থেকে ১০ মিনিট সময় পাওয়া যাবেই। তারপর কিছুটা সংকোচ আর অনেকটা উৎসাহ নিয়ে আবার সেই সিকিউরিটি পুলিশকে জিজ্ঞাসা করলাম, “স্যারের সাথে দেখা করা যাবে? বিষয় কিছুই না, নিতান্তই ব্যক্তিগত।”

 

তিনি আমাকে দেখেই হোক আর ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবেদের স্থায়ী নির্দেশনাতেই হোক সাদা পোশাকের অন্য একজনকে দেখিয়ে বললেন, ওনার সাথে কথা বলুন। উনি পাশেই ছিলেন আর আমর চাওয়াটা তিনিও শুনেছেন। দেরি না করে তিনি বললেন, আসেন আমার সাথে। বলেই তিনি একটু ঘুরপথে আমাকে নিয়ে যেতে যেতে একটা রুমে ঢুকে পড়লেন। আমি বাইরেই দাঁড়িয়ে গেলাম। বুঝলাম তিনি ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের সাথে কথা বলছেন। আমি দূর থেকে তাকে না দেখেই কিছুটা চড়া গলায় বললাম, “কোনো কমপ্লেইন নিয়ে আসিনি, এসেছি জাস্ট একটু দেখা করতে। স্যারের সময় হবে?”

ওদিক থেকে উত্তর আসলো, আসেন! আমি দেরি না করে রুমে ঢুকেই ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের দিকে হাত বাড়িয়ে হ্যান্ডশেক করলাম। বললাম, “জাস্ট আপনার সাথে দেখা করতে এলাম। এই এয়ারপোর্ট দিয়ে অনেকবারই যাওয়া-আসা করি, একটা ইচ্ছা ছিল আপনার সাথে পরিচিত হবো, তাই এলাম।” তিনি বললেন, “ভাল করেছেন, এবার বসেন আর চা খান।”

এমন সময় পকেটে থাকা আমার ফোনটা বেজে উঠলো। বের হয়ে দেখি লাইনে রেখে আসা আমার কলিগ ফোন দিয়েছেন। রিসিভ করতেই তিনি বললেন, তাড়াতাড়ি আসেন, লাইন শেষ। এদিকে কথা বলতে বলতেই আমি তার সামনে রাখা দুটো চেয়ারের মধ্যে ডানেরটায় বসে পড়েছিলাম। ঠিক তখনই ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব চায়ের তাড়া দিলেন। আমি উঠে দাঁড়িয়ে বললাম, “স্যার, অন্য একদিন আসবো, আজ যাই। ইমিগ্রেশনের লাইন থেকে ডাক এসেছে।”

তিনি বললেন, “ঠিক আছে যান, তবে যাওয়ার আগে আমার টুকিটাকি থেকে একটা বই নিয়ে যান। এবার আমি অনেকটাই থমকে দাঁড়ালাম, বললাম, তা কী করে হয়? আমি যাচ্ছি বিদেশে, আর ফেরার সময় এটা ফেরত দেওয়ার কথা মনে নাও থাকতে পারে, তখন?”

তিনি হেসে বললেন, “বিদেশে থাকবেন, হাতে সময় অনেক পাবেন, সেই সময়ে একটা বই না হয় পড়বেন!” এবার আমি বিপদে পড়লাম। বললাম, “তা না হয় নিলাম, কিন্তু যদি আর ফেরত দিতে না পারি। তখন?”

উত্তরে তিনি হেসে বললেন, ফেরত তো দিবেনই, সাথে আমাদের এই টুকিটাকিতে আরও কিছু বই পাঠিয়ে দিবেন।” বলেই তিনি সেই সাদা পোশাকধারীকে বললেন, টুকিটাকি থেকে একটা বই দিয়ে দাও।

তারপর সেই ছোট্ট সেলফটাতে থাকা শ-দুয়েক বইয়ের দিকে তাকিয়ে অতি দ্রুত হাতড়াতে থাকলাম। দেখলাম সেখানে থাকা অনেক বই আমার আগেই পড়া আছে। নিচের তাকে দেখি বঙ্কিমের ‘রাজসিংহ’ বইটা। এই বইয়ের কথা আমি অনেকবারই শুনেছি, কিন্তু পড়ার সুযোগ পাইনি। বইটা সেলফ থেকে টেনে বের করে দৌড়াতে যাবো এমন সময় সেই সাদা পোশাকাধারী পিছন থেকে ডেকে বললেন, “রেজিস্ট্রারটা পূরণ করে যান।”

ঘুরে দাঁড়িয়ে সেটাতে দ্রুত লিখছি, আবারও ফোন বেজে উঠলো। এবার আর দেরি না করে আমার কার্ডটা উনার হাতে দিয়ে বললাম, স্যারকে দিবেন। মনে মনে বললাম, আমি যদি বইটা মেরে দেই- সেক্ষেত্রে তিনি যেন আমাকে ধরতে পারেন। তারপর হাসতে হাসতে সেখান থেকে বের হয়েই স্বগতোক্তি করলাম, “সেধে ধরা খেলাম!”

অনেকদিন একনাগারে বই পড়ার অভ্যাস না থাকায় প্রথম দিকে রাজসিংহ পড়তে বেশ সমস্যা হচ্ছিল।  আবার বঙ্কিমচন্দ্রের লেখা পড়াও যা তা কথা নয়। তবে ধীরে ধীরে বইয়ে ডুবে গিয়ে এক নাগাড়ে পড়ে শেষ করেছি রাজসিংহ।

বই নিয়ে কিছু না বললে ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব ভাবতে পারেন আমি ‘রাজসিংহ’ পড়িনি। বই নিয়ে আলোচনায় যাওয়ার আগেই যা বলা দরকার বলে মনে করছি – বর্তমানে এই বই কেউ লেখার সাহস করবে না। স্বয়ং বঙ্কিমচন্দ্রও যদি এই বঙ্গদেশে ফিরে আসেন এবং এই বই পুনরায় লেখার চিন্তা করেন তাহলেও আশেপাশের অবস্থা দেখে তিনি সেই চিন্তা বাদ দেবেন।

সাহস করে যদিও লিখেও ফেলেন, সেক্ষেত্রে তিনি প্রকাশক হিসেবে কাউকে পাবেন না। আবার কেউ যদি সেটা প্রকাশ করেও ফেলেন, তবে এটা নিশ্চিত যে আগামী একুশের বইমেলায় তিনি এই বই কোনো স্টলে বিক্রি করতে পারবেন না। কারণ বাংলা একাডেমি এতে বাধা দিবে! এরচেয়ে বেশি কিছু জানতে চাইলে বইটা পাঠককে নিজ দায়িত্বে পড়তে হবে  রাজসিংহ।

এই বইয়ে লেখক স্পষ্ট করে বলেছেন, মোঘলরা ভারতে আগন্তুক। যারা মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে এসে ভারতভূমি আক্রমণ করে তা দখল করেছেন। শতাব্দীর পর শতাব্দী শাসন করছেন! করেছেন শোষণও।।

লেখক দেখিয়েছেন, মোঘল বাদশা ও তাদের স্ত্রী-সন্তানেরা ধর্মকে তাদের শাসন ও শোষণের জন্য ব্যবহার করলেও নিজেদের জীবনে তা পালন করেননি। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মদ্যপান করার চর্চা ছিল। অতিগোপনে রাজকুমারীরাও পুষতেন পুরুষ রক্ষিত। মোঘল শাসকেরা স্ত্রী-দাসী নামে শত শত নারী ভোগ করলেও কোন পুরুষ যেন সেই নারীদের সাথে যৌনকর্ম করতে না পারে তাই প্রাসাদের সকল পুরুষ সৈনিক, পাহাড়াদার, চাকরদের পুরুষাঙ্গ কেটে খোঁজা বানিয়ে দিতেন।

সেই আমলে ভারতে থাকা হিন্দু রাজারা বেশি ব্যস্ত থাকতেন নিজেদের মধ্যে হানাহানি আর ক্যাচাল নিয়েই।অপরদিকে নিজের রাজকন্যাদের মোঘল বাদশাদের সাথে বিয়ে দিয়ে মিলতাল করতেন। অথবা তাদেরকে প্রাসাদে দাসী-রক্ষিতা হিসেবে পাঠাতে পছন্দ করতেন।

লেখক রাজপুতদের যোদ্ধা ও হিন্দুদের রক্ষাকর্তা হিসেবে দেখিয়েছেন। ছোট রাজা রাজসিংহকে একজন অবলা নারীর রক্ষাকর্তা তথা নায়ক হিসেবে তুলে ধরেছেন।

রাজসিংহে বর্ণনা হয়েছে ঔরঙ্গজেবের নির্মম শাসক চরিত্র। তিনি হিন্দু প্রজাদের উপর নানা অত্যাচার করেছেন। জিজিয়া কর আরোপ করেছেন। হাতি দিয়ে পিষে মেরেছেন! মন্দির ভেঙেছেন। আবার তিনি বৃদ্ধ বয়সে একজন হিন্দু যুবতীর যার নাম নির্মল; তার প্রেমে পড়েছেন। অবশ্য এই প্রেম কতটুকু খাঁটি ছিল তা লেখক পরিষ্কার করেননি।

যুদ্ধেক্ষেত্রে তিনি যখন রাজসিংহের কৌশলে বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে কোণঠাসা, ঠিক তখনই কবুতরের মাধ্যমে চিঠি পাঠিয়ে নির্মলের কাছে নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য সাহায্য চেয়েছেন। এই নির্মল আসলে এই উপন্যাসের নায়িকা চঞ্চলা কুমারীর খাস দাসী বা সই।

উপন্যাসে লেখক বুঝিয়ে দিয়েছেন নারী-পুরুষ উভয়েই যতই নির্মম হোক না কেন হঠাৎ করেই তারা প্রেমে পড়তে পারেন। যেমনটা হয়েছে রাজ প্রাসাদের একছত্র ক্ষমতার অধিকারীনি রাজকুমারী জৈবনেসার ক্ষেত্রে। তিনি তুর্ক যোদ্ধা মবারককে রক্ষিত হিসেবে ব্যবহার করলেও যখন জানলেন যে, সে তারই গুপ্তচর দরিয়ার স্বামী তখনই তার মধ্যে নারীর সেইরূপ ফুটে উঠলো, যাতে করে সে দরিয়াকে বুঝিয়ে দিলো যে, সে তার পুরুষকে অন্য নারীর সাথে ভাগ করবে না। সম্রাট ঔরঙ্গজেবের দ্বারা মবারককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া ও সর্পদংশনে তা কার্যকর করার পর  রাজকুমারী বুঝতে পারলেন তিনি মবারককে ভালবাসেন।

এই উপন্যাসের সবচেয়ে বিচিত্র চরিত্র হচ্ছে মানিক লাল। যাকে হাল আমলের জেমস বন্ডের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। একজন সামান্য ডাকাত থেকে তিনি নিজেকে মহারাজ রাজসিংহের প্রধান পরামর্শদাতা ও কৌশলবিদ হিসেবে  প্রতিষ্ঠা করেন।

সবশেষে একটা প্রশ্ন আসতে পারে মহাপরাক্রমশালী মোঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেব ও একজন ক্ষুদ্র রাজপুত মহারাজা রাজসিংহের মধ্যে যুদ্ধের জন্য দায়ী নারীটি কে? এর উত্তরে আপাতদৃষ্টিতে অপরূপা সুন্দরী ষোড়শী, রাজকুমারী চঞ্চলা কুমারীকে দায়ী মনে হলেও মূলত দায়ী সেই ছবি বিক্রেতা বৃদ্ধা নারীটি। যিনি চঞ্চলা কুমারী কর্তৃক ঔরঙ্গজেবের ছবি পা দিয়ে ভেঙ্গে ফেলার ঘটনাটা গোপন রাখার শর্তে অর্থ নিয়েও তা তার ছেলের কাছে প্রকাশ করে দেন। আর তার ছেলের সেই তথ্য রাজপ্রাসাদে বিক্রি করে অর্থ কামাইয়ের ইচ্ছে থেকেই মূলত ঘটনার শুরু।

আবার সেই তথ্য বিক্রেতাও ছিলেন একজন নারী তার নাম দরিয়া। আবার তিনি যার কাছে এই তথ্য বিক্রি করলেন তিনিও নারী, তার নাম রাজকুমারী জৈবনেসা। আবার তিনিও এই তথ্য ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে যাকে দিয়ে বলিয়ে সম্রাটকে তাঁতালেন তিনিও একজন নারী। তিনি হলেন মহারানীদের অন্যতম যিনি ছিলেন ধর্ম বিশ্বাসে খ্রিষ্টান ও সম্রাট ঔরঙ্গজেবের কাছে যুদ্ধে পরাজিত তারই ভাইয়ের স্ত্রী। যাকে তিনি গ্রহণ করেছিলেন যুদ্ধে প্রাপ্ত সম্পদ হিসেবে।

আবার রাজকুমারীকে ধরে এনে দাসী বানানোর গোপন তথ্যটা রাজপ্রাসাদ থেকে যিনি দূত পাঠিয়ে চঞ্চলা কুমারীকে সাবধান করে দিলেন ও রাজসিংহের কাছে সাহায্য চাইতে উপদেশ দিলেন তিনিও একজন নারী। তিনি ছিলেন সম্রাটের আরও একজন মহারানী যিনি  জাতিতে রাজপুত ও ধর্মে হিন্দু।

রাজসিংহ একটি থ্রিলারধর্মী গল্প। একবার বঙ্কিমের ভাষা ভেদ করে ভিতরে প্রবেশ করতে পাড়লে তা পড়া শেষ না করে রাখা যাবে না।

অনেকদিন ধরেই জানি-  এয়ারপোর্টে যাত্রী হয়রানি করার কারণে নানাধরণের প্রতারক ধরেন আর বিচারে জেল-জরিমানা করেন ইউসুফ ভাই। এছাড়াও অনেক প্রবাসীকে নানা ধরণের সাহায্য সহযোগিতাও করেন তিনি। কিছুদিন আগে তিনি শাস্তি হিসেবে বই পড়ানোর একটা প্রজেক্ট হাতে নিয়েছেন। এর নাম ‘টুকিটাকি’।

এর মাঝেই  অভিনব এই উদ্যোগের খবর দেশি ও বিদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশ হতে শুরু করেছে। ওনার সাথে উপযাজক হয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গিয়ে এই টুকিটাকি প্রজেক্ট থেকেই আমি রাজসিংহ বইটা পেয়েছি। আমাদের সবার প্রিয় ইউসুফ ভাইকে ধন্যবাদ। সফল হোক তার ‘টুকিটাকি প্রজেক্ট’।