ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

ছবিগুলো অনেক দিন আগে তুলেছিলাম। তখন কর্মসূত্রে মালয়েশিয়ায় অনেক ঘুরতাম। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত; এখানে- সেখানে, দোকানে-মার্কেটে শুধুই ঘুরতাম। আমার কাজই ছিল মার্কেটে-মার্কেটে ঘুরে সে দেশের কৃষ্টি-কালচারের পাশাপাশি কাস্টমার বিহেভিয়ার বোঝার চেষ্টা করা। তাদের পারচেজিং পাওয়ার পরিমাপ করা। নারী-পুরুষদের মধ্যে কারা কী ধরনের পণ্য ক্রয় করেছে তা দেখা। সর্বোপরি, সেই পণ্যের সাথে আমাদের কোন পণ্যটা ম্যাচ করে তা দেখে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া। পাশাপাশি ঢাকার হেড অফিসে তাৎক্ষণিক রিপোর্ট করা। এই কাজটা করতে গিয়ে আমি মালয়েশিয়ার প্রায় সব বড় ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলো ঘুরে ফেলেছি।

কখনো একাকী, কখনো আমাদের মালয়েশিয়ার অফিসের কোনো কলিগের সাথে ঘুরতে ঘুরতে এক সময় ক্ষিধে পেত। প্রথম প্রথম মালয়ী ফুড খেতে পারতাম না। কেমন যেন এক ধরনের স্মেল আসে যা আমার বাঙালি নাকে সহ্য হয় না। এছাড়া ওরা বেশিরভাগ খাবারের সাথেই অক্টোপাস, স্কুইড, শামুক, ঝিনুক মিশিয়ে দেয়। কখনো তা দৃশ্যমান থাকে, কখনো মেশায় জুস বানিয়ে। ফলে আমার ‘ন্যাকা স্বভাব’ সেটা মেনে নিতে পারত না। তাই আমি নির্ভর করতাম কেএফসির উপর। তবে একটা সময় কেএফসি খেতেও আর ভালো লাগত না। তখন ফলের দোকান থেকে ফলমূল কিনে খেতাম।

আসুন আর ভূমিকা না করে সেই ফলের দোকানের ছবিগুলো এক এক করে দেখতে থাকি। আর ভাবি, ওদের যতই দোষ দেই না কেন, মানুষ হিসেবে ওরা আমাদের চেয়ে কয়েকগুণ ভালো। বাকিটা ছবিই বলে দিবে।

 

দোকানের বিক্রেতা মেয়েটাকে বললাম, ফলের বাটিটা একটু ভালো করে ধর, তোমাকে মডেল বানাবো। মালয়ী মেয়েটা আমার কথা না বুঝেই লাজুক হাসিতে ছবি তোলার পোজ দিল। আর আমিও ঝটপট কয়েকটা ছবি তুলে ফেললাম।

 

 

এই সেই ফলের বাটি, যাতে আমার পছন্দ মত নানা ধরনের ফলের টুকরা রাখা আছে। ওজন করে দাম বলার পর আমি ওকে বলতেই সেই মেয়েটি ফলের উপর কয়েক ধরনের সস ঢেলে দিলো। সাথে সাথেই আমার পালস রেট বেড়ে গেল। আশঙ্কা করলাম, না জানি কিসের জুস মেশাল? পরে আমার বাঙালি কলিগের কথায় বিশ্বাস রেখে খেতে যেয়ে দেখি বিকট গন্ধ। অগত্যা আর কী? খেয়ে ফেললাম। এত দামি ফল, ফেলে দেওয়া যায়?

 

ফলের দোকানের ডিসপ্লে। তবে সামনে ঝুলিয়ে রাখা আমটাকে আবার আসল বলে ভুল করবেন না। এগুলো প্লাস্টিকের আম। নিশ্চিত চাইনিজ পণ্য। তবে দেখতে ভালো।

 

নানা ধরনের ফল আর মূল কেটে-ধুয়ে পরিষ্কার করে রাখা আছে ডিসপ্লেতে। এতে যেমন আমের সাথে তালের শাঁস আছে, তেমনি আছে জলপাইয়ের সাথে ভিনেগারে ডোবানো কচি রসুনও।

 

কী, ছবি দেখে খেতে মন চায়? তাহলে এই মুল্লুকে এগুলো না খুঁজে মালয়েশিয়ায় চলে যাওয়াই উত্তম। কারণ, এই বঙ্গদেশে ভেজাল মুক্ত খাবার খাওয়ার আশা করাই বৃথা।

 

আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলছি, এদের সবগুলোই আমি খেয়েছিলাম। নামও জেনেছিলাম, কিন্তু এখন মনে নেই। বছর খানেক আগের ঘটনা তো, তাই।

 

সত্যি বলছি, ফলগুলো আপনি যদি ঐ সস না দিয়ে খান, তাহলে আপনি তা আবারও খাবেন।

 

এই ছবিটা দিয়ে পোস্টখানা শেষ করি। যদিও হাতে সময় ও ছবি দুইই আছে, তবুও। কেননা বাঙালির ধৈর্য শেষ হতে কতক্ষণ?