ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাক্ষমতাধর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটা চিঠি লিখেছিলেন তার দেশেরই একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকার কাছে। সেই চিঠিতে ঐ স্কুল শিক্ষিকা অনেকগুলো ভাষাগত ভুল খুঁজে পান। তিনি ভুলগুলো মার্ক করে পুনরায় চিঠিটা হোয়াইট হাউস তথা ট্রাম্পের কাছে ফেরত পাঠান। চিঠিটা পরবর্তীতে গণমাধ্যমে চলে আসায় আমরা সেই ভুল ও ভাষার অসঙ্গতি দেখতে পাচ্ছি।

গত ২৫ মে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমে অবস্থিত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিধন্য শান্তিনিকেতন পরিদর্শন করেন। সে সময় একটা পরিদর্শন বইয়ে তার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ‘নিজ হাতে’ কিছু কথা লেখেন। সেই ছবি গণমাধ্যমেও প্রকাশ হয়। ‘নিজ হাতে লিখেছেন’ বলছি এই কারণে যে, এখনো পর্যন্ত কেউ দাবি করেনি যে, ওটা শেখ হাসিনার হাতের লেখা না।

দেখা গেছে, ট্রাম্পের চিঠিটি বানান ভুলে ভরা, অন্যদিকে শেখ হাসিনার ভ্রমণের বর্ণনামূলক লেখাটি একদম নির্ভুল।

এই পোস্টের মাধ্যমে ট্রাম্পের সমালোচনা করা আর শেখ হাসিনার প্রশংসা করা আমার উদ্দেশ্য নয়। আমার এই পোস্টের মূল উদ্দেশ্য- আমাদের নেতিবাচক মানসিকতার নমুনা দেওয়া।

শেখ হাসিনার লেখাটি আমি আমার ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার দিয়েছিলাম। সেখানে লিখেছিলাম, “ভালো বাংলা লেখা একটা আর্ট। আর সেটা নির্ভুলভাবে লিখতে গেলে পেটে ‘বড় ধরনের বিদ্যা’ লাগে। এছাড়াও হঠাৎ করে সবার সামনে একটা পরিদর্শন বইয়ে কোন বিষয় নিয়ে লেখা খুবই কঠিন কাজ। যারা জীবনে একবারও কারো শোক বইতে কিছু লিখতে গেছেন, তারা জানেন ইহা কেমন কঠিন কাজ! এরপর আসবে লেখায় কাটাছেঁড়ার বিষয়ও।“

যেহেতু আমি সরকারি চাকুরে না, তাই সরকারের উপরের লেভেল কীভাবে কাজ হয় বা একটা চিঠি বা প্রকাশনা কীভাবে লেখা হয় তা আমার জানা নেই। পাশাপাশি আমি যেসব পত্রিকা পড়ি তাদের কেউই এ বিষয়ে কিছু লেখেনি। তাই এই চিঠিটা দেখে আমার ধারণা হয়েছিল যে, তিনি সেখানে বসে তাৎক্ষণিকভাবে লিখেছেন। পরে বন্ধু-বান্ধবের কথায় আমার ভুল ভেঙ্গেছে। আমি তাদের কথায় কনভিন্স হয়েছি এই মর্মে যে, শেখ হাসিনার লেখাটি সরকারের অনেক প্রোটোকল মেনে আর জ্ঞানী-গুণী মানুষের মেধায় লেখা হয়েছে; যার কারণে সেটা এত নির্ভুল হয়েছে।

অর্থাৎ আমি তাদের কথায় কনভিন্স, “এই চিঠি লেখায় শেখ হাসিনার কোনো কৃতিত্ব নেই। তিনি বড়জোর একটা এপ্রুভড ড্রাফট দেখে একটা নতুন ভিজিটর বইয়ে লিখেছেন এবং পরে সেটাতেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সামনে স্বাক্ষর করেছেন।”

বর্তমান বিশ্বে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট  ট্রাম্প এক মজার চরিত্র। তিনি একদিকে যেমন কাউকে পরোয়া করেন না, তেমনি তার সমালোচনা করতেও কারো তেমন বাধে না। তাই উক্ত চিঠিটা প্রকাশ হওয়ার সাথে সাথেই বিশ্বে তার মেধা ও বিদ্যা নিয়ে রীতিমত হাসাহাসি হচ্ছে। যারা তাকে নিয়ে এটা করছেন তাদের কেউই কিন্তু বলেনি যে, ট্রাম্পের লেখা কম্পিউটার কম্পোজ করা। চিঠিটাতে সে শুধু স্বাক্ষর করেছে। আর ভুলগুলোর জন্য দায়ী হোয়াইট হাউজে থাকা তার স্টাফরা।

শেখ হাসিনার নির্ভুল লেখাটির জন্য তাকে কৃতিত্ব দিচ্ছি না আমরা, দিচ্ছি তার সাথে থাকা স্টাফদের। অর্থাৎ  ভুলের জন্য ট্রাম্পকে দুষলেও নির্ভুল লেখার জন্য শেখ হাসিনার প্রশংসা করিনি আমরা। কিন্তু কেন?

নিজের  ‘জ্ঞান’ না থাকলে স্টাফরা যত ভালোই হোক না কেন দিনশেষে আপনি-আমি  বেশিদূর এগুতে পারবো না। একটা ভাল লেখার জন্য, যিনি লিখেছেন তাকে কৃতিত্ব না দিয়ে কেবল তার স্টাফদের কৃতীত্ব দেওয়াটা ঠিক নয়। অপরদিকে, যিনি ভুল চিঠিতে শুধু স্বাক্ষর করেছেন, তাকে নিয়েই হাস্যরস করবেন, অথচ তার স্টাফদের চোখে পরবে না, এটাও ঠিক নয়। আমাদের এই দ্বিচারিতা পরিহার করা জরুরি।