ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

“শিশুর জন্য ভালোবাসা কর কি তোমরা অনুভব?
চাই বাধা-বন্ধনমুক্ত আনন্দময় শৈশব।
আমরা ভালোবাসা দিয়ে পৃথিবী সাজাব সকল শিশুর জন্য।
একটি শিশুরও জীবন হতে দেব না বিপন্ন।”

এগুলো একটি গানের লাইন। বাংলাদেশ সরকারের শিশু সচেতনাতমূলক প্রচারণার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভিতে) গানটি পরিবেশিত হত। এখনও প্রচার করা হয় কি না, জানি না।

ভালোবাসা দিয়ে শিশুর জন্য পৃথিবী সাজাতে গিয়ে আমাদের কী করা উচিত, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞ পরামর্শের শেষ নেই। বর্তমান সময়ে এসে বাচ্চাকে কীভাবে মানুষ করা হবে, সেটা নিয়েও নিরন্তর গবেষণা হচ্ছে। গবেষণা শেষে কোনো গবেষক বলছেন, রাতে বাচ্চা জেগে উঠে কাঁদলে চট করে বাবা-মার ছুটে যাওয়া উচিত নয়। বরং বাচ্চাকে একা একাই আবার ঘুমিয়ে পড়তে দেওয়া উচিত। এতে বাচ্চা ঘুমানোর ব্যাপারে আÍনির্ভরশীল হয়ে ওঠে। পাশাপাশি শিশুকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে শুইয়ে দেওয়ার পরামর্শও তাতে দেওয়া হয়েছে। এই গবেষণার ভিত্তি অবশ্যই পশ্চিমা সমাজের শিশু লালন-পালন পদ্ধতি। সূত্র: Don’t get up if your baby cries at night- Daily Mail Online।

বইতে বলা হয়েছে, শিশুদের লালন-পালন করার জন্য ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত। কারণ এতে বাচ্চার মাঝে আÍবিশ্বাস, কৌতূহল, আÍনিয়ন্ত্রণসহ নানা ইতিবাচক গুণের বিকাশ ঘটে। শিশু লালন-পালনে ঐতিহ্যবাহী প্রথার উদাহরণ হিসেবে শিশুর কান্না থামানোর জন্য দ্রুত তাকে আদর করা, বাবা-মার সঙ্গে শিশুর ঘুমানো, যত বেশি সময় সম্ভব শিশুকে নিজেদের সান্নিধ্যে রাখা, কোলে নেওয়া প্রভৃতি পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে। আফ্রিকার বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ওপর ৫০ বছরের পর্যবেণ শেষে এ সিদ্ধান্তে এসেছেন গবেষকরা। সূত্র: Parents `should carry babies upright’- Telegraph। এসব জনপদের মাঝে এখনও আমাদের তথাকথিত সভ্যতার তীর ঢুকে পড়েনি। তাই তারা আজও শিশুদের বুকের মাঝে আগলে রাখে। সভ্য সমাজের মানুষের মত তাদের বাচ্চাদের জন্য ডে কেয়ার সেন্টার কিংবা বাড়িতে চাকাওয়ালা ঠেলাগাড়ির প্রয়োজন হয় না।

সারা বিশ্বে গণ্ডায় গণ্ডায় বিশ্ববিদ্যালয় আছে। আর তাতে আছেন বহু গবেষক। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় অথবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে এসব গবেষক প্রকাশ করছেন নানান গবেষণা প্রতিবেদন। সেগুলো ছাপা হচ্ছে পৃথিবীর খ্যাতনামা দৈনিক পত্রিকা অথবা সাময়িকীগুলোতে। প্রযুক্তির কল্যাণে সেগুলো অনলাইনের মধ্য দিয়ে মুহূর্তে পৌঁছে যাচ্ছে পৃথিবীর কোটি কোটি পাঠকের দোরগোড়ায়। পাঠকরা সেসব গবেষণা প্রতিবেদন পড়ে কতটা প্রভাবিত হচ্ছেন, সেটা জানার আর কোনো উপায় থাকে না। যারা গবেষণাগুলো করেন, আর যারা এগুলো সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করেন, তারা এসব গবেষণা প্রতিবেদনের ইতিবাচক-নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে কতটা ভাবেন? কিংবা আদৌ ভাবেন কি?
এখন আপনি বলুন তো, আসলে আমাদের কী করা উচিত? গবেষণা আর মতামতের চোটে আপনি জেরবার হবেন না কী সিদ্ধান্তটা আপনি নিজেই নেবেন?