ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির রায় হওয়ার দিনটি নির্দ্বিধায় স্মরণীয়। ২১ জানুয়ারি, ২০১৩ আমাদের জন্য অবশ্যই স্মরণীয় একটি দিন। আশা করছি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যারা বিশ্বাসী, তারা কখনোই এই ঐতিহাসিক রায়ের দিনটিকে ভুলে যাবেন না।

তবে কয়েকটি প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।

এক, আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির রায় কার্যকর করার সংবাদটি দেশবাসী কবে পাবে?

দুই, এই মুহূর্তে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে যাদের বিচার কাজ চলছে, তাদের ব্যাপারে কবে রায় দেবেন আদালত?

তিন, বিচারাধীন যেসব ব্যক্তি এই মুহূর্তে কারাগারে আছেন, তাদের যদি ফাঁসির আদেশ হয়, তবে সেই রায়গুলো অতি দ্রুত কার্যকর করা সম্ভব। কিন্তু যেকোন কারণেই হোক, তাদের বিরুদ্ধে এখনও রায় ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। অথচ যাকে এখনও গ্রেপ্তার করাই সম্ভব হয়নি, তার বিরুদ্ধে রায় ঘোষিত হয়ে গেছে। গ্রেপ্তার তো দূরের ব্যাপার; বাচ্চু রাজাকারের অবস্থান সম্পর্কেই এখনো ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর সদস্যরা। অন্তত, সংবাদ মাধ্যমগুলোর সূত্রে আমরা সেটাই জানি। সুতরাং তার বিরুদ্ধে দেওয়া আদালতের রায় কার্যকর করাটা বিলম্বিত হবে। আমরা কি ধরে নেব, কোনো একটি কৌশলগত কারণেই বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির আদেশটি সবচেয়ে আগে ঘোষণা করা হয়েছে? বলাই বাহুল্য, বাচ্চু রাজাকারকে গ্রেপ্তার করা না গেলে রায়টিরও বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এই রায় কার্যকর করতে গিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে- বর্তমান সরকার কি সেই ভয়ে ভীত?

আমরা বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার সংবাদ শুনতে চাই। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় হওয়ার এই শুভ মুহূর্তটিকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাই। তাই বাকিদের বিরুদ্ধেও দ্রুত রায় ঘোষণা করা হোক, আমরা সেটি চাই।