ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

 
Chandraboti

মধ্যযুগের উজ্জ্বল কবি ও পালাকার চন্দ্রাবতী। এ দেশে আঞ্চলিক ভাষায় ব্যতিক্রমী রামায়ণপালার রচয়িতা তিনিই। জন্মেছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের খরস্রোতা ফুলেশ্বরী নদীর তীরবর্তী পাতুয়ারি গ্রামে। তৎকালীন সময়ে এ দেশে যেসব নারী কবিতা লেখার মতো ‘সাহস’ প্রদর্শন করেছিলেন, ইতিহাস বলে, চন্দ্রাবতী তাঁদের মধ্যে প্রথম। মতান্তরে এজন্যই তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি বলা হয়ে থাকে।

ইতিহাস পর্যালোচনা থেকে ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত লেখা জানা যায়, আশৈশব খেলার সাথি ও প্রেমিক জয়ানন্দের সঙ্গে চন্দ্রাবতীর যখন বিয়ের কথা চূড়ান্ত, তখন আচমকা চরম প্রতারণার শিকার হন তিঁনি। তাঁর প্রেমিক জয়ানন্দ ঘটনাচক্রে অন্য নারীকে বিয়ে করেন। জীবনের এই প্রেম আর অপ্রত্যাশিত প্রতারণার ভার বহন করে চন্দ্রাবতী আজীবন অবিবাহিত থেকে লেখালেখিতে আত্মনিয়োগ করেন। চন্দ্রাবতী’র অনুরোধে পিতা দ্বিজ বংশীদাশ চন্দ্রাবতীর জন্য একটি শিবমন্দির নির্মাণ করে দেন। সেখানে শিবপূজা আর কাব্যসাধনাতেই জীবন কাটান কবি চন্দ্রাবতী।

সাহিত্য মানব মনের আলোর সন্ধান দেয়। বিকশিত করে মানব মনের অন্তর্নিহিত অনুধাবন ও প্রকাশের শক্তিকে। ‘চন্দ্রাবতী’র এ সৃষ্টি শুধু তাঁর জীবনে প্রেম বিরহের প্রভাব আর নিভৃত চিন্তার প্রতিফলনই নয়! এ সৃষ্টি বাংলা সাহিত্য সম্ভারে এক অনবদ্য সৃষ্টি। তাঁর এ অমর সৃষ্টিগুলো বহুকাল ধরে বৃহত্তর ময়মনসিংহসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন লোকালয়ে লোক সংস্কৃতির অমূল্য অনুষঙ্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, পাশাপাশি বাংলা সাহিত্যকেও সমৃদ্ধ করছে।

সবচেয়ে আত্মতৃপ্তির বিষয় হলো, আমি এ জেলারই সন্তান! চন্দ্রাবতী গবেষক ও চন্দ্রাবতী’র সাহিত্য সৃষ্টির পিপাসু মানুষদের সাথে সহমত পোষণ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ, মধ্যযুগের এই ব্যতিক্রমী কবি চন্দ্রাবতী’র সৃষ্টি, বসতবাড়ী ও শিব মন্দির ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হোক।

 

সুমিত বণিক, উন্নয়নকর্মী

কিশোরগঞ্জ।

sumitbanikktd.guc@gmail.com