ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বিদ্যুৎতের তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে অসহনীয় যন্ত্রনা ভোগ করলেও রহস্যজনক কারণে এর পরিত্রাণ মিলছে না। কেন মিলছে না, এর সদুত্তর হয়তো পল্লী বিদ্যুৎতের সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরাই ভালো বলেতে পারবেন। এটা কি নাগরিক সেবা প্রতিষ্ঠান, নাকি যন্ত্রণাদায়ক প্রতিষ্ঠান, সেটাই এখন মানুষের কাছে প্রশ্ন হয়ে দাড়িয়েছে! একদিকে দিনের বেলায় অসহ্য গরম, অন্যদিকে সারাদিনের কর্মব্যস্ততার পর ঘরে ফিরে বিদ্যুৎতের লোডসেডিংয়ে জন-জীবন বিপর্যস্থ হচ্ছে, শুধু তাই নয় সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে চলে মধ্য রাত পর্যন্ত বিদ্যুৎতের অসহ্য ভেলকিবাজি। কোথাও যেন স্বস্তি মিলছে না।
light_2527468f
যাদের সামর্থ্য আছে, তাদের অনেকেই এই যন্ত্রণা থেকে স্বস্তি পেতে জেনারেটর সার্ভিস বা আইপিএস ব্যবহার করছেন, কিন্তু সাধারণ মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে যাচ্ছে। দেশের অনেক জায়গায় পল্লী বিদ্যুৎতের এই অসহ্য যন্ত্রণাদায়ক সেবার কারণে জনরোষের সৃষ্টি হচ্ছে, ফলে সেই সব স্থানে হামলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে, স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। কিন্তু এভাবে আর কতদিন? একটি প্রশ্নের উত্তর মেলে না, সেটি হলো- সারা দিনের বেশির ভাগ সময়, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে সারা রাতও বিদ্যুৎ থাকে না, তারপরও মাস শেষে বিদ্যুৎ বিলে এর বিন্দুমাত্র প্রভাব নেই। এমনকি ভুয়া বিলের যন্ত্রণাও পোহাতে হয় অনেককে। সাধারণ মানুষের ধারণা, এর সাথে যুক্ত আছে পল্লী বিদ্যুৎতের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী। যারা তাদের অবৈধ কর্মকান্ডের মাধ্যমে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসকে একটি দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করে তুলেছেন, আর তাদের দুর্নীতি ও অপকর্মের খেশারত দিতে দিচ্ছে সাধারণ মানুষকে। প্রতিনিয়ত নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে অধিকাংশ সাধারণ মানুষ। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধা পর্যন্ত বিদ্যুৎতের এই যন্ত্রণার কারণে সুস্থ্য মানুষও অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে। শুধু তাই নয়, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে বিকল হচ্ছে নিত্য ব্যবহার্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি। স্থানীয় প্রশাসন কি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে কোন কার্যকর ব্যবস্থা নিবেন, নাকি শুধু জনরোষের ফলে সৃষ্ট অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তৎপরই থাকবেন?

সুমিত বণিক, উন্নয়নকর্মী
কটিয়াদী, কিশোরগঞ্জ।