ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, রাজনীতি

সবাই স্বপ্ন বুনতে জানে না,আবার অনেকেই সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে দৃঢ়তার বহিঃপ্রকাশও দেখাতে জানেন না। সেটা কিছুটা প্রতিকূল বা পারিপার্শ্বিক কারণেই। আজো আমরা অনেকেই আত্মকেন্দ্রিকতার সাগরে ডুবে আছি। সামগ্রিক কল্যাণ বা দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ভাবনাও অনেকের মাঝে উপেক্ষিত।কিন্তু কিছু মানুষ আছেন যারা শুধুমাত্র আপন সমৃদ্ধিকে ঘিরে তৃপ্ত নন, তারা সামগ্রিক উন্নতি বা সমৃদ্ধিতে তৃপ্তি খুঁজে বেড়ান প্রতিনিয়ত। আমাদের বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তেমনি একজন প্রাজ্ঞজন। যিনি প্রকৃত অর্থেই তাঁর পিতা স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রেখে যাওয়া দেশপ্রেমের অমীয় আদর্শকে লালন করে নিত্য পথ চলেন। বাংলাদেশে অনেক রাষ্ট্রপ্রধানের বিশাল কর্মযজ্ঞ দেখার সুযোগ হয়েছে, কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র মতো মমতাময়ী,সাহিত্য প্রেমী, সংস্কৃতমনা, অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিচক্ষণ রাষ্ট্রপ্রধান খুব কমই দেখেছি।

sheikhhasina_0001
তাঁর বর্ণাঢ্য এই জীবনে কি তিনি উপভোগ বা প্রত্যক্ষ করেননি? কারা ভোগ থেকে শুরু করে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট নিক্ষেপ করা শক্তিশালী গ্রেনেড বোমা! শুধুমাত্র বিধাতার করুণা আর মানুষের ভালবাসায় তিনি মৃত্যুর দোয়ার থেকে ফিরে এসেছেন। আর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্টের কালরাতে হারিয়েছেন জীবনের প্রিয়তম মানুষগুলোকে। মানুষের এক জীবনে এর চেয়ে হারানোর আর কিইবা আছে? যিনি সব হারিয়েও এদেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তিনি অবশ্যই একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক। যিনি শোক কে শক্তিতে পরিণত করেই প্রতিনিয়ত পথ চলেন। একাধারে তিনি শুধু সফল রাষ্ট্র নায়কই নন,তিনি দূরদর্শীতায় অতুলনীয়, পাথরের মত কঠিন, আকাশের মত বিশাল, হিমালয়ের মত অবিচল, সাগরের মত কখনও শান্ত কখনও রুদ্র, মমতায় চির নন্দিত। বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে একটি উল্লেখযোগ্য রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য।

জাতির যে কোন ক্রান্তিলগ্নেই তিনি মমতাময়ী হিসেবে আবির্ভূত হন। নারী জাগরণে এ ভূখণ্ডে কাজ করে গেছেন অনেক মহীয়সী নারী। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নারীর ক্ষমতায়নে ইতিহাস সৃষ্টি করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের নারী সমাজের বঞ্চনা,নির্যাতন,নিগ্রহ আর পিছিয়ে পড়ার ইতিহাসকে বদলে দিয়ে সম্ভাবনার নতুন ইতিহাস গড়ায় সম্প্রতি জাতিসংঘও তাঁর হাতে তুলে দিয়েছে নারী ক্ষমতায়নের স্বীকৃতি। অসামান্য অবদানের জন্য পেয়েছেন ‘প্ল্যানেট ফিফটি চ্যাম্পিয়ন’ ও ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ’ পুরস্কার। এটি তাঁর জন্য নতুন নয়, ইতিপূর্বে ২০১১ সালে শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নিউইয়র্ক টাইমস সাময়িকীর জরিপেও তিনি বিশ্বের সেরা প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর নারী নেতৃত্বের মধ্যে সেরা ১২ জনের মধ্যে ৭ম স্থানে ছিলেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমার লেখা হয়তো আপনার হাত পর্যন্ত পৌঁছাবে না, তবুও বলছি,আজো আপনি অনন্যা, আপনারই অনন্য গুণের কারণে। আজো সাধারণ মানুষ হতাশায়, বিপর্যয়ে আপনার হাতের পানে চেয়ে থাকে। আজো বঙ্গবন্ধু কন্যার মমতার স্পর্শ খুঁজে বেড়ায় সাধারণ মানুষ। হয়তো অনেক সময় সুবিধাবাদীদের ভীর ঠেলে সেই আকুন্ঠ আর্তনাদ আপনার কানে পৌছায় না বা পৌছালেও সেটি অনেকাংশে বিকৃতভাবে। আজো আপনি অসহায় মানুষের পরিত্রাণের শেষ ভরসাস্থল!

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার সেই সাতন্ত্র নিপুণ বৈশিষ্ট্যের জন্যই আপনি আজো কোটি বাঙ্গালির হৃদয়ের মধ্যমণি। অকুন্ঠ ভালবাসা আর দেশের জন্য অসামান্য স্বীকৃতি অর্জনের জন্য শ্রদ্ধার্ঘ্য রইল আপনার প্রতি-

সুমিত বণিক,
উন্নয়নকর্মী,ঢাকা।
sumitbanikktd.guc@gmail.com