ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

কটিয়াদীতে প্রকাশ্যেই চলে মাদক ব্যবসা! হাত বাড়ালেই বাহারি ব্র্যান্ডের পছন্দসই মাদক! হঠাৎ করে কটিয়াদীতে যখন একজন মাদকাসক্ত সন্তান মাদকের অর্থ জোগাতে তাঁরই নিজ পিতাকে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে হত্যা করলো, তখন যেন সবাই হতবাক! যেখানে একজন সাধারণ মানুষ পর্যন্ত জানেন কারা এই মাদক ব্যবসার মূল হোতা! তাই আশাকরি সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরাও এ বিষয়টি ভাল করেই জানেন। তাই মাদক ব্যবসার মূল হোতাদের ধরতে হবে, রুদ্ধ করতে হবে এসব নষ্ট মানুষদের আধিপত্য।
লোক মুখে শোনা যায়, এই ঘৃণ্য অপকর্মের সাথে জড়িতদের সাথে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের সুসম্পর্কের কারণে, অনেকেই ভয়ে এদের বিরুদ্ধে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর সাহসটুকু পর্যন্ত পান না। রাষ্ট্রযন্ত্রের স্থানীয় কর্তাব্যক্তিরাও নাকি তাদের কর্মস্থল ‘বান্দরবন’ বদলীর ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কঠোর ব্যবস্থা নিতে তটস্থ থাকেন! তাহলে কি গুটি কয়েক মাদক ব্যবসায়ীর কাছে জিম্মি হয়ে থাকবে, মাদকমুক্ত কটিয়াদী গড়ার সুন্দর স্বপ্ন?
file-4
কটিয়াদী ও এর আশপাশে নেশাদ্রব্যের ব্যবহার বৃদ্ধি এ মুহূর্তে রোধ করতে না পারলে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংস হবে, তাতে সন্দেহ নেই। মাদকাসক্তরা সংখ্যায় অল্প হলেও সমাজে এর সুদূরপ্রসারী পড়ছে, এর ফলে নষ্ট হচ্ছে সামাজিক বন্ধন ও ধ্বংস হচ্ছে পারিবারিক শান্তি। মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে তরুণ-যুবকের সংখ্যাই বেশি। অন্যদিকে তরুণ-যুবকেরাই হলো একটি দেশ ও সমাজের সবচেয়ে কর্মক্ষম এবং প্রতিশ্রুতিশীল অংশ। কাজেই তারা যদি মাদকের মরণ নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে, তাহলে ভবিষ্যতে অনাগত দিনগুলোয় তারা নিজেরাই বা কতটুকু যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে! এ ব্যাপারে সমাজের প্রগতিশীল ও সচেতন মানুষেরা উদ্বিগ্ন। এ অবস্থায় কটিয়াদীকে মাদকমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণ খুব জরুরী পাশপাশি সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাদকের বিরুদ্ধে এখনই সোচ্চার না হলে, এর বিষবাষ্প আরো ছড়িয়ে পড়বে।

সুমিত বণিক, উন্নয়নকর্মী
কটিয়াদী, কিশোরগঞ্জ।
sumitbanikktd.guc@gmail.com