এ জগতে যখন আমরা আত্মকেন্দ্রিক মানসিকতার জালে আবদ্ধ হয়ে পড়ছি, যখন অবিশ্বাসের বেড়া জালে পড়ে অসহায়ত্ব ভোগ করছি, তখন কিছু মানুষ আপন মনে বিশ্বাসের জাল বুনে চলছেন। এক সময় ভাবতাম উদারতা দেখাতে চাইলে হয়তো বিত্ত-বৈভব থাকতে হয়, কিন্তু এখনো কিছু মানুষ আছে যারা সীমাবদ্ধতার মাঝেও পরিচয় দেয় উদার মানসিকতার। এতক্ষণ যাকে উপলক্ষ্ করে কথাগুলো বলছিলাম, তিনি হলেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ভিন্ন রকম দোকানের উদ্যোক্তা মোঃ হামিদুর রহমান (শিপন), এখন অনেকের কাছেই তিনি ভিন্ন শিপন নামেই পরিচিত। পৃথিবীজুড়েই যখন নিরাপত্তাহীনতার এক কালো থাবা, আর সেই সময়েই কুমারখালীর ভিন্ন শিপন খুলেছেন ভিন্নরকম দোকান। যে দোকানে দোকানদার ছাড়াই চলে পণ্য বিক্রি। পণ্যের গায়ে লেখা মূল্য দেখে ক্রেতা তার পছন্দের পণ্যটির দাম রক্ষিত বক্সের ভিতরে রেখে যান। শিপন ভাইয়ের দোকানে রাখা পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন রকমের তোয়ালে, রুমাল, গামছা, চাদর।
শিপন ভাইয়ের এই গল্পের কথা প্রথম শুনি পিউর ফ্রুটিকা এর ফেসবুক পেইজ এ প্রচারিত মানুষের প্রতি অবিশ্বাস নিয়ে একটি বিজ্ঞাপন চিত্রে ঠাঁই পায় ভিন্ন শিপন ভাই এর বিরল চিন্তার উদ্যোগের কথা।
এবার যখন জীবিকার তাগিদে কুমারখালী আসলাম, হঠাৎ একদিন কুমারখালী রেলওয়ে ষ্টেশনে ঘুরতে গিয়ে দেখা মিলল ভিন্ন রকম দোকানের সাইনবোর্ড, কিন্তু তখনও গুরুত্ব দেইনি, বুঝতে পারিনি এটাই সেই বিজ্ঞাপন চিত্রে দেখানো ভিন্ন রকম দোকান। মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত করে রাখা ভিডিওটি চালিয়ে দেখি এটিই সেই দোকান! তারপর দোকানের আশেপাশে খোঁজ নিয়ে দেখা মিলল উদ্যোক্তা ভিন্ন শিপন ভাইয়ের। তার এই অনন্য উদ্যোগ নিয়ে কথা বললাম। অসম্ভব সাদামাটা মনের মানুষ ভিন্ন শিপন। কথা ও ভাবনার মধ্যে মানুষের কল্যাণে নিজেকে সম্পৃক্ত করার এক আপ্রাণ প্রচেষ্টা তাঁর! তার নিজ অর্থ ব্যয়ে বিনামূল্যে ক্ষুদ্র প্রচেষ্টার মধ্যে রয়েছে রেলওয়ে ষ্টেশনের পিপাসার্ত মানুষের জন্য ফিল্টার পানির ব্যবস্থা, স্থানীয় কেউ মারা গেলে মৃত্যু সংবাদ প্রচারের ব্যবস্থা করা।
শিপন ভাইয়ের মতো বাংলার ঘরে ঘরে হাজারো শিপন গড়ে উঠুক মানুষের কল্যাণের জন্য, উচ্চারিত হোক মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য ।
সুমিত বণিক
ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক
কুমারখালী, কুষ্টিয়া থেকে ।

এম নাসির বলেছেনঃ
বণিক দাদা সালাম নিবেন! কেমন আছেন আপনি?
বণিক দাদা সত্যি আমি আপনার লেখাটা পড়ে অবিশ্বাস্যর মত লাগছে ! এখনো বাংলাদেশে এমন নজির সৃস্টি করার যুবক রয়েছে ভাবাই যায়না। সত্যি অসাধারণ উদ্যোগ। দোয়া করি তাঁর জীবনে বয়ে আসুক অনাবিল সুখশান্তি
ভালো থাকবেন দাদা
সুমিত বণিক বলেছেনঃ
এম নাসির ভাই, আমি নিজেও প্রথমে বিশ্বাস করতে পারিনি। দেখে পরে বিশ্বাস করিছি। তবে তার ভাবনার জগৎটা অনেক নির্মল ও লালসামুক্ত। মানুষের প্রতি রয়েছে তার অঘাধ বিশ্বাস ও ভালবাসা। দেখে শুনে মনে হয়, বিধাতা যদি এই মানসিকতাটা যদি সকল বিত্তবান মানুষদের দিত, তাহলে দেশটা আরো এগিয়ে যেত। আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। ?
সাজ্জাদ রাহমান বলেছেনঃ
প্রিয় ব্লগ লেখক বন্ধুরা…
১৪ জুলাই/১৭ ব্রগ.বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কম এর কয়েকজন ব্লগ লেখক বন্ধু মিলে যাচ্ছি ময়মনসিংহ। উদ্দেশ্য- বরষায় প্রকৃতিকে খুব কাছে থেকে দেখা এবং ফিরে এসে চমৎকার সেই ভ্রমণ অভিজ্ঞতাটা লেখা।। আপনি যদি আমাদের সাথে যেতে আগ্রহি হন তাহলে পোস্ট ‘এসো মিলি বরষার আবাহনে’ পড়ুন ও অনুসরন করুন, তাহলেই হলো।ধন্যবাদ। লিংক: http://blog.bdnews24.com/sazzadrahman/220540