ক্যাটেগরিঃ শিল্প-সংস্কৃতি

কটিয়াদী তথা কিশোরগঞ্জ জেলা বহু আগে থেকেই শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার এক সমৃদ্ধ জনপদ হিসেবে পরিচিত। এ জেলার শিল্পীদের পদচারণা শুধু এ জেলাকেই সমৃদ্ধ করেনি, পুরো বাংলাদেশের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেগুলো কিছুটা ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। বর্তমানে কিছু সঙ্গীত পিপাসু ও প্রেমী মানুষের উদ্যোগে কিছু সাংগঠনিক কার্যক্রম চলমান আছে, সম্প্রতি নজরুল একাডেমী, কটিয়াদী শাখার উদ্যোগে আয়োজন করা হয় বাংলাদেশ-ভারত নজরুল সম্মেলন-২০১৮।


কটিয়াদীতে ইতোপূর্বে অনেক বরেণ্য শিল্পীদের পদচারণা ঘটেছে, তবে নজরুল একাডেমি কটিয়াদী শাখা শুদ্ধ সংস্কৃতির বিকাশে এবং নজরুল সঙ্গীতের প্রসারে যে অভিনব আয়োজন করেছেন, নিঃসন্দেহে এটি কটিয়াদীর সামগ্রিক সংস্কৃতি বিকাশে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করলো। যা কটিয়াদীবাসীকে নজরুল সঙ্গীতের প্রকৃত মাধুর্য, রস আস্বাদনে ও উপভোগে এক সুবর্ণ সুযোগ করে দিয়েছে। দুই বাংলার শিল্পীদের অংশগ্রহণে একই মঞ্চে নজরুল সম্মেলন উদযাপনের মাধ্যমে কটিয়াদী শাখার নজরুল একাডেমী নতুন প্রজন্মমের কাছে এমন নব দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো, যার মাধ্যমে ভবিষ্যত প্রজন্ম এ ধরণের অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে অনুপ্রাণিত হবে।


অতি সম্প্রতি কটিয়াদী সরকারি কলেজ চত্তরে দুই বাংলার বেসরকারি নজরুল শিক্ষা ও সাংস্কুতিক সফর উপলক্ষ্যে কিংবদন্তী নজরুল সঙ্গীত শিল্পী সোহরাব হোসেন স্মরণে ১০ দিনব্যাপী বাংলাদেশ-ভারত নজরুল সম্মেলন-২০১৮ এর ৩য় দিনে কটিয়াদীতে নজরুল একাডেমী’র উদ্যোগে নজরুল সংগীত সম্মেলনে বাংলাদেশ-ভারতের গুণী শিল্পীদের পরিবেশনার এই আসরটি বসেছিল।


নজরুল একাডেমী কটিয়াদী শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহ জাহান এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, ‘নজরুল অসাম্প্রদায়িক আদর্শের এক মূর্ত প্রতীক। শুধু তাই নয় বিংশ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সঙ্গীতজ্ঞ ও দার্শনিক ছিলেন তিনি। যিনি বাংলা কাব্যে অগ্রগামী ভূমিকা রাখার পাশাপাশি প্রগতিশীল প্রণোদনার জন্য সর্বাধিক পরিচিত। তিনি বাংলা সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখযোগ্য। সেই মানুষটির সুর ও বাণীকেই ছড়িয়ে দেয়ার প্রয়াসেই এ অনন্য উদ্যোগ। আর এ আয়োজনে কটিয়াদীর স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, নজরুল একাডেমীর সকল সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই এ ধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা সম্ভব হয়েছে।’


কিংবদন্তি নজরুলসংগীত শিল্পী সোহরাব হোসেন স্মরণে শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে সিরাজগঞ্জ শহরের শহীদ এম মনসুর আলী অডিটোরিয়ামে ১০ দিনব্যাপী বাংলাদেশ-ভারত নজরুল সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়। সেখানেই ‘অগ্নিবীণা কোলকাতা’র শিল্পীরা নজরুলের মোহনীয় সুর আর কথামালায় গাঁথা সংগীতের মূর্ছনায় মাতিয়ে তোলেন। অনুষ্ঠানে ‘একি অপরূপ রূপে মা তোমায় হেরিনু পল্লী জননী’, ‘সৃজন ছন্দে আনন্দে নাচো নটরাজও হে’, ‘আমার আপনার চেয়ে আপন যেজন খুঁজি তারে আমি আপনায়’, ‘তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে’— এমন অসংখ্য মন ভোলানো গানের মধ্য দিয়ে প্রিয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে স্মরণ করলেন ওপার বাংলার প্রখ্যাত শিল্পীরা।

 

সংগীতানুষ্ঠানে ভারতের প্রখ্যাত নজরুলসংগীত শিল্পী অনুসূয়া মুখপাধ্যায়, সুসীমা দাস, সুকন্যা কর্মকার, ডা. শ্রেয়া দত্ত রায়, দেবশ্রী মুখার্জী, রুমানা মাইতি, শবরী কর, পৌষালী রায়, দীপা দাস, সুমনা লায়েক, রাজশ্রী ভট্টাচার্য্য, শুভেন্দু দাস, সুজিত লায়েক, নরেন্দ্রনাথ সরকার, সংকর কুমার মন্ডল প্রমুখসহ স্থানীয় শিল্পীবৃন্দও সঙ্গীত পরিবেশন করেন।

সুমিত বণিক

ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ও উন্নয়নকর্মী, ঢাকা ।