ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

জনশ্রুতি রয়েছে, ‘পুরীর জগন্নাথ, বঙ্গের গোপীনাথ’। কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার এ সমৃদ্ধ জনপদের মতোই প্রাচীন ভোগবেতালস্থ শ্রী শ্রী গোপীনাথ জিউর মন্দির। প্রায় পাঁচশ বছরেরও বেশি পুরনো এ মন্দিরটি কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

রাজা নবরঙ্গ রায় প্রতিষ্ঠিত এ মন্দির প্রাঙ্গণ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে শুধু তীর্থস্থান হিসেবে বিবেচিত তা নয় বরং উপজেলার প্রাচীন পুরাকীর্তি ও দর্শনীয় স্থান হিসেবেও সমাদৃত।

গত ৪ জুলাই রথযাত্রার উদ্বোধনী পর্বে অংশ নেন কিশোরগঞ্জ -০২ (কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়া) আসনের মাননীয় সাংসদ, সাবেক আইজিপি ও সচিব নূর মোহাম্মদ এমপি ।

 

 

 

 

 

গত ১২ জুলাই দেশব্যাপী ছিল শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের উল্টো রথযাত্রা।  শ্রী শ্রী গোপীনাথ বাড়ির রথযাত্রাও এ অঞ্চলের জন্য এক প্রাচীন ঐতিহ্যের নাম। ধর্মীয় উপাচারের পাশাপাশি রথযাত্রা উপলক্ষে বসা মেলা আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার কাছে যেন অনাবিল আনন্দের এক উৎস। ঐদিন সকাল থেকেই ছিল মুষলধারে বৃষ্টি | কিন্তু সব বাধা উপেক্ষা করেই যেন জমে উঠেছিল এবারের উল্টো রথযাত্রা উৎসব।

 

 

 

 

এককালে রথযাত্রা ১৫ দিনের মেলা বসতো।  ভাটি এলাকা ও হাওর অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জলপথে  আসতো নৌকা ও বজরার বহর।  সে সময় ১০৫ ফুট উচ্চতাসম্পন্ন ৩২ চাকার রথ স্থানীয় জমিদারের পোষা হাতি দিয়ে গোপীনাথ মন্দির থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ বিশাল সড়কপথে  টেনে নিয়ে যাওয়া হতো গুন্ডিচা বাড়িতে (শ্বশুর বাড়ি)।

আবারে আট দিন পর ফিরে আসত নিজ বাড়িতে। রথ ছিল তিনটি; একটি পিতলের, অন্য দুইটি কাঠের তৈরি।

 

 

কটিয়াদী উপজেলার অধিকাংশ সনাতন ধর্মাবলম্বী যে কোনো মাঙ্গলিক ক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য প্রথমেই এই মন্দিরকেই বেছে নেন। এছাড়াও পরিজন নিয়ে অনেকেই এক নজর দেখতে আসেন প্রাচীন এই মন্দিরটিকে।

কটিয়াদী ও আশপাশের এলাকার ছোট-বড় অনেকের শৈশবের পুরোনো স্মৃতিতে এ রথযাত্রা এখনো অনেক উজ্জ্বল।  রথযাত্রার সময় বসা মেলা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণে হয়ে উঠে এক মিলনমেলা।

ট্যাগঃ:

মন্তব্য ০ পঠিত