ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

শিরোনাম পড়ে কি একটু হকচকিয়ে উঠলেন নাকি? এর আগেও আমি লিখেছিলাম এই রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে সেসময় আমি আসলে একটু দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম এই নিয়ে যে কোনটা করব? সে সকল অসহায়দের কি আশ্রয় দেওয়া উচিত হবে নাকি হবে না?

বেশ কয়দিন ধরেই এটি নিয়ে অনেক কিছুই পড়েই চলেছি ইন্টারনেটের সুবিধা সুযোগ যাই পেয়েছি সবই দিয়ে এবিষয়ে জানার চেষ্টা করেছি অবশেষে একটি ফলাফলেও উন্নীত হতে পেরেছি।
সেদিক দিয়েই এবার এগুনো যাক।

বৈদেশিক চাপঃ- ইউএনএইচআরসি, ইউএসএইচআরসি এসকল মানবতাবাদী গোষ্ঠী সমূহ একপ্রকার উঠে পড়েই লেগেছে বাংলাদেশের উপর যেন রোহিঙ্গাদের এই দেশে আশ্রয় দেয়া হয়।কিন্তু এই সকল অতি জ্ঞানী,দয়ালু ব্যক্তিরা যে মায়ানমারেই সমস্যা সেখানে সমাধানের চেষ্টা না করে বাংলাদেশের উপর কেন এভাবে ঝাপাইয়া পড়ল?
অনেক আগে থেকেই নাকি এসব চাপ বাংলাদেশের উপর আছে এই রোহিঙ্গাদের জন্য যার অর্ধেকও নাই মায়ানমারের উপর,প্রশ্ন করি কেন?যার ঘরে সমস্যা তারে চাপ না দিয়ে প্রতিবেশীরে চাপ দেওয়ার মানে কি?ওরা কি তাহলে ঝিকে মেরে বউকে শিখানোর চেষ্টায় আছে?যেখানে মায়ানমার নিজেই রোহিঙ্গাদের নাগরিক বলে মানতে চায় না সেখানে আমরা কেনই বা তাদের দায়ভার নিবো?

মায়ানমারে এসকল দাঙ্গা নিরসনে তাদের কোন তেমন মাথা ব্যাথা দেখা যায়না যত মাথাব্যাথা তাদের সব এই বাংলাদেশে ঢুকে পড়া এদের নিয়ে।এসকল দাতা গোষ্ঠীরা এভাবে আচমকা জেগে উঠা নিয়েও বেশ শঙ্কা থাকে।মায়ানমারে এসকল দাঙ্গা কয়েকদিন বা কয়েক মাসের না কয়েক দশক ধরে চলে আসছে।তাহলে তারা যদি এতই এসকল ব্যাপার নিয়ে,মানবাধিকার নিয়ে চিন্তিত থাকত তাহলে কেন আগে করেনি এসবের সমাধান? এখন কেন সীমান্ত খুলে দিয়ে তাদের অবস্থানের সুযোগ করে দিতে বলছে? কেনই বা বলছে এসব তারা সমাধান করবে?এতোই যদি ইচ্ছে সমাধানের তবে গত কয়েক দশকে যা ঢুকেছে তাদেরকে নিয়ে সমাধান করুক তারপর বাকীটা না হয় দেখবে আমাদের সরকার।
এখানে একটি পত্রিকার অংশবিশেষ বেশ উল্লেখযোগ্য

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ ও প্রত্যাবাসন সংগ্রাম পরিষদ’-এর আহ্বায়ক অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, মানবিকতার ধুয়া তুলে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য কাজ করছে যেসব বিদেশি বেসরকারি সংস্থা যেমন এসিএফ, এমএসএফ (হল্যান্ড) ও মুসলিম এইড- তাদের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে কঠোর নজরদারির জন্য সম্প্রতি কক্সবাজার জেলা প্রশাসন উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছে। এর কয়েক দিনের মধ্যেই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা ও রাখাইনদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এর সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনবিরোধী তথাকথিত মানবতাবাদী চক্র, বেসরকারি সংস্থা এবং সশস্ত্র তৎপরতায় লিপ্ত ছিল এমন রোহিঙ্গাদের যোগসূত্র থাকা অমূলক নয়।

অধ্যক্ষ হামিদুল হক বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি গত মাসে তুর্কমেনিস্তান সফরকালে শরণার্থী সমস্যা সমাধানে ইউএনএইচসিআরের সহযোগিতা চান। এরপর বাংলাদেশ সরকার পূর্ব এশিয়া ও আশিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সমন্বয়ে মালয়েশিয়া কিংবা কক্সবাজারে একটি কর্মপরিকল্পনা বা নীতিনির্ধারণ বিষয়ক বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নেয়। ঠিক সেই মুহূর্তে রাখাইন রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। কথিত মানবতাবাদীদের ষড়যন্ত্রে মিয়ানমারে এসব ঘটছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। কারণ রোহিঙ্গা সমস্যা তথাকথিত কিছু মানবতাবাদীর বড় লাভের ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।’

[সুত্র- কালেরকন্ঠ]

এসকল সন্দেহ নেহাত অমূলক নয়, আসাটাই স্বাভাবিক।

এরপরে অনেক জেনেও থাকতে পারি আবার অনেকে না আরেকটি বড় দাতা সংস্থার ব্যাপারে আর সেটি হলো মুসলিম এইড।আরো মজার চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো এই মুসলিম এইডের হয়ে ঐ সকল শরনার্থী শিবিরে বর্তমানে কাজ করছে এক পাকিস্তানি নাগরিক যে কিনা ভ্রমনের অনুমোদন নিয়ে এসে এখানে একাজে লিপ্ত।এর থেকে কি বোঝা যায়? জামাতী ছাগুরা তো রীতিমতো এটারে আইডল মেনে নিয়ে ওয়াজ করা শুরু করবে,কিন্তু যদি এতোই তার কাজ বা সেবা করার ইচ্ছা থাকে তাহলে সে ভ্রমনের ভিসায় না এসে কাজের ভিসা নিয়ে আসতে পারতো তা না করে এরকম করে আসাটা কেমন জানি সন্দেহের না,আর সে তো পাকিস্থানের লোক যে পাকিস্থানিদের আজো শিক্ষা দেওয়া হয় আমাদের গাদ্দার হিসেবে :p তাহলে এই পাকিস্থানি তাদের গাদ্দারদের দেশে কি উদ্দ্যেশে আসে?

দেশীয় চাপঃ- এখানে আর নতুন করে কি বলব, কিছু বলতে গেলেই তো সোজা আমাকে নাস্তিক বানাবে

সে বানাক আমি এসব থোড়াই আমলে নেই।এখানের শুরুটা একটু অন্যরকম করে করি।ইউটিউবে যদি সম্ভব হয় তাহলে এখানে পড়াতে একটু বিরতি নিয়ে জামাতের সায়া পীর আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাইদীর কিছু ভিডিও দেখুন ২/৩ মিনিটের গুলাই দেখলে হবে
আর যদি আগে দেখে থাকেন তাহলে পড়তে থাকেন

সেসকল ভিডিওতে নিশ্চয়ই দেখেছেন যে লোক তার বিরুদ্ধে কথা বলেছে তারে সাথে সাথে ইসলামের ঘোর শত্রু,কাফের,নাস্তিক বানাইয়া দেয় 😯 জানিনা সাঈদী কি নিজেরে নবীর সমান ভাবে কিনা,নাহলে তার নামে কিছু কইলেই সে তারে কাফের,নাস্তিক,ইসলামের ঘোর শত্রু উপাধি দেয় কেমনে?

ঠিক এই মায়ানমার দাঙ্গায় এই সকল জামাতীদের সায়ার প্রভাব ব্যাপক ভাবে কাজ করছে।মুসলিম এইডের সাথে তাদের যোগসাজশের কথা সে বিশেষভাবে আর উল্ল্যেখ নাই করলাম বর্তমানে তারা খুব জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে এসকল রোহিঙ্গাদের যেন তেন ভাবে বাংলাদেশে ঢুকানোর জন্য।এর জন্য তারা নেই হেন দোহাই ছাড়ছে না।তাদের নিজস্ব প্যার্টান সেই ধর্মীয় ফতোয়ার ছবি,উক্তি,কথা বার্তা সারাদিন ফেবুতে দেখতে দেখতে আমার অবস্থা দশাসই আপনাদের কেমন জানিনা।সে নানা প্রক্রিয়াতেই তারা ব্যস্ত।মুসলিম মুসলিম ভাই ভাই,জাগো মুসলিম ভাই ভাই,এরকম আরো অনেক শ্লোগান। যদি তুমি মুসলিম হও তাহলে এগিয়ে আসো এরকম বহু কথা আর এদের এসকল সাঈদীবাদী কথায় ধাচে লাগে দুনিয়াতে ওরাই সবথেকে খাটি জিহাদী মুসলিম,আর বাকীসব ভন্ড।নানান স্টাইলের দোহাই দিতে এদের জুড়ি নেই বটে। এমনকি এহেন উক্তি দেখেছি মায়ানমারের সহিংসতা দমনে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী পাঠানো হউক 😀 এতে করে আর কিছুই না ৭১ এ হেরেছে কিন্তু প্রতিশোধের আগুন বুকে রক্তে তাদের জ্বলছেই এসব করে দেশটারে মোটামুটি বিপদে ফেলে দেওয়ার পায়তারা।একবার যদি বার্মার মানচিত্রটা দেখতো!

আবার তারা ৭১ এর কথা বলে খোটা দিতে ছাড়ে না,যদি তোমাদের যুক্তি তাই হয় এবার আমার কয়টা যুক্তি দেই,৭১ এরটা ছিলো স্বাধীনতার যুদ্ধ আর এটা দাঙ্গা।ভারত কিন্তু বাংলাদেশকে ভালোবেসে আগাই আসে নাই,যেহেতু পাকিস্তানিদের সাথে সেই ১৯৪৭ থেকেই কেচাল সুতরাং চামে পাইসে চাপকাইয়া দিসে আর যদি নাই চাপকাইতো তাতে করে কিন্তু তাদেরও বেশ ক্ষতি হতো।একটু যদি সে সময়কার ইতিহাস ঘাটাঘাটি করা হয় মোটামুটি বুঝা যাবে।

উপরের কালের কন্ঠের সুত্রে একটি কথা বেশ দাগ কেটেছে রোহিঙ্গা সমস্যা মানবতাবাদীদের লাভের ব্যবসা আর ঠিক তেমনিই জামাতিদের নিজস্ব এনজিও রাবিতার জন্য বড়ই সুফলা ব্যবসা।
মানবতার দোহাই দিয়ে এরা শুরু করেছে অন্যরকম এক কাহিনী।কিন্তু তারা ভুলে গেছে ৭১ এর তাদের কাহিনী। সে সময়কার তাদের মানবতার ছবি কি নতুন করে তুলে ধরতে হবে তাদের সামনে?

এদের সাথে যোগ দিয়েছে নতুন নতুন কিছু সুশীল সমাজ যারা কি বোঝে সেটা তারাই জানে কেননা তাদের মন্তব্য ও তথ্য মাঝে মাঝে সুস্থ মানুষকে বিকারগ্রস্ত করতে খুবই কাজের জিনিস।এরা যুক্তি বোঝেনা বোঝে তর্ক।

দেশীয় চাপ শুধু এখানেই না,বর্তমানে তারা নিত্য নতুন পন্থায় এগুচ্ছে এসকল রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঢুকাতে অথচ এসকল ধর্মীয় তথা মানবতাবাদীদের নিজের দেশের দিকে খেয়াল নাই,দেশে জিনিস পাতির দাম বাড়লে সরকার হঠাও আন্দোলনে নামতে একবার ভাবলেও মুখ দিয়া গালি দিতে ভাবে না।চাকরির বাজার মন্দা হলে,দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বাড়লে এরা সরকারের উপর বিষোদগার করতে দ্বিধাকরে না কিন্তু ঐ যে রোহিঙ্গা ঢুকতে না দিলে রাগ দেখায়।এমনিতে ছোট্ট এই দেশে অধিক জনসংখ্যার কারনে যে সকল সমস্যা আমাদের প্রতিনিয়ত সন্মুখীন করতে হয় তারউপরে তো এসকল শরনার্থীদের আরো বেড়ে যাবে।তখন কোথায় যাবো?

আগে থেকে কিছু শরনার্থী স্থান দিয়ে এমনিতে বিশ্বের অনেক পত্রিকায় বাংলাদেশীদের নাম উঠেছে সন্ত্রাসী হিসেবে এরপর আরো স্থান দেই আরো ভালো করে নাম উঠাই তারপর এদেশ হোক আফগানিস্থান/ইরাক এরপর দেখবো কে স্থান দেয়।

আজ মায়ানমারে এ দাঙ্গার কারনে তারা বৌদ্ধ ধর্ম নিয়ে ব্যঙ্গ শুরু করে দিয়েছে কিন্তু তারা বেমালুম ভুলে গিয়েছে জঙ্গীবাদ,মৌলবাদ এ ভয়ঙ্কর শব্দ দুটি কাদের উপর পড়ে আছে। এসকল কিন্তু ভালোই সতর্ক অবস্থানে থেকে এসকল কাজ করে।আজ যদি এ দাঙ্গা ভারতে হতো তাহলে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের কপালে কি লেখা হতো উপরওয়ালাই জানে (বাবরি মসজিদ ঘটনা ও ২০০১-২০০৬ এ পর্যন্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে)।কিন্তু মায়ানমারে হচ্ছে যাদের সাথে হচ্ছে এসকল জামাতীরা ভালোই জানে এদেশীয় তাদের সাথে কিছু করতে গেলে চায়না বা জাপান মুখে তালা লাগাবেনা।আমি চাইওনা এসব হোক আর আশা করি হতেও পারবেনা।

উপরের এতো প্যাচাল পাড়লাম কেবল একটাই কারন আর সেটা হলো প্রমান করলাম দেশীয় কিংবা বিদেশীয় যেভাবেই হোক না কেন মোটামুটি সকলেই ঘরে বাত্তি না জ্বালায়ে মাজারে জ্বালাইতে উদ্যত।

যে মায়ানমারে(ঘর) সমস্যা সেখানে সমাধান না করে (বাত্তি না জ্বালিয়ে) বাংলাদেশে (মাজারে) রোহিঙ্গাদের নিয়ে কেচাল লাগাতে ব্যস্ত।

আবার,দেশের এতো সমস্যা তার মাঝে নতুন করে সমস্যা আনতে উদ্যত এদেশীয় মানবতাবাদী সুশীল সমাজ। এক্ষেত্রে সমানভাবে প্রমানিত এরা নিজের ঘরে বাত্তি না দিয়ে মাজারে বাত্তি জ্বালাইতে ব্যস্ত। এবার আপনার পালা আপনি কি করবেন মানবতার দোহাই দিয়ে দেশে রোহিঙ্গা ঢুকাবেন নাকি নিজের দেশ বাঁচাবেন কোনটা?