ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

আজ জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা,তাই ঘুম থেকে উঠার পর একটু আগে টিভিতে সেটি নিয়ে একটি আলোচনা অনুষ্ঠান দেখলাম।তারপর একটি কথা মনে পড়ে গেলো।আমরা হিন্দুরা আসলে কতটাই বা জানি আমাদের ধর্ম সম্পর্কে! গেলো দোল পুর্ণিমায় একজন বিদেশী নিয়ে যখন বিভিন্ন মন্দির দর্শনে বের হই তখন তাকে শুধু আমি কেন অনেকেই সঠিক উত্তর দিতে পারিনি, কেন এই দোল পূর্ণিমা এবং এ জাতীয় প্রশ্ন।তখন বেশ খারাপই লেগেছিলো।সেই সময় আমার সাথে ছিলো সিওপিসি এর বেশ কজন সদস্য,এখানে উল্লেক্ষ্য যে শুধু আমি একজনই হিন্দু ছিলাম বাকী সকলেই ইসলাম ধর্মালম্বী ও দুইজন খ্রিস্টান ধর্মালম্বী কিন্তু সবথেকে অবাকের বিষয় তাদের আগ্রহ ও সৌহার্দ্য আমাকে অনেক বেশী অভিভূত করেছিলো।এখন সেই বিদেশী উইলিয়াম স্যার আবার ধরেছেন আজ ২১ তারিখ রথযাত্রায় তাকে সাথে করে নিয়ে ঘুরতে,এবার তো আর না জেনে থাকার উপায় নেই গতবার যা লজ্জা পেয়েছি সে থেকেই যা যা পেয়েছি তা জেনেছি এবং ভালো করে মনে রাখার জন্য এবং অন্যান্যদের জানার জন্য এটি শেয়ার করলাম।

জগন্নাথ:- হিন্দু দেবতাদের মাঝে অন্যতম জগন্নাথ দেব; ইনি ভগবান শ্রী কৃষ্ণের একটি বিশেষ রূপ। জগন্নাথ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ জগৎ+নাথ=জগতের নাথ বা প্রভু।

পৌরাণিক উপাখ্যান
জগন্নাথদেবকে কেন্দ্র করে দুটি জনপ্রিয় কাহিনি প্রচলিত আছে। প্রথম কাহিনি অনুসারে, কৃষ্ণ তাঁর ভক্ত রাজা ইন্দ্রদ্যন্মুর সম্মুখে আবিভূর্ত হয়ে পুরীর সমুদ্রতটে ভেসে আসা একটি কাষ্ঠখণ্ড দিয়ে তাঁর মূর্তি নির্মাণের আদেশ দেন। মূর্তিনির্মাণের জন্য রাজা একজন উপযুক্ত কাষ্ঠশিল্পীর সন্ধান করতে থাকেন। তখন এক রহস্যময় বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ কাষ্ঠশিল্পী তাঁর সম্মুখে উপস্থিত হন এবং মূর্তি নির্মাণের জন্য কয়েকদিন সময় চেয়ে নেন। সেই কাষ্ঠশিল্পী রাজাকে জানিয়ে দেন মূর্তি নির্মাণকালে কেউ যেন তাঁর কাজে বাধা না দেন। বন্ধ দরজার আড়ালে শুরু হয় কাজ। রাজা ও রানি সহ সকলেই নির্মাণকাজের ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী হয়ে ওঠেন। প্রতিদিন তাঁরা বন্ধ দরজার কাছে যেতেন এবং শুনতে পেতেন ভিতর থেকে খোদাইয়ের আওয়াজ ভেসে আসছে। ৬-৭ দিন বাদে যখন রাজা বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন এমন সময় আওয়াজ বন্ধ হয়ে যায়। অত্যুৎসাহী রানি কৌতুহল সংবরণ করতে না পেরে দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করেন। দেখেন মূর্তি তখনও অর্ধসমাপ্ত এবং কাষ্ঠশিল্পী অন্তর্ধিত। এই রহস্যময় কাষ্ঠশিল্পী ছিলেন দেবশিল্পী দিশ্বকর্মা। মূর্তির হস্তপদ নির্মিত হয়নি বলে রাজা বিমর্ষ হয়ে পড়েন। কাজে বাধাদানের জন্য অনুতাপ করতে থাকেন। তখন দেবর্ষি নারদ তাঁর সম্মুখে আবির্ভূত হন। নারদ রাজাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন এই অর্ধসমাপ্ত মূর্তি পরমেশ্বরের এক স্বীকৃত স্বরূপ।

দ্বিতীয় কাহিনিটির অবতারণা করা হয়েছিল পূর্বোল্লিখিত উপখ্যানটির ব্যাখ্যা ও সংশয় নিরসনের উদ্দেশ্যে। বৃন্দাবনে গোপীরা একদিন কৃষ্ণের লীলা ও তাঁদের কৃষ্ণপ্রীতির কথা আলোচনা করছিলেন। কৃষ্ণ গোপনে সেই সকল কথা আড়ি পেতে শুনছিলেন। কৃষ্ণভগিনী সুভদ্রা নিয়োগ করা হয়েছিল গোপীরা যখন কৃষ্ণের কথা আলোচনা করেন তখন কৃষ্ণ যেন তাঁদের নিকটবর্তী না হতে পারে সেদিকে নজর রাখার জন্য। কিন্তু গোপীদের কৃষ্ণপ্রীতি দেখে পরিতুষ্ট সুভদ্রা তাঁদেরই কথা শুনতে শুনতে বিমোহিত হয়ে গেলেন। দেখতে পেলেন না যে তাঁদের দুই দাদা কৃষ্ণ ও বলরাম এগিয়ে আসছেন। শুনতে শুনতে দুই ভাইয়ের কেশ খাড়া হয়ে উঠল, হাত গুটিয়ে এল, চোখদুটি বড় বড় হয়ে গেল এবং মুখে আনন্দের উচ্চ হাসির রেখা ফুটে উঠল। এই কারণেই জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার এইপ্রকার রূপ।বৈষ্ণবেরা কৃষ্ণের এই বিমূর্ত রূপটিকে পূজা করেন।

জগন্নাথ মন্দির
পুরীর জগন্নাথ মন্দির ভারতের অন্যতম প্রসিদ্ধ মন্দির। জগন্নাথ-আরাধনার ইতিবৃত্ত এতই প্রাচীন যে এর কোনো ঐতিহাসিক রেকর্ড পাওয়া সম্ভব নয়। জগন্নাথ মন্দিরে অহিন্দুদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কলিঙ্গ স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই মন্দিরটি শ্রীমন্দির নামে সমধিক পরিচিত। গর্ভগৃহের মাথায় রয়েছে একটি সুউচ্চ শিখর বা চূড়া। প্রদীপ উৎসর্গের জন্য রয়েছে ফসিল হয়ে যাওয়া কাঠের একটি স্তম্ভ। মন্দিরের প্রধান দ্বার সিংহদ্বারের রক্ষক দেবতা জয়া ও বিজয়া। মূল প্রবেশপথের সামনে রয়েছে অরুণস্তম্ভ নামে একটি স্মৃতিস্তম্ভ। খুরদার রাজা কোনার্কের সূর্যমন্দির থেকে এটি নিয়ে আসেন।

তিন দেবতাকে সাধারণত মন্দিরের অভ্যন্তরেই পূজা করা হয়। তবে প্রতি বছর আষাঢ় মাসে তাঁদের রাজপথে বের করে রথারূহ করে তিন কিলোমিটার দূরে মাসি মা’র মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়। এই সময় ভক্তরা দেবতাকে গণদর্শনের সুযোগ পান। এই বিরাট বিরাট রথগুলি প্রতি বছর কাঠ দিয়ে নির্মাণ করা হয়। এই সুদীর্ঘ রথগুলিই ইংরেজি শব্দ ‘juggernaut’। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর কৃষ্ণের বৃন্দাবন প্রত্যাবর্তনের প্রতীকী রূপে পালিত হয়ে থাকে এই রথযাত্রা উৎসব। রথযাত্রার সময় সারা পৃথিবী থেকে এখানে ভক্ত সমাগম হয়। পুরীর রাজা রথের সম্মুখে রাস্তা ঝাঁট দেন।

রথযাত্রা বা রথদ্বিতীয়া- একটি আষাঢ় মাসে আয়োজিত অন্যতম প্রধান হিন্দু ধর্মীয় উৎসব।দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর ভগবান কৃষ্ণের প্রত্যাবর্তনের স্মরণে এই উৎসব আয়োজিত হয়ে থাকে।
কথিত আছে সূর্য গ্রহনের সময় তীর্থস্থান দর্শন করার ধর্মীয় নির্দেশ আছে,সেসময়ে হিন্দুধর্মালম্বীরা সূর্য গ্রহনের সময় কুরুক্ষেত্র দর্শনে যান।বৃন্দাবন থেকে আগত ভক্তবৃন্দ জানতে পারেন তাদের পরম প্রিয় ভগবান শ্রী কৃষ্ণ ভক্তসাধারণের সাথে দেখা করতে জনসন্মুখে এসেছেন,সেই খবর জানা মাত্র ভক্তবৃন্দ ভগবানের দর্শন পেতে ছুটে যান।সেখানে গিয়ে তারা ভগবানের রাজবসন দেখতে পেয়ে শ্রী কৃষ্ণের কাছে আবদার করে বসেন তারা তাদের পরম প্রিয় ভগবানকে পুর্বের বেশে দেখতে চান এবং শ্রী কৃষ্ণকে রথে চড়িয়ে বৃন্দাবন নিয়ে যেতে চান।কিন্তু শ্রী কৃষ্ণ যাবেন সেখানে কি ভাই বলরাম ও বোন সুভদ্রা ছাড়া যাওয়া যায়? তাই ভাই বলরাম ও বোন সুভদ্রাকে আলাদা রথে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা হলো।এই জন্য তিনটি রথ টানা হয়।
উৎসব

রথযাত্রার দিন পুরীর জগন্নাথ মন্দির সহ ভারতের ও বিশ্বের সকল জগন্নাথ মন্দিরে জগন্নাথ,বলরাম,সুভদ্রা ও সুদর্শন চক্র মূর্তি মন্দির বাহিরে সর্বসমক্ষে বাহির করা হয়। তারপর তিনটি সুসজ্জিত রথে (কোনো কোনো স্থলে একটি সুসজ্জিত সুবৃহৎ রথে) বসিয়ে দেবতাদের পূজা সম্পন্নপূর্বক রথ টানা হয়।

পুরীতে রথ টানতে প্রতি বছর লক্ষাধিক পূণ্যার্থীর সমাগম হয়। এখানে তিন দেবতাকে গুগিচা মন্দিরে জগন্নাথদেবের মাসির বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। পুরীতে বছরে এই একদিনই অহিন্দু ও বিদেশীদের মন্দির চত্বরে এসে দেবদর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়। পুরীতে যে রথগুলি নির্মিত হয় তাদের উচ্চতা ৪৫ ফুট। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক টেলিভিশন চ্যানেলে এই রথযাত্রা সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।

ইসকনের ব্যাপক প্রচারনা ও আন্দোলনে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই রথযাত্রা পালিত হয়।বাংলাদেশের ধামরাইয়ের রথযাত্রা বেশ পুরনো ও প্রসিদ্ধ।বর্তমানে ইসকনের প্রচারনায় বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনায় এ রথযাত্রা পালিত হয়।

[সুত্রঃ- উইউকিপিডিয়া ও অন্যান্য মাধ্যম]

সবশেষে একটাই কথা এখানে আমার জানাতেও ভূল থাকতেই পারে আশা করি যারা এবিষয়েআরো জানেন তারা এটিকে শুদ্ধ করতে সহযোগিতা করবেন।

বিভিন্ন দেব দেবীর মন্ত্র ডাউনলোড করতে তথা ধর্মীয় বিষয়াদি জানতে নিচের লিঙ্ক সমূহ দেখতে পারেন

হিন্দু ডিভোষনাল পাওয়ার

লাইফগিভিং মন্ত্র

হিন্দু ডিভোষনাল

সেই পর্যন্ত ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন সেই কামনায়।