ক্যাটেগরিঃ আর্ত মানবতা

 

এসব নিয়ে লিখতে গেলে অনেক তথ্য দিয়ে সমৃদ্ধ করতে হয় আর তখনই সেটি বাজারে চলে কিন্তু আমার জ্ঞানের ভান্ডার এতোই নগন্য যে এতোসেতো তথ্য ধরে না।সুলতান দাদার মানবিক আবেদনে পুরো বিডি ব্লগ সাড়া দিয়েছিলো আর তখনই ডাক তুলেছিলেন জিনিয়া আপা বিডি ব্লগ সময়ের দাবী পোষ্টে।সেখানেও কারো উৎসাহের কমতি দেখিনি বরং উদ্দীপনা দেখেছি।যে যার মত করে সাজাতে চেয়েছে শুভবুদ্ধি/চিন্তার বলয়ে ঢাকতে চেয়েছে।এরপর গত ৬ জুলাই বিডি ব্লগের উদ্যোগে বন্যা দুর্গত এলাকায় ত্রাণ তৎপরতা চলে।সেখানে ত্রাণের অভিজ্ঞতার বর্ণণা ব্লগার কৌশিক ভাই তুলে ধরেছেন

দ্রুত হেঁটে একটু দূরে সরে এসে একটা সিএনজি পেয়ে যেই উঠে পড়েছি অমনি উল্কার মত উড়ে এসে আমাদের হাত পা জড়িয়ে ধরলো তিনচারজন মানুষ। সিএনজির মধ্যে ও সামনের চাকার নিচে পা ঢুকিয়ে দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করলো। ভোটার আইডি কার্ড দেখালো। মুক্তি পেতে চটজলদি তিনজনের ভোটার আইডিকার্ড দেখে আমরা এক হাজার টাকা করে দিয়ে দিলাম। কিন্তু এরপরেই যেনো আকাশ ভেঙে পড়লো। পেছন থেকে ছুটে আসতে শুরু করলো আরো অসংখ্য মানুষ।

একবার ভাবুন তো সেই মানুষদের মাঝে নিজেকে দাঁড় করিয়ে,ত্রাণের জন্য আপনিও দৌড়াচ্ছেন।
যতবারই কৌশিক ভাইয়ের লেখাতে মন্তব্য করতে গিয়েছি ততবারই এ লাইনগুলো কেন জানি আমার দিকে তাকিয়ে হাসে।
এখন এখানে এও উল্ল্যেখ যে ঐমুহুর্তে পালিয়ে যাওয়া ছাড়া কোন গতিই থাকে না আর প্রতি বছরই আমি শীত বস্ত্র বিতরণে অংশ নিলে সেটা হাড়ে হাড়ে টের পাই।কিন্তু তাই বলে কি তাদের ফেলে দেবো?
এখানে তাও সৌভাগ্য যে ভোটার কার্ড দেখিয়েছেন(যাতে রোহিঙ্গা না ভাবেন)কিন্তু খোদ চট্টগ্রাম শহরের মাঝে এসে দেখেন রাস্তার পাশে যে সকল উদ্বাস্তুরা থাকে তাদের কয়জনের কার্ড আছে সেটি নিয়ে আমার সন্দেহ আছে(এদের অধিকাংশই কিন্তু চট্টগ্রামের বাইরের আবার রোহিঙ্গাও না এরা “ভইঙ্গা” :Pমাইন্ড খাইলে চলবে না কিন্তু।)

এখন কি ভাবছেন আমি বলে বসব আসুন সবাই ট্যাকা দেন আর আমরা যাইয়া যাইয়া এসকল উদ্বাস্তুদের ট্যাকা বিলাই? না মোটেও না।
আমার একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন আছে প্রতিবছরই কিছু না কিছু অনুষ্ঠান করে থাকি তো ১৫ জুলাই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা আর তার জন্য কিছু ভিডিও বানাতে গিয়ে নজরে পড়ে শিরোনামহীনের এই ভিডিওটি যদিও আগে দেখেছিঃ-

কি দেখেছেন তো ভিডিওটা? না দেখলে আগে সেটা দেখেন তারপর নিচে নামেন(পারলে ডাউনলোড করে নেন)

ভিডিওটার ৩৪-৪৭ সেকেন্ডের দৃশ্যটা কেমন?
এরপরের গুলো কেমন?

হুম এরকম অনেক ভিডিও,জ্ঞানের কথা রোজ বলি কিন্তু কয়জনে করি?তাও সত্য, মিথ্যা না।কিন্তু আমি একা কয়জনকেই বা খাওয়াতে পারি? তবে মাদার তেরেসার কথাটা আবার তুলে ধরবেন না “তুমি যদি ১০০ জনকে খাওয়াতে না পারো তাহলে অন্তত ১ জনকে খাওয়াও” ভাই একজনকে খাওয়াই আমি।এখনো স্পষ্ট মনে পড়ে দেশের বাইরে দু’বছর থাকার সময় একবার প্রচন্ড খিদায় আমি খাবার দোকানে ঢুকছিলাম পকেটেও শুধু আমার নিজের খাবারের জন্য টাকা তার মাঝেই খপ করে এসে পা জড়িয়ে ধরে আমার থেকে মাত্র কয়েকবছরের ছোট একটি ছেলে কাকুতি করতে থাকে গত দুদিন ধরে কিছু খায়নি সে তখন কি আর করা আমার ভাগেরটা আমি তার সাথে ভাগাভাগি করে নিলাম ফুল প্লেট নিয়ে তার হাফ আমি খেলাম আর হাফ ওরে খাওয়ালাম।এটি উল্ল্যেখ করলাম দেখে কেউ ভাববেন না যে জীবনে একটাই করছি সেটারেই ফলাও করে বলছি 😆 এটা উল্ল্যেখ করলাম এই জন্য যে ঐ মুহুর্তে আমি নিজেই ছিলাম প্রচন্ড ক্ষুধার্ত তার মাঝে আরেকজন আইসা হাজির।আমার এই স্বভাবের দরুন কিন্তু আমাকে ঘরে “ফরভালাইয়া/ভাদাইম্যা/জোয়াইল্যা” এসব ডাকে :D।

এবার আসি মূল কথায় বিডি ব্লগ ২৪ ফাউন্ডেশনের জন্য আমার যে প্রস্তাবনা সেটি হলো “আনন্দ স্কুল” করার।
তাও আবার শহরে না গ্রামের অভুক্ত,দরিদ্র বাচ্চাদের জন্য ভ্রাম্যমান কিংবা অস্থায়ী আনন্দ স্কুল করার,যেখানে পড়তে আসলেই খাওয়া দেওয়া হবে।শুধু খাবার দিতে গেলে কিন্তু খাদকের অভাব হবে না।বড় বড় শপিং মলগুলোর সামনে গেলে দেখা যায়।আর এসকল শিশুগুলো বাচ্চা যখন এসব দেখে দেখে বড় হয় তখন তার কাছ থেকে কি পেতে পারি আমরা?চুরি/ছিনতাই/মাদক ব্যবসা এসবই তো? আবার তাদের যদি ধরতে পারি তাহলে কি করি?সেই মাপের উত্তম-মধ্যম দেই তাই না! কিন্তু একবার সেখানেও নিজেকে দাঁড় করান তারপর বুঝবেন দোষটা আসলেই কি তার ছিলো নাকি অন্য কারো।কিন্তু ক্ষিদের জ্বালায় এরা সামান্যই করছে অথচ ভোগ-বিলাশের জন্য আমাদের মন্ত্রীবর্গ কি করছেন তা দেখেও তাদের কি দিচ্ছেন, সামনে আসলে কুত্তার লাহান লেজ নাড়ানো ছাড়া।আমার মতে এরকম ছেছরদের দালাল হওয়ার থেকে পতিতালয়ের দালাল হওয়া ভালো(বাইশে শ্রাবণ সিনেমার ডায়ালগ)।

আমি নিজেও একটি এনজিও তে চাকরি করেছিলাম কিন্তু সেখানে আমার নীতির সাথে মিল না হওয়াতে চলে আসি (শিক্ষার নামে এনজিও এর অনুমোদন নেয়,অনুদান নেয় কিন্তু যখন একটু পাকাপোক্ত হয়ে গেলো শুরু করে দিলো ইউনুসীয় বাণিজ্য মাইক্রো-ক্রেডিট)।

আই-হাই এ আমি কি করলাম? মূল বিষয়টা লিখলাম মাত্র দুই লাইন আর তার লগে লতা-বাহারী দিলাম এতোগুলা?এখন কি পুরা লেখা মুছে আবার নতুন করে লিখব? না সময় স্বল্প দৌড়াতে হবে।