ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

সম্পর্ক শব্দটি যতটা মধুর তেমন আমাদের জীবনে এর প্রয়োজনীয়তাটাও ততটাই বেশি।কিন্তু আজকের সমাজে কি হচ্ছে আর কি দেখছি? রঙ্গিন এই সমাজে সম্পর্কের এই কাটাছেঁড়া দেখে আর সহ্য করতে পারলাম না দেখেই লেখাটা লিখতে বসলাম।

প্রথমে জানা দরকার সম্পর্ক বেপারটা কি? আসলে এর পুরো সংজ্ঞা আমার জানা নেই।শুধু জানা আছে যে মানুষ গুলো কে ছাড়া আমি চলতে পারিনা তাদের সাথেই আমার সম্পর্ক।আবার আছে পারিবারিক,সামাজিক এবং মানবিক সম্পর্ক,আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আমার এই লেখার আওতাভুক্ত নয় তাই তাকে নিয়ে আর টানাটানি করছি না।পারিবারিক সম্পর্কের মাঝে যারা পরেন অথবা যা যা এর মাঝে আছে সে আমরা সবাই জানি।আমার লেখার বিষয় কিন্তু সেই সম্পর্ক ও নয়।তবে কি?আমি আজ বলতে চাই আমাদের সমাজের তরুন প্রজন্মের Relationship এর ব্যাপারে।এ ব্যাপারে তাদের নানা ভাবনা নানা কর্ম প্রসঙ্গেই আমার আজকের এই পোস্ট।

আজকালকার যুগের তরুণ তরুণীরা সবাই প্রেমের দোলনায় দুলছে। ব্যাপারটা আমি খারাপ চোখে দেখছি এমনটা না।ভাল লাগছে প্রেম করছে, কিন্তু আসল সমস্যাটা হল তারা যেতা করছে সেটা যে আসলে প্রেম নয় তারা এটা হয় বুঝছেনা কিংবা বুঝতে চাইছেনা।সম্পর্ক গড়াটা যেমন এক নিছক খেলা।আমার নিজের জীবন থেকে বলতে চাইছি,আমার এক বান্ধবী আছেন যার কিনা চার চারটা সিরিয়াস ধরনের সম্পর্ক ছিল।এখন নেই।কারন তিনি এখন অন্য আরেকজনের প্রেমে পরেছেন।আমি এর ব্যাখ্যা চাইলাম।বললাম যে,মানলাম প্রথম সম্পর্ক ছোটবেলার ভুল কিন্তু মানুষ ভুল কি চারবার করে?তার উত্তর শুনে আমি স্তম্ভিত।তার যুক্তি হল,তার কোন সম্পর্কের সিদ্ধান্তই ভুল না।কিন্তু একটা মানুষের সাথে এতদিন কিভাবে থাকা সম্ভব?তার সাথে যদি তার মিল না হয় তাহলে তার কি উচিত না যে সেখান থেকে চলে আসা।তার আত্মসম্মান আছে,সে কেন তার সাথে মিলে থাকার চেষ্টা করছে যাকে তার আর ভাল লাগছেনা।আর সমাজ বদলেছে মানুষ ও মানুষের দৃষ্টিভঙ্গী বদলেছে তাই এমন তুমুল বদলাবদলির আবহাওয়ায় আমি অত্যন্ত বেকুবের মত কথা বলে নিজের সংকীর্ণ মনভাব প্রকাশ করছি।আমি নিরবাক হয়ে যাওয়ায় তার কোন কথার উত্তর দিতে পারলাম না।তারপর সে আমাকে হুট করে বলল যে আমি সম্পূর্ণ ধর্মান্ধ মুসলিম।এবং আমার কাছে নিশ্চয়ই বিবাহপূর্ব শারীরিক সম্পর্কটাও পাপ।আমি বলেছিলাম পাপ পুণ্য আমি জানিনা কিন্তু আমার একটা প্রশ্ন আছে সেটা আমার অই বন্ধু এবং যারা এই পোস্ট টি পড়ছেন তাদের সবার জন্য।“বিবাহপূর্ব শারীরিক সম্পর্ক যদি এতটাই পবিত্র হয়ে থাকে তবে সেই পবিত্র মিলনের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুটি কেন স্বাভাবিক পরিচয় প্রাপ্ত হয়না?আপনি যদি আমায় ধর্মান্ধ মুসলিম বলেন,তবে আমি বলব যে এটা শুধু ইসলাম বলেনি এটা আপনার আমার সমাজের কথা।আর আপনি ধর্ম অস্বীকার হয়ত করতে পারেন কিন্তু এই সমাজে বাস করে নিশ্চয়ই সমাজকে অস্বীকার করতে পারবেন না।“ আমার বন্ধুটির কাছে এর কোন জবাব ছিলনা।

বর্তমানে এইসব ঠুনকো সম্পর্কের অনেক নাম দেওয়া হয়েছে।তার কয়েকটি আমি উল্লেখ করলাম।‘Friends with benefit’, ‘No strings attached’, ‘Living together’,’ Living apart together” ইত্তাদি।প্রথম দুটির নামে ইংলিশ মুভিও হয়েছে।এই সম্পর্ক গুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে এসবের মাঝে মানসিক কোন ব্যাপার নেই।সম্পর্কের গভীরতা নেই,নেই কোন অম্ল-মধুর অনুভুতি।এসব ক্ষেত্রে পুরো ব্যাপারটাই শারীরিক।একবার ভেবে দেখুন প্লিজ ব্যাপারটা কতটুকু অস্বাভাবিক কতটুকু অসুস্থ।এসব সম্পর্কের মূল কারণটা কি হতে পারে,সেটা নিয়ে আমি অনেক ভেবেছি।আমার ছত মাথা এবং স্বল্প জ্ঞানে যা কুলিয়েছে টা হল এই সম্পর্কগুলো তারা তৈরি করছে কারন তারা তাদের নিজেদের কর্তব্যগুলো সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত।বাবা-মারা তাদের শিখাতে পারছেন না।তারা জানছেনা একজন প্রেমিক হতে হলে স্বামী হতে হলে বা একজন প্রেমিকা বা স্ত্রী হতে হলে তাদের সবার আগে sense of responsibility তৈরি করতে হবে।“অই মাইয়াটা এত্ত হট।অরে ছাড়া আমি বাচুম না।দোস্ত মেনেজ হার নাম্বার।“”বেবি আই লাভ ইউ।প্লিজ আমারে ছাইরা যাইও না” ব্যাস!অয়ে গেল প্রেম।উদ্দাম ঘোরাঘুরি,উদ্দাম ডেট।অতঃপর…”আসলে দেখ আমাদের মনে হয় ব্রেক আপ করাটাই বেটার।খারাপ লাগবে কিন্তু এতই ঠিক।“ গুড বাই! এর নাম এখন প্রেম!কি আর বলব।কেউ আর একা থাকতে পারেনা।এসব করে এরা ভালবাসা শব্দটাকে এতটাই সস্তা আর বাজারি করে ফেলেছে যে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।

সম্পর্ক হবে এমন যেখানে ভালবাসা,সহমর্মিতা,কর্তব্য,দায়িত্ব,খুনসুটি,আহ্লাদ সব মিলেমিশে একাকার হবে। শুধুমাত্র একটা জৈবিক ব্যাপার সেখানে প্রাধান্য পাবে কেন?

আর লিখতে ভাল লাগছে না। অসম্পূর্ণ একটা পোস্ট লিখলাম,জানিনা প্রকাশ হবে কিনা।আমি আসলে ক্লান্ত,ভীত।কোথায় যাচ্ছে সমাজ?কোন আধার কূপে পড়তে যাচ্ছে আমাদের প্রজন্ম?যারা জীবনে সম্পর্কের মত একটা অতি গুরুত্বপূর্ণ পবিত্র ব্যাপার নিয়ে ছেলেখেলা করছে সেই প্রজন্ম পৃথিবীকে আগিয়ে নিয়ে যাবে কিভাবে???
আমার ভয় হয়।বড্ড ভয় হয়…