ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

সিলেটে নগরিতে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ায় লীগ (আইপিএল) খেলা নিয়ে যত্রতত্র জুয়াখেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সিলেটে নগরিতে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ায় লীগ (আইপিএল) খেলা নিয়ে যেখানেসেখানে প্রকাশ্যভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে বাজি নামে জুয়ারআসর। প্রতিদিনই এক,দু শত থেকে শুরু করে লক্ষাদিক টাকার জুয়াখেলছেন স্থানীয় বাজিগররা। ফলে বাজিগরদের হাতে কোটি কোটি টাকার হাত বদল হচ্ছে। আইপিএল খেলাকে কেন্দ্র করে, স্কুল কলেজের ছাত্র, দিন মজুর, রিক্সা চালক, সি এন জি চালকসহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা জুয়াখেলছেন নগরিতে। শুধু হারজিত নিয়েই জুয়া খেলা নয়। বাজিগররা, প্রথম ব্যাটিং ২য় ব্যাটিং, ওভারে ওভারে, এমনকি কোন বলে কত হবে, কোন বলে ক্যাচ ,ছয়,চার,এক,দুই,নো বল হবে, কে কোন টিম টাকা বেশি দিয়ে নিবেন,  এই সব নিয়েই বসানো হচ্ছে বাজির খেলার জোয়ার আসর। নগরির অলি গলি,ছোটখাটো হোটেল, পান দোকানে ও এলাকার নিরাপদ স্থানে, মোবাইলের মাধ্যমে ও সামাজিক মাধ্যমে,  বাজি ধরা হচ্ছে খেলার অর্ধ্য ঘন্টা আগে।

ইন্ডিয়ান পিমিয়ার লীগ খেলা নিয়ে জুয়ায় জড়িয়ে পড়ায় অনেকেই আর্থিকভাবে মারাত্মক্ষতির স্বীকার হচ্ছন। হারিয়েছেন অনেক কিছুই, নিজেদের মোবাইল থেকে শুরু করে শ্রমীকের কষ্টার্জিত টাকা নগদ টাকা ও স্বর্নালংকার পর্যন্ত। অনেকে আবার চুরি করছেন ঘরের মূল্যবান জিনিস পত্র। যার ফলে ঘরে সৃষ্টি হচ্ছে অশান্তি ও বিশৃংখলতা। এদিকে   পরিবারে অবিভাবকরা বোঝতে পারছেন না কি ভাবে এ জুয়ায় জরিয়েছেন তাদের সন্ত্রানরা। জুয়ারির সূত্র ধরে জানা গেছে, সিলেটের প্রত্যেকটি উপজেলায় এ জুয়া খেলার আসর রয়েছে। এ জুয়াখেলা নিয়ে, অটোরিক্সা চালক ইমরানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, দীর্ঘদিন দরে এ ধরনের জুয়াখেলছেন তিনি।  হাজার হাজার টাকা উরিয়েছেন জুয়া খেলায়। জুয়া বিহীন খেলা দেখতে মন চায় না এখন। তিনি আরও বলেন সিলেট নগরিতে প্রত্যেকটি স্থানে জুয়াখেলার আসর রয়েছে এবং নগরিতে জুয়ার টাকা নিয়ে রীতিমতো অরাজকতা সৃষ্টি হচ্ছে । নগরির স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, নগরিতে এরকম বেপরোয়া ভাবে বাজিগররা জুয়ায় আকৃষ্ট হয় তাহলে নগরিতে চুরি, ডাকাতি, চিন্তাই  বৃদ্ধি পাবে, তাই আমরা মনে করি আইপিএল খেলাকে কেন্দ্র করে  বাজি নামের জুয়া খেলার আসর গড়ে তোলা হয়েছে এবং যারা জুয়া নিয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন তাদেরকে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী।

অপর দিকে, সরজমিনে দেখাযায় লাক্কাতোরা চা-বাগানে চলছে ভারত ও বাংলাদেশ ভিত্তিক তীর নিক্ষেপের নাম্বারের ওপর জুয়াখেলা। দুপুর সাড়ে ১২টা হতে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ০১ হতে ৯৯ নাম্বারের ওপর ধরা হয় জুয়া। ১০টাকার ১টি নাম্বারের খেলয়াড় তীরের নাম্বারের সাথে মিলে গেলে পেয়ে যান ৭৫০টাকা। সেই সাথে বিকেল সাড়ে ৪টা হতে ৫টার মধ্যে বাম্পার রাউন্ড খেলা হয় ফলাফল পাওয়া যায় আধ ঘন্টার ভেতর, বিজয়ীরা তৎক্ষনাত জুয়ার টাকা পেয়ে যান। এতে করে প্রতি দিন লক্ষ লক্ষ টাকার জোয়ার মাধ্যমে সর্বসান্ত হারাচ্ছেন চা-শ্রমীকসহ শহর থেকে জুয়ায় অংশগ্রহনকারীরা।

এ ব্যপারে এসএমপি’র এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ গউছুল (অ.সি)’র কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, “আমরা আগেও অভিযোগ পেয়ে দু-তিন বার অভিযান পরিচালনা করেছি। এসব জুয়াখেলার হোতা চা-শ্রমীকগণ, সেখানে অভিযান চালালে প্রায়ই মাতাল অবস্থায় পুলিশের সাথে উৎশৃঙ্খলার সৃস্টি করে এবং চা শ্রমীকরা কর্মবিরতিতে চলে যায়।” তিনি আরো জানান, “এরই মধ্যে বড় ধরণের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে যাতে জোয়ার আসর উৎখাত চিরতরে করা যায়।”