ক্যাটেগরিঃ শিল্প-সংস্কৃতি

dsc_0017-001

সিলেট থেকে নেয়া ছবি – সুমন দে। ক্যাপশন: মৃৎশিল্পীদের কদর।

অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে আমাদের মৃৎশিল্প। বাংলার সকল মানুষের কাছে ইতিহাস ঐতিহ্যের প্রতীক মৃৎশিল্প। আধুনিক সরঞ্জামসহ প্লাস্টিক, স্টিল ও মেলামাইন সামগ্রীর ব্যবহার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ, যে শিল্প ধর্মীয় রিতি-নীতি বাহন করে আসছে আদি হতে। সেই শিল্পীগুলোর সঠিক সম্মান কী আমরা করতে পারি?

এদের জীবন জীবিকা এই শৈল্পিক স্থাপনার মাঝে। দুর্গাপূজা, লক্ষীপূজা, কালীপূজা, সরস্বতীপূজা পর্যন্ত এই মৃৎশিল্পীদের কদর থাকে তারপর তাঁরা কি ভাবে জীবন-যাপন করে কেউ খবর জানেনা। শত শত বছর ধরে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে আমাদের কুমার সম্প্রদায় বংশ পরস্পরায় এ শিল্পকে আজও টিকিয়ে রেখেছে। এক সময় সর্বসাধারণের ভাত খাওয়ার জন্য প্লেট, রান্না করার হাঁড়ি ও গৃহন্থলির নানা কাজে ব্যবহার হত মৃৎশিল্প। এমন কি রাজা মহারাজারাও ব্যবহার করত এ শিল্প। বিভিন্ন ধরণের সৌখিন সামগ্রী হিসেবে তাদের গৃহে শোভা পেত মাটির তৈরি মনোমুগ্ধকর শিল্পকর্ম। এমনি করে সকলের কাছে এ শিল্পের যথেষ্ট কদর ছিল।

এখন শুধু বিলাসিতার জন্য মাটির তৈরী বাসনে মাঝে মধ্যে দেখা যায় খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। সরকারী-বেসরকারী ভাবে সামান্য উদ্দ্যোগ গ্রহণ করে পর্যাপ্ত মান নিয়ন্ত্রণ করে দেশে বিদেশে বাজার সৃষ্টি করা, সকল মানুষের সচেতনতা ও আন্তরিকতা সৃষ্টিসহ প্লাস্টিক ও অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহার কমিয়ে মাটির তৈরি জিনিস ব্যবহার করা হয় তাহলে আমাদের মৃৎশিল্প বেঁচে থাকবে অনন্তকাল।

 আমাদের দেশে ভাস্কর্য তৈরীতে এদের সরকারি পৃষ্টপোষকতায় কাজে লাগালে মৃৎশিল্পীদের জীবনে পরিবর্তন ঘটত, পরিবর্তন আসতে পারে আমাদের সংস্কৃতিতেও।