ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

pm-hasina-18

সন্ত্রাসের স্পনসর পাকিস্তান: বিপুল সমর্থন আমেরিকায়

[বেশি বাড়াবাড়ি করলে ‘দাদা’রও বিরক্তি লাগে! ‘দাদা’কেও যে কৈফিয়ত দিতে হয়, পাকিস্তানের মদতে লাগাতার সন্ত্রাসের জন্য! তাই মার্কিন প্রশাসনে বহু দিনের পাক ‘মৌরসি পাট্টা’র দিন কি এ বার শেষ হয়ে এল? ‘পাকিস্তান কি সন্ত্রাসের মদতদাতা রাষ্ট্র?’, অনলাইনে এই প্রশ্নটা ছুড়ে দিয়েছিল হোয়াইট হাউস। তাতে অন্তত পাঁচ লক্ষ মার্কিন নাগরিক স্বাক্ষর করে জানিয়েছেন, হ্যাঁ, তাঁরা পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসের মদতদাতা রাষ্ট্র’ বলেই মনে করেন। হোয়াইট হাউসের পাঠানো কোনও প্রশ্নে মার্কিন নাগরিকদের এই ব্যাপক সাড়া দেওয়ার ঘটনাটি একটি রেকর্ড। কোনও নাগরিক দাবি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের ভাবনা-চিন্তা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সর্বাধিক ৩০ দিনের মধ্যে যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন, তার পাঁচ গুণ মানুষ স্বাক্ষর করে তাঁদের মতামত জানিয়েছেন এ বার অনলাইনে হোয়াইট হাউসের পাঠানো প্রশ্নে। ফলে, পাকিস্তানকে এ বার আমেরিকা ‘সন্ত্রাসের মদতদাতা রাষ্ট্র’ হিসেবে ঘোষণা করবে কি না, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ‘বল’টা পৌঁছে গিয়েছে ওবামা প্রশাসনের ‘কোর্টে’। সেই ‘বল’টা ওবামা প্রশাসন এ বার কী ভাবে ‘রিটার্ন’ করবে, তারই অপেক্ষায় এখন গোটা বিশ্ব। 

মার্কিন নাগরিকদের কাছে হোয়াইট হাউসের এই অনলাইনে পাঠানো প্রশ্নটির আদত ‘প্রশ্নকর্তা’ ছিলেন এক মার্কিন নাগরিক। গত ২১ সেপ্টেম্বর যিনি ওই প্রশ্নটি পাঠিয়েছিলেন হোয়াইট হাউসে। পাঠানো প্রশ্নের নীচে নিজের নাম স্বাক্ষর করেছিলেন ‘আরজি’ বলে। অনলাইনে সেই প্রশ্নটিই মার্কিন নাগরিকদের কাছে ‘ফরওয়ার্ড’ করে দিয়েছিল হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিস, ‘জনগণ-মন’ বুঝতে। মার্কিন নাগরিকরা কী ভাবছেন, সেটা আঁচ করতে। মার্কিন সংবিধান বলে, এমন কোনও প্রশ্নে যদি ৩০ দিনের মধ্যে অন্তত এক লক্ষ মার্কিন নাগরিক কোনও মতামত জানিয়ে থাকেন, তা হলে তার ওপর মার্কিন প্রশাসনকে তার ভাবনা-চিন্তার কথা কোনও রাখ-ঢাক না রেখেই জানাতে হবে প্রকাশ্যে। পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসে মদতদাতা রাষ্ট্র’ বলে মনে করেন এমন পাঁচ লক্ষ মার্কিন নাগরিক এ বার হোয়াইট হাউসের পাঠানো প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। যা প্রয়োজনীয় সংখ্যার পাঁচ গুণ। ফলে, পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসের মদতদাতা রাষ্ট্র’ বলে মনে করে কি করে না, এই প্রশ্নটার উত্তরটা এ বার প্রকাশ্যে দিতেই হবে ওবামা প্রশাসনকে। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী এটা অনিবার্যই। সর্বাধিক ৬০ দিনের মধ্যে। ঘটনা হল, এর পরেও উৎসাহে ভাটা পড়েনি মার্কিন নাগরিকদের। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী অঞ্জু প্রীত তাঁর ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘‘আমরা যত ক্ষণ না কম করে দশ লক্ষ স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে পারছি, তত ক্ষণ থামছি না। ২১ অক্টোবর পর্যন্ত সেই সুযোগটা রয়েছে।’’ ও দিকে সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত মার্কিন কংগ্রেসের হাউজ সাবকমিটির চেয়ারম্যান টেড পো ও ডানা রোহরাবাচার শনিবারই ‘পাকিস্তান স্টেট স্পনসর অফ টেররিজম ডেজিগনেশন অ্যাক্ট’ বিলটির খসড়া সংশোধনীটি আলোচনার জন্য তুলেছেন হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে।]

রোববার ভারতীয় বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত হয় উক্ত প্রতিবেদনেটি। প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের দেশরত্ম জননেত্রী শেখ হাসিনা ৭১তম জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে, তাঁর ভাষনে, সেই দিকে ইঙ্গিত করে কী বলে ছিলেন, “জঙ্গিবাদে মদতদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।“ তিনি বলেন, “বর্তমানে আমরা (বাংলাদেশের) এই নতুন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছি।” দেশীয় জঙ্গিদের ওই হামলার পর জনগণকে সচেতন করতে সরকারের গৃহীত কর্মসূচি এবং তাতে সাড়া পেয়ে তিনি আশাবাদী, বাংলাদেশের মাটি থেকে সন্ত্রাসীরা সমূলে উৎখাত হবে। “আমি সন্ত্রাসী এবং উগ্রবাদীদের অর্থ ও অস্ত্র-শস্ত্রের জোগান বন্ধ এবং তাদের প্রতি নৈতিক এবং বৈষয়িক সমর্থন না দেওয়ার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়কে আহ্বান জানাচ্ছি,” বলেন শেখ হাসিনা।” দৃঢ়তা, আত্মবিশ্বসি কতটা দূরদর্শিতা, রাজনৈতিক ভাবে পরাস্ত করার কৌশল জানা থাকলে এভাবে বলতে পারা যায় ? ভারতের উরির ঘটনা নিয়ে যখন পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব। তটস্ত এশিয়া মহাদেশ। আমাদের পার্শবর্তী দেশ ভারত কৌশল অবলম্বন করে যাচ্ছে যুদ্ধে নানান ভাবে। ঠিক সেই সময় আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভারতের পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। আমাদের যারা শত্রু, যারা স্বাধীনতা বিরোধী চক্র, তারা কিন্তু শেখ হাসিনাকে ঠিকই চিনেছে, তারা কিন্তু জানে বাংলাদেশ উন্নত বিশ্বের সাথে গড়ে তোলার জন্য এই মানুষটি কতটা অপরিহার্য। তাই বার বার তাঁর উপর আঘাত এসেছে। বিচলিত না হয়ে অনেক অভিজ্ঞতা নিয়ে শেখ হাসিনা এগিয়ে যাচ্ছেন সুফলতা বহন করে।

প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশে যে সকল সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ঘটছে তবে কী সে সব জায়গাতেই মদত যোগাচ্ছে পাকিস্তান ? সেই ‘৭১এ স্বজনহারা পরিবারগুলোর দেশের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছিলো বঙ্গবন্ধুর ডাকেই। তাই ফিরে ফিরে তাঁর দলের কাছেই ফেরত যেতে হয় আমাদের। তাঁর মেয়ের কাছেই ফেরত যাই এখন। অথচ দীর্ঘ পথচলা আমাদের অনেক কঠিন শিক্ষা দিয়েছে। আজ জাতীয় রাজনীতির পথে দাঁড়িয়ে, বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধিকার তাঁর মেয়েরা ছাড়া সত্যি কি আর কাউকে তেমন বিশ্বাস করতে পারি আমরা ? দেশের এমন ক্রান্তিলগ্নে- দল বলুন, দলের বড় বড় নেতা বলুন, পুলিশ বলুন, শিক্ষক বলুন, সাংবাদিক বলুন– স্বার্থের কাছে আদর্শ বিক্রি না করতে দেখেছি কজনকে ? কাকে সত্যি বিশ্বাস করতে পারি জাতীয় স্বার্থের ব্যাপারে ? আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন বক্তব্য (ভাষন) বিশ্ববাসীর কাছে স্বস্তির বারতা প্রকাশ্যে আহ্বান করেছেন আমাদের গর্ব,  জননেত্রী শেখ হাসিনা।

এবার আমাদের গোয়েন্দা সংস্থার সহযেগীতায়, প্রকাশ্যে দেশের আভ্যন্তরে জঙ্গিবাদ তৈরীর পেছনে অর্থ দানকারীদের চিহ্ণিত করে শাস্তির দাবী নিশ্চিত করা হোক। পররাষ্ট্রনীতিতে বাংলাদেশের সর্বদলীয় কার্যক্রম একই পথে না চল্লে আগামীতে কী হুমকি অপেক্ষা করছে তা এখনই ভাবার সময়। জাতীয় স্বার্থে সবাই একযুগে কাজ না করলে ধর্ম নিয়ে বাণিজ্যকারীরা, পরাজিতশক্তি আবার মাথাউচু করে দাঁড়াবে। এদের চিরতরে বাংলার মাটি থেকে উচ্ছেদ করা হোক, এই সবই এখন সময়ের দাবী। কিন্তু, এসব করবে কে ? অনেক ঘা খেয়ে, বহু খেলা দেখে তাই মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির সকল আশা-ভরসার স্থল হয়ে দাঁড়িয়েছেন আজ একজনই– বঙ্গবন্ধুর যোগ্য সন্তান আজকের বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ যাত্রার পথপ্রদর্শক শেখ হাসিনা। তাঁর একার স্কন্ধে তিনি বহন করে চলেছেন সমগ্র দেশের আশা, ভরসা, স্বপ্ন, শ্রমের ভার। তিনিই করতে হবে পররাষ্ট্রনীতির আইনি চিরস্থায়ী ব্যবস্থা। আমি জানি, আমার কথা, এই লেখা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নজরেও পড়বে না বা হাতের কাছেও পৌঁছাবেনা!  কিন্তু দেশের জন্য, আগামী প্রজন্মের জন্য, দেশের আগামীর পথচলাতে যদি কোন রূপ প্রগতিশীল কার্যক্রম হয়, তবেই স্বার্থক হব। স্বার্থক হব জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে সমৃদ্ধ আত্মবিশ্বাসি বাঙালি হিসেবে।