ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

 

১২ বছরে সুন্দরবনে বাঘ কমেছে ৬৮৪ টি
বর্তমানে বাঘের সংখ্যা ১০৬: পরিবেশ ও বনমন্ত্রী

20150727011521

ছবি ইন্টারনেট হতে সংগৃহিত

পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, সুন্দরবনের প্রায় সর্বত্র বাঘের বিচরণ রয়েছে। এখানে বর্তমানে বাঘের সংখ্যা ১০৬। সুন্দরবনের বাঘরক্ষায় সরকার যথাযথ পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের ফলে বাঘের আবাসস্থল, জীবনাচরণ ও প্রজনন বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে বলেও এ সময় জানান বনমন্ত্রী। গত সোমবার জাতীয় সংসদে জাসদের সংসদ সদস্য লুৎফা তাহেরের জরুরি জনগুরুত্ব সম্পন্ন বিষয়ের ওপর মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে বনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বনমন্ত্রী আরো বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশে বর্তমানে বাঘ সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। বাঘ সংরক্ষণ ও বাঘের জন্য সুন্দরবনে একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে সরকার বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন প্রণয়নসহ নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।” সংবাদটি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচার হয়েছে।

পরিবেশবিদ ও সংশ্লিষ্ঠদের মতামত এর সাথে গত ১২ বছরের পরিসংক্ষানে রয়েল বেঙ্গল টাইগার কমেছে ৩০ টি। পরিসংক্ষান পর্যালোচনায় সঠিক হিসেবে কমেছে ৬৮৪ টি। হিসেবে সংখ্যার কোন মিল নেই। তবু সংরক্ষনে চাই সরকারি হস্থক্ষেপ।

বাঘ কমে যাওয়ার কারণঃ সুন্দরবনে বাঘের প্রকৃত আবাস ম্যানগ্রোভ বনে। কিন্তু নদ-নদীর জলে লবনের মাত্রা ক্রমশ বেড়ে যাওয়ার কারণে বন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে সুন্দরী, গোলপাতাসহ বিভিন্ন ধরনের গাছপালা। এ ছাড়া উষ্ণতা, মানুষের উপস্থিতি, জলে লবনের আধিক্য, বন-জঙ্গল উজাড় হয়ে যাওয়ায় কারণে করুণ অবস্থা সুন্দরবনের বাঘের। তাপমাত্রার হেরফেরে মৌসুমি বায়ু নির্দিষ্ট সময়ে আসে না। ফলে সময়মতো বৃষ্টিও হচ্ছে না। আবার কখনো কখনও অসময়ে বৃষ্টি হচ্ছে পরিমাণের চেয়ে ঢের বেশি। এর প্রভাবে সুন্দরবনে গাছ মরছে। কমছে বাঘের সংখ্যা। বাংলাদেশে বাঘের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। কারণ হিসেবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জলবায়ুর পরিবর্তনকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে এক দিকে বন ধ্বংস হচ্ছে, অন্য দিকে ধ্বংস হওয়া এলাকায় নতুন বসতি গড়ে উঠছে। এতে বনের ওপর নিভর্রশীল মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। আর এ কারণে বাঘের স্বাভাবিক চলাচলের স্থান ক্রমে সংকুচিত হচ্ছে।

বন বিভাগের তথ্যঃ বন বিভাগ জানাচ্ছে, গত ১২ বছরে চোরা শিকার-সহ বিভিন্ন কারণে সুন্দরবনে ১৭টি বাঘ মারা গেছে। পরিবেশবিদদের হিসাব অনুযায়ী এই সংখ্যা ৩০টি। ২০০১ থেকে ২০১২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৩০টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১৬টি পূর্ব সুন্দরবনে আর ১৪টি পশ্চিম অঞ্চলে মারা গিয়েছে।

পরিসংখ্যানঃ এপ্রিল ২০১৬ তে, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে মোট বাঘের সংখ্যা ১৮২টি । এরমধ্যে বাংলাদেশ অংশে রয়েছে ১০৬টি এবং ভারত অংশে রয়েছে ৭৬টি। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অনুষ্ঠিত যৌথ বাঘ শুমারির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ভারতের ন্যাশনাল টাইগার কনভেনশন অথরিটি এবং বাংলাদেশ বন বিভাগ এই শুমারির আয়োজন করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগারদের আবাসস্থলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, শুধু মানুষের আগ্রাসন নয়, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সুন্দরবনে হুমকির সম্মুখীনে রয়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার। এছাড়া, সুন্দরবনের মধ্যদিয়ে বিভিন্ন পণ্যবাহী যেমন তেল, কয়েল, সিমেন্টবাহী জাহাজ ও কার্গো চলাচলও বাঘের জন্য হুমকি।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের সর্বশেষ শুমারি অনুযায়ী সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ৭৯০টি । এরমধ্যে বাংলাদেশে ছিল ৪৪০টি এবং ভারতে ৩৫০টি। পরিসংক্ষানে দেখা যায়, ২০০৪ সাল হতে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ১২ বছরে বাঘ কমেছে ৬৮৪ টি। এছাড়া ১৯৭৩ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ১৭০ বর্গ কিলোমিটার উপকূলীয় বনভূমি হারিয়েছে সুন্দরবন।

তথ্যসুত্রঃ ইন্টারনেট।