ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

কেউ যদি জানত !! “আচ্ছা বলুন তো আপনার জন্মের পূর্বেই আপনাকে জিজ্ঞেস করা হল; আপনি কোথায় জন্মগ্রহন করতে চান (কোন দেশে)? তাহলে আপনি কি বাংলাদেশ বেছে নিতেন না অন্য কিছু ? আমার দেশ আমার অহংকার। সততার সাথে নিজের কাছে নিজেই জবাব দিন। কিন্তু বাস্তবতা হল সে সুযোগ মানুষেরই নেই । কখন, কোন মাতা-পিতার সন্তান হয়ে, কোন পরিবারে, কোন সমাজে এবং কোন দেশে জন্ম হবে তা মানুষের ইচ্ছার উর্দ্ধে । এসবই সৃষ্টিকর্তার কাছে নিয়ন্ত্রিত । তাই আমরা যারা বাংলাদেশে জন্ম নিয়েছি সেটা সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় হয়েছে।

জন্মভূমিকে কে না ভালবাসে ? একজন দেশপ্রেমিকের পরিচয় হল সে তার দেশের কল্যাণ চায় সবসময়। নিজের স্বার্থ থেকে দেশের স্বার্থ তার কাছে সব চেয়ে বড়। অর্থের লোভে বা ক্ষমতার লোভে দেশের স্বার্থকে সে জলাঞ্জলি দিতে পারে না। নিজের বা দলের পক্ষ না নিয়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করাই হবে তার কাছে বড়। অত্যাচারীর বিরুদ্ধে সে থাকবে সোচ্চার। দেশকে সুখী সমৃদ্ধশালী করতে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করাই হবে তার প্রাধান লক্ষ্য। আমরা যারা দেশের কথা ভাবি বা লিখালিখি করি বিশেষ করে যারা প্রবাসী তারা সবাই উপরোক্ত লক্ষ্য নিয়েই তা করি বলে আমার বিশ্বাস। দেশে কে ক্ষমতায় বসল বা না বসল তা আমাদের কাছে জরুরি নয় এবং তাতে আমাদের কোন ব্যক্তিগত লাভ লোকসান নেই। কিন্তু দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হউক এবং গণতন্ত্র বিকাশ পাক, মানবাধিকার বিপর্যস্ত না হউক, সঠিক আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হউক এবং দেশের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন হউক এটাই আমাদের কাম্য।

বাংলাদেশই হয়ত এক মাত্র দেশ পৃথিবীতে যেখানে গণতন্ত্রের নামে পরিবারতন্ত্রের রাজত্বে পরিণত হয়েছে এবং সম্ভবত দেশের মানুষও সেটাকে গ্রহন করে নিয়েছে। অনেকটা যেন প্রতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে দিয়েছে। কেননা, দেশে যে বৃহত্তর দুটি দল দেশের রাজনীতি পরিচালনা করে তার একটি চলে স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মেয়ে শেখ হাছিনার নেতৃত্বে এবং অন্যটি চলে স্বাধীনতার ঘোষক জেনারেল জিয়ার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে। বাংলাদেশের রাজনিতীতে এরাই হচ্ছেন প্রধান ফ্যক্টর। দেখা যাচ্ছে ভবিষ্যতে এ ধারাই চলতে থাকবে। খালেদা তাঁর ছেলেকে নিয়োজিত করেছেন ভবিষ্যত নেতৃত্বের বাহক হিসাবে আর হাসিনাও তার সন্তান কে সেভাবেই প্রস্তুত করছেন। বাংলাদেশের রাজনীতি পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি হলেও অনেকে এটাকে ক্লিপট্রক্রেসী বলে থাকেন। এ শব্দটি এসেছে প্রাচীন গ্রীক শব্দ ক্লিপটিস (চোরের) ও ক্রেটস (শাসন ব্যবস্থা) অর্থাৎ চোরের শাসন তথা দুর্নীতিগ্রস্ত শাসন ব্যবস্থা।

আ.লীগ ও বিএনপি যে দলই হউক না কেন তাদের মাঝে যদি সত্যিকার গণতান্ত্রিক চর্চা ও জবাবদিহিতার ও সততার অনুশীলন থাকত তাহলে তো কোন সমস্যা ছিলনা। আর একজন সৎ শাসক পেতে তার জন্য উপযুক্ত সমাজও থাকতে হয়। সে সমাজ গড়ার জন্য কিছু লোককে সাহস করে এগিয়ে আসতে হবে। এ সংগ্রামে যোগ দিলে প্রচুর ত্যাগ স্বীকার করার  দৃঢ় মন বল থাকতে হবে। বর্তমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রিয় সামাজিক পরিবেশে এ দেশের মানুষের চিন্তাভাবনা তথা মাইন্ডসেট হয়ে গেছে ভৌগ্যবাদী এটাই হচ্ছে বড় সমস্যা। তবে আশার কথা দেশের অনেক মানুষ এখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে মৃত্যুকে ভয় করেনা।