ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি বা বিআরটিএ’র কথা শুনলেই আমি শারীরীক ভাবে অসুস্থ বোধ করতে থাকি। আমার কেমন যেন জ্বর জ্বর লাগতে থাকে। তাও একটা সময় ছিল যখন একবারেই সব কাজ সেরে চলে আসা যেতো। পুরো একটা দিন নষ্ট হতো। কিন্তু একদিনেই সব হতো। আমার মতো যারা ঘুষ দিতে চায় না, তাদের কথা বলছি। আর হাজার দু’য়েক টাকা খরচ করলে নিজেকেও যেতে হতো না। কিন্তু এখন রক্ষা না। আপনি যদি একটি যানবাহনের মালিক হন, তাহলে আপনাকে দফায় দফায় সেখানে যেতে হবে।

আমার এক আত্মীয় ২০১৭ সালের ১৮ জুলাই একটি নতুন মটর সাইকেল কেনেন। পাঁচদিনের মধ্যেই তিনি হাতে পান ‘কর পরিশোধ সনদপত্র’ এবং ‘REGISTRATION ACKNOWLEDGEMENT SLIP’ । পাঁচদিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন, মানে নম্বর পেয়ে যাওয়ায় তিনি বেশ আশাবাদি হলেও ছয় মাসেও তিনি বিআরটিএ’র সব কাজ শেষ করতে পারেন নাই। আমার সেই আত্মীয় সাদা কাগজে ‘ঢাকা মেট্রো – হ – ** – ****’ প্রিন্ট করে মটরসাইকেলের পেছনে লাগিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

গত ৩ অক্টোবর একটি এসএমএস’র মাধ্যমে আমার ওই আত্মীয়কে জানানো হলো যে, Registration Certificate-এর ৯ অক্টোবর তাকে উত্তরার বিআরটিএ কার্যালয়ে গিয়ে ছবি তুলতে হবে ও আঙ্গুলের ছাপ দিতে হবে।

৯ অক্টোবর উত্তরার বিআরটিএ কার্যালয়ে গিয়ে প্রায় দু’ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা ও আঙ্গুলের ছাপ দেওয়ার পর REGISTRATION ACKNOWLEDGEMENT SLIP-এ ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি Certificate of Registration দেওয়া হবে বলে একটি সিল মেরে দেওয়া হলো। সেই মত আমার সেই আত্মীয় ৩০ জানুয়ারি উত্তরা বিআরটিএ কার্যালয় গেলেন। 

একটু খোঁজাখুজির পর উনি জানতে পারলেন যে, ১০৩ নম্বর কাউন্টার থেকে Certificate of Registration বিতরণ করা হচ্ছে। উনি কাউন্টারের সামনে দাঁড়ালেন। প্রায় এক ঘন্টা পর ওনার সুযোগ আসলো। গ্রিলের ফাঁক দিয়ে REGISTRATION ACKNOWLEDGEMENT SLIP দিলেন ভেতরে বসে থাকা এক ব্যক্তির হাতে। একটা ল্যাপটপ নিয়ে বসে আছেন এনরোলমেন্ট অফিসার। কোনো কথা না বলে আমার আত্মীয়কে REGISTRATION ACKNOWLEDGEMENT SLIP ফেরত দিয়ে বললেন, ‘আপনার মোবাইল দেখেন, ম্যাসেজ গেছে। কালকে এসে ডিজিটাল নম্বর প্লেট লাগিয়ে যাবেন।’

‘Apnar appointment Jan
31, 01:03 PM nishchit kora
holo. Apnar gari DHAKA
METRO-**-**-**** &
money receipt nie ashun:
Diabari, Uttara’

এসএমএস দেখে আমার সেই আত্মীয় আমতা আমতা করে বললেন, ‘আমি তো এসেছি Certificate of Registration নিতে।’

গ্রিলের ভেতর থেকে উত্তর আসলো, ‘আগে নম্বর প্লেট লাগান।’

আমার গোবেচারা আত্মীয় মিউ মিউ করে বললেন, ‘আজকেই তো ডেট শেষ হয়ে যাচ্ছে। ডেট-টা একটু বাড়িয়ে দেন। রাস্তায় তো পুলিশ ধরলে মামলা করে দেবে।

‘মামলা করলে আমার কিছু করার নাই’ গ্রিলের ভেতর থেকে জবাব আসলো

আমার আত্মীয় ৩১ জানুয়ারি ঠিক সকালে নয়টায় উত্তরার বিআরটিএ কার্যালয়ে গিয়ে হাজির হলেন। এক ঘণ্টা ২০ মিনিট পর ডিজিটাল নম্বরপ্লেট লাগলো। এরপর আবার ১০৩ নম্বর কাউন্টারের সামনে গেলেন তিনি। বিশাল লাইন। কোনো মতে লাইনের সামনে গিয়ে কাউন্টারের পেছনে বসে থাকা লোককে বললেন, ভাই নম্বর প্লেট তো লাগিয়েছি। এখন কী ডেটটা একটু বাড়িয়ে দেবেন?

‘কালকে আসেন’, ভেতর থেকে উত্তর আসলো।

১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টার আগেই তিনি আবার উত্তরার বিআরটিএ কার্যালয়ে হাজির হলেন। আবার ১০৩ নম্বর কাউন্টারের সমানে লাইনে দাঁড়ালেন। পৌনে দশটায় গ্রিলের ফাঁক দিয়ে REGISTRATION ACKNOWLEDGEMENT SLIP দিলেন।

এবার, REGISTRATION ACKNOWLEDGEMENT SLIP-এ সিল দিয়ে দেওয়া হলো। ২৮ এপ্রিলের মধ্যে Certificate of Registration দেওয়া হবে।

REGISTRATION ACKNOWLEDGEMENT SLIP ফেরত দিয়ে গ্রিলের ভেতর থেকে বলা হলো, ‘আপনার কার্ড এখনো প্রিন্টে যায় নাই। হলে, ম্যাসেজ পাবেন।