ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

অনেক কিছু ভেবেছিলাম। কিন্তু কিছুই হলো না। উল্টো মনে হলো, নেতা-কর্মীদের ধরে রাখতেই যেন শনিবার নির্বাহী কমিটির সভায় কথা বললেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। যিনি দু’বার পূর্ণ মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় সংসদে দু’বার বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন। খালেদা জিয়ার শনিবারের বক্তব্যে মূলত দলের নেতা-কর্মীদের ধরে রাখার দিকটাই উঠে এসেছে। যদিও গত চার বছর ধরে সংসদের বাইরে থাকা দলটির প্রধান সরকারের সমালোচনা করেছেন। যেটা তিনি তার প্রতিটি বক্তব্যেরই করছেন। আর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য কিছু শর্ত দিয়েছেন।

এছাড়া খালেদা জিয়ার দু’টো কথায় মনে হয়েছে যে, তিনি অনেকটাই হাল ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি শুধু বলতে চাই, আমি যেখানে থাকি না কেনো, আমি আপনাদের সঙ্গে আছি’। উনি কী অনেক দিনের জন্যে কোথাও চলে যাচ্ছেন ? নাকি, হার মেনে নিলেন?

উনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে আরেকটা কথা বলেছেন, ‘সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। আপনাদের বিরুদ্ধে বহু সন্ত্রাস হবে, ষড়যন্ত্র হবে, নানাভাবে হয়রানি করার চেষ্টা করা হবে। আমরা কেউ ভয়ে ভীত হব না।’

তাহলে কি বিএনপি’তে ঐক্য নেই ? বিএনপি নেতৃত্ব কী অল্পতেই ভয় পেয়ে যাচ্ছে?

আমার মনে হচ্ছে, বিএনপি ব্যাকফুটে যেতে যেতে এখন আর তাদের যাবারও জায়গা নেই। খালেদা জিয়াকে যা কখনো দুঃস্বপ্নেও চিন্তা করেন নাই; সেটাই আওয়ামী লীগ করেছে। তাকে ঢাকা সেনানিবাস থেকে বের করেছে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যাদের আশায় ছিলেন সাবেক সেনাপ্রধানের স্ত্রী, তাদের কাছ থেকে কোনো সাহায্যই তিনি পাননি। বিএনপি রাষ্ট্রিয় ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত তারেক রহমান লন্ডন থেকে ঢাকায় ফিরবেন না।

২০০৮ সালের পর থেকে শেখ হাসিনা সরকারের সামনে অনেক প্রতিবন্ধকতা এসেছে। কিন্তু, সরকারকে কখনোই ব্যাকফুটে যেতে হয়নি। ক্ষমতা গ্রহণের এক মাসের মধ্যেই বিডিআর বিদ্রোহের মতো ঘটনা শেখ হাসিনা, বলতে গেলে এক হাতেই সামাল দিয়েছেন। হেফাজতকে শাপলা চত্বর থেকে উঠিয়েছে। চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি হয়ে গেছে।  ২০১৫ সালের লাগাতার হরতাল আর অবরোধ শেখ হাসিনা সরকারকে একটুকুও ভাবিয়েছিলো বলেও মনে হয় না।

দু’কোটি দশ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা মামলার রায় দেওয়া হবে আগামি বৃহস্পতিবার। এই মামলায় খালেদা জিয়া দোষী সাবস্ত হবে; হবে এটা প্রায় নিশ্চিত। এই মামলায় খালেদা জিয়া অভিযুক্ত হবেন বলেই ওনার আইনজীবীরা যতভাবে কালক্ষেপণ করা যায়, তার সবই করেছেন।

আগামিতে কী হতে পারে? আমার কেনো যেনো মনে হচ্ছে, আগামি বৃহস্পতিবা রায় দেওয়া হবে না। এই রায়ের তারিখ ঘোষণা করে সরকার দেখতে চাচ্ছিলো যে, বিএনপি কী কী করতে পারে। সরকারের সেটা দেখা হয়ে গেছে। তবে রায় যখনই দেওয়া হোক না কেনো, বিএনপি চেয়ারপারসনকে কারাগারে যেতে হবে। এরপর ওনাকে হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বের হতে হবে। সাধারণত এই সব মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন দেওয়া হয়। সরকার যদি চায়; খালেদা জিয়া বেশি সময় ধরে কারাগারে থাকুক তাহলে জামিনের স্থগিতাদেশ চেয়ে আপিল বিভাগে যাবে। এই মুহূর্তে আপিল বিভাগ নিয়ে সরকার অবশ্য তেমন দুশ্চিন্তায় নেই।

এরকম, একটা অবস্থায় খালেদা জিয়া যদি মনে করেন যে, উনি ওনার ছেলের সাথে লন্ডনে থাকবেন,  সরকারের পক্ষ থেকে মনে হয় না কোনো বাধা দেওয়া হবে।