ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

আমাদের সমাজের প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন রূপ দেখে আমি একটু অবাক বলা যেতে পারে। আসলে বয়সে অনেক ছোট, তাই আশ্চর্য হওয়াটা বোধহয় স্বাভাবিক। আসলে আশ্চর্য না বলে আতঙ্কিত বললে ঠিক হবে। আমার এই কথা বলার আসল উদ্দেশ্য, আমরা প্রতিনিয়ত একে অন্যের সাহায্য করার চেষ্টা করি। আসলে যার সাহায্য করার চেষ্টা আমরা করছি চলুন দেখি তার কতটা সাহায্য হচ্ছে।

একজন অল্প বয়সী মেয়ে সন্ধ্যার পর একা হেঁটে বাড়ি ফিরছে। তার চুল বাঁধা, ভালো পোশাক পরা। দেখে বুঝা যায়, মেয়েটি ভালো ঘরের। তার শুধু একটাই দোষ, সে মাথায় হিজাব পরেনি। আর একারণেই মাঝপথে এক পাঞ্জাবী পরা, টুপি মাথায় ব্যক্তি তাকে জোর গলায় বলে গেল, “মাথায় কাপড় দেয়া ফরয।”

হয়তো ধর্ম সম্পর্কে আমার জ্ঞান কম তবে মাথায় কাপড় দেয়া ফরয না তা আমি নিশ্চিত।

যাই হোক ভদ্রলোককে আমি হুজুর বলব না। কেননা, পাঞ্জাবী আর টুপি পরলেই হুজুর হওয়া যায় না। বরং, তাকে হুজুর বলে সম্মান দিতে গেলে আমার ধারণা যারা ধর্মের পথে মানুষকে আহ্বান জানান, সারা ধর্ম সম্পর্কে অনেক কিছু জানেন তাদের অপমান করা হবে। তাকে হুজুরের কাতারে না রাখার আরও বড় কারণ, তিনি সচেতন ভাবে কথাটি বলেননি। তিনি যদি কথাটি বলার আগে আর একটু চিন্তা করতেন তবে হয়তো কথাটা বলতেন না। কেননা, এই ব্যস্ত শহরে রাস্তার মাঝে জোর গলায় কথাটা বলে তিনি অন্য একজনকে মেয়েটির দিকে নিচু দৃষ্টিতে তাকাতে সাহায্য করেছেন। তিনি কথা বলে চলে গেলেন তবে যারা কথাটা শুনেছে তারা কি একবারও মেয়েটির দিকে ফিরে তাকায় নি?

তাহলে সারসংক্ষেপ কি দাঁড়ায়? সাহায্য করতে গিয়ে একটা মেয়েকে এতগুলো লোকের নজরে আনলাম তো! মেয়েটি সবার সামনে ইতস্তত বোধ করল, তাই না? এতে আসলে উপকার কার হলো?

এখন আসি অন্য ঘটনায়। ঘটনাটা অবশ্য আগেও সংক্ষেপে বলেছি। তাও আবার একটু মনে করিয়ে দেই। এই শহরে যানযট অতি সামান্য বিষয়। সেই যানযটে শত শত গাড়ির মাঝে এক রিক্সা চালককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তিনি শ্বাস নিতে পারছেন না। ওষুধ কিনতে হবে। পকেটে হাত দিয়ে দেখেন টাকা নেই। সেই মুহূর্তে এক কলেজে পড়ুয়া মেয়ে তার অবস্থা দেখে চুপ করে বসে না থাকতে পেরে কাছে গেল। যেয়ে জিজ্ঞাসা করতেই লোকটি তার সমস্যার কথা বলে। মেয়েটি যতটুকু দিয়ে পেরেছে সাহায্য করেছে। যখন দেখে তা যথেষ্ট না নিজে বসে থাকা গাড়িগুলো থেকে সাহায্য চায়। তবে কোনো লাভ হয় না। প্রথমে লোকটি হাত পাতে পরে মেয়েটি। তবে এই বড় গাড়িতে থাকা মানুষগুলোর মনে তারা সাঁড়া দিতে ব্যর্থ।

এই হল আমাদের সমাজ। যার সাহায্য দরকার তার সাহায্য কেউ করতে আসে না তবে…. । শেষটা আসলে কি তা পাঠকই ভালো বলতে পারবে। আমি না হয় শুধু কিছু উদাহরণ তুলে দিয়ে যাই…।