ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

মাত্র ১৯ বছর বয়সে কবরে শায়িত হতে হয়েছে তনুকে। হ্যা এই সেই তনু সোহাগী জাহান তনু। যে মেয়েটি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান কলেজের ইতিহাস বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্রী ছিল।
তনু এমনি এমনি কবরে শায়িত হয়নি। খুবলে খুবলে হিংস্র পশুর মত ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেয়েছে ওকে একদল পশু। টেনে হেচড়ে ছিঁড়ে ফেলেছে তনুর চুলের গোছা, কান, নাক, মুখ থেকে তখনও রক্ত ঝরছে, অর্ধনগ্ন নিথর দেহ পড়ে আছে ঝুপের কাছে। উফ কি বীভৎসতা কি নৃশংসতা কি যন্ত্রণার নাহ আর ভাবতে পারছি না। আমি বিকল হয়ে গেছি। স্থীর হয়ে গেছে আমার মস্তিষ্ক।
সংবাদটি শুনার পর পরই অঝরে কেঁদেছি। দুটি রাত ঘুমাতে পারি নি। চোখ বন্ধ করলেই ভেসে উঠেছে তনুর হাসিমাখা মুখ। সাথে সাথে বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরেছি আপন ছোটছোট বোনটিকে।
ভয়ে মুষরে পড়েছি আমিও তো টিউশনিতে যাই, আমার বোনটিও তো কলেজে যায়। তাহলে কি ঐ নরপশুদের পরবর্তী স্বীকার আমি বা আমার বোন? নাহ আর ভাবতে পারছি না। অনেক আগেই তনুর জন্য কিছু লেখা উচিত ছিল এবং লেখতে চেয়েও ছিলাম কিন্তু পারিনি। যতবার লিখতে চেয়েছি ততবার বুক ফেটে কাঁন্না এসেছে। আমার কলম থেকে একটি শব্দও বের হয়নি।এলোমেলো হয়ে গেছে সব ভাবনা, তনু হাসিমাখা মুখ আমায় পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে। অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে কিছু লিখছি।

প্রথমেই প্রশ্ন উঠে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় কি করে এমন একটি বর্বরোচিত ঘটনা ঘটলো??? যেখানে শত শত সেনানী নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত। ক্যান্টনমেন্টে তো এত সহজে কোন বহির্গতের আগমন ঘটতে পারে নানা। ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশের পূর্বে ১৪ গোষ্ঠির তথ্য লিপিবদ্ধ করতে হয়। তাহলে যদি কোন বহির্গত একাজ করে থাকে তবে নিশ্চয়ই তার তথ্য ক্যান্টনমেন্ট নিরাপত্তা কর্মীর কাছে আছে। তবে কেন ঐ দিনে আগত সকল বহির্গতদের সার্চ করা হচ্ছে না।

আচ্ছা মানলাম নিরাপত্তা কর্মীর চোখ ফাকি দিয়ে কিছু লোক প্রবেশ করেছিল এবং উৎ পেতে ছিল। কিন্ত এত নিরবিচ্ছিন্ন নিরাপত্তা এলাকায় কি করে একাধিক জন তনুকে ধর্ষন ও পরে হত্যা করে। দায়িত্ব প্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা তখন কোথায় ছিলেন??? এত সহজে ঐ পশুরা তাদের কাজ সেরে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলো। এখন তো সেনাবাহিনীর দিকেই চোখ রাঙ্গাতে হচ্ছে। তাহলে কি ক্যান্টনমেন্টেরই কারো সাহায্যে ঘটেছে এমনটি। কে নেবে তনু হত্যার দায়ভার। কে বা কারা তনুর খুনি??? হ্যাঁ ক্যান্টনমেন্ট তোমাকেই নিতে হবে তনু হত্যার দায় ভার। তুমিই হবে তনুর খুনি যদি না তনুর হত্যাকারীদের বিচার না হয় তবে সব দায় ভার ক্যান্টনমেন্টকেই নিতে হবে।

আমরা লজ্জিত বড্ড লজ্জিতলজ্জিত স্বাধীনতার ৪৫ বছর কেটে গেলেও আজোও আমরা সুরক্ষিত রাখতে পারিনি আমাদের নারী সমাজকে এ লজ্জা কার? তনু সুষ্ঠু বিচার না পেলে অবিচার করা হবে স্বাধীনতার প্রতি। ভূলুণ্ঠিত হবে স্বাধীনতা।

নারীর অধিকার বলে তোমরা যারা চিৎকার করো ধীক্কার তোমাদের যে সমাজ নারীর নিরােত্তা দিতে ব্যর্থ সেই সমাজ দেবে নারীর অধিকার??? কোথায় সেই অসুস্থ মস্তিষ্কধারীরা যারা বলো যে নারীর পোশাকই তাকে ধর্ষণের জন্য দায়ী। তনু হিজাব করতো, নিজের দেহকে যথেষ্ট আড়াল করে রাখতো তবু কেন তনুকে নগ্ন থ্যাতলানো লাশ হতে হলো? তাহলে কি স্বেচ্ছায় নিজের দেহকে ওদের হাতে তুলে না দেয়াই ছিল তনুর অপরাধ?
তনু হত্যার বিচার দাবীতে যখন উত্তাল সাড়া দেশ তখনও কোন মিডিয়ায় প্রকাশ পায়নি এসব আন্দোলনের খবর। পুরো বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে মিডিয়া, আইন শৃঙখলা বাহিনী তথা সরকার। এমনও শুনা যাচ্ছে তনুর হত্যার পরপরই তনুর পরিবারের সাথে কাউকে দেখা করে দেয়া হচ্ছে না, এমনকি তনুর সহপাঠীরাও শেষ দেখা দেখতে পারেনি তনুকে। বলা হচ্ছে একটি মহল তনুর পরিবারকে সব সময় নজরদারী করে বেড়াচ্ছে যেন তারা তনু হত্যার ব্যাপারে মুখ না খুলে কাউকে কিছু না বলে। এমনকি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে তাদের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরগুলোও। এসব থেকে পরিষ্কারই বুঝা যাচ্ছে এটি অনেক প্রভাবশালী বা ক্ষমতাধর মহলের কাজ।

এভাবে ক্ষমতার দাপটে আর কত তনুরা অসময়ে হারিয়ে যাবে। আর কত তনুদের প্রতি অবিচার করা হবে। ক্ষমতার দাপটে আর কত তনুদের অবিচার করা হবে??? বিগত ধর্ষণের ঘটনাগুলোর যদি সুষ্ঠু বিচার হত তবে আজ অকালে হারাতে হতো না তনুকে। তাই সরকারের কাছে আমাদের জোড়ালো দাবী হলো তনু হত্যাকারীদের এমন শাস্তি দেয়া হউক যেন আর কোন নরপশু তনুদের দিকে কুদৃষ্টি দেয়ার আগে রক্ত হিম হয়ে যায়। তনু হত্যার দাবীতে উত্তাল রাজপথ। আমিও রাজপথের একজন। তনুর পর হয়ত পশুদের স্বীকার হতে চলেছে আপনার ছোট বা বড় বোনটিবোনটি, আমি কিংবা আমার ছোট বোনটিবোনটি। তাই আসুন তনুর খুনিদের খুজে বের করে ফাঁসিতে ঝুলাই তাতে হয়ত বেঁচে যাবে আগামীর কোন তনু। আজ তনু হত্যার সুষ্ঠু বিচার না হলে আর কোন মেয়ে জন্মাবে না এদেশে। ভ্রুনেই খুন করে দিও ওদের তাতে অন্তত কিছুটা হলও তৃপ্তা থাকবে যে কোন স্বাধীন দেশে জন্ম নিয়ে, কোন সেনানিবাস এলাকায় কোন মেয়েকে ধর্ষিত হয়ে হত্যার ইতিহাস লেখা হবে না।