ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বাঙালির ধর্ম নিয়ে ব্যবসা আজ নতুন নয়। কিন্তু নাস্তিকতা নিয়ে বর্তমানে যে ব্যবসা শুরু হয়েছে তা সত্যিই হাস্যকর। মুফাসসির ইসলাম মুফার কর্মকান্ডে একটি কথা মনে হলো। ভারতের কিছু চালচ্চিত্র শিল্পী রয়েছেন যারা খুব একটা দর্শক সমাদৃত নয়। তাই তারা আলোচনায় থাকার জন্য প্রায়ই ওপেন সিন ক্রিয়েট করে থাকে। যেমন- প্রকাশ্যে কাউকে চুমু কিংবা নগ্ন কোন ম্যাগাজিনে পোজ দেয়ার মত কাজ করে থাকে। এগুলো কিন্তু অন্য কোন কারণে নয় শুধুমাত্র আলোচনায় থেকে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করাই তাদের উদ্দেশ্য। কিন্তু একটি ঘটনা দিয়ে তারা খুব বেশিদিন আলোচনায় বা সমালোচনায় টিকে থাকতে পারতো না। তাই নিত্য নতুন ঘটনার জন্ম দিত। এই রকম হলো এই মুফা।

তার শুরুটা ছিল ২০১১ সালে আলোচনার তুঙ্গে থাকা জামায়াতের হয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেইজবুকে লেখালেখির মাধ্যমে। মুফা যখন দেখলো জামায়াতের হয়ে লিখে সে খুব একটা প্রভাব বিস্তার করতে পারছে না তখন সে লেখা শুরু করলো বিএনপির হয়ে। বিএনপির হয়ে লিখেও যখন তার উদ্দেশ্য আছিল হলো না তখন শুরু হলো আওয়ামীলীগের পক্ষে কলম চালানো। কিন্তু মুফার কলমের ভাগ্য বেশ খারাপই ছিল বলা যায়। কোন কিছুতেই তার মন বাসনা খুব একটা পূরণ হলো না। তাই সবশেষে দেখল নাস্তিকতাবাদ নিয়ে বর্তমানে খুব তুরজোর চলছে তাই সে নিজেকে নাস্তিক বলে পরিচয় দিতে লাগলো। বেশ কিছুদিন ধরে সে আবার ইংরেজিতে লেখালেখি করছে। আসলে আমার ধারণা মুফা নিজেকে নাস্তিক বা এন্টি মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিয়ে ব্রিটেন বা আমেরিকার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছে। পরবর্তীতে হয়ত কোন এক সময় তাদের কাছে নিরাপত্তার ইস্যু করে তাদের দেশের সিটিজেন হতে চাইবে।

মুফাসসিল মুফার এমন কর্মকান্ড দেখে একটি ঘটনা মনে পড়ে গেল ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরের দিকে সুইডেনে বসবাসরত এক আপু তার সাথে ঘটা একটি ঘটনা বলেছিনে। ঘটনাটা ছিল এমন যে এক বাংলাদেশি লোক তাকে দেখে নিজ থেকে কুশল বিনিময় করতে এগিয়ে এলো। তো কুশলাদি বিনিময়ের পর কথা প্রসঙ্গে আপু জানতে চাইলেন “আপনি কি এখানে সিটিজেন?”

লোকটি উত্তর দিল “আরে না, ওয়ার্ক ভিসা শেষ। তবে এসলাইম এপ্লাই করেছি।” কারণ হিসেবে লোকটি উল্লেখ করেছে সে ঘোর নাস্তিক, বাংলাদেশের মুসলমানরা পেলেই নাকি তাকে কুপাবে।

লোকটি আরো বললো সে নাকি দেশে টাকা পাঠিয়ে দিয়েছে মসজিদে মিলাদ আর ২টা গরু সদগাহ দিয়ে মাপ চাওয়ার জন্য। আপু লোকটিকে জিঙ্গেস করেছিল এসব করলে পাপ হয় না? লোকটি হেসে উত্তর দিয়েছিল “না আপা এতে কোন দোষ নাই। আল্লাহ জানেন তো আমি উনার খাস বান্দা।”

আসলে এই লোকটির মত অনেকেই আজ নাস্তিকতা নিয়ে ব্যবসা শুরু করে দিয়েছে। বাঙ্গালীর ধর্ম নিয়ে ব্যবসার ইতিহাস পুরনো তাই নতুন ধান্ধা শুরু হয়েছে, ইস্যু নাস্তিকতা।

ব্যবসা করুক আর নাস্তিকতাই করুক তা নিয়ে আমার মাথা ব্যাথা নেই। আমার মাথা ব্যাথা হলো যারা সমাজের কিট স্বরূপ তাদের লাথি দিয়ে দমন করার বদলে তাদের সমর্থন দেয়াটাও কিন্তু বোকামি আর পাগলামি ছাড়া কিছুই না।

মুফা যখব বিএনপিকে নিয়ে লেখলো তখন দেখলাম বিএনপির ভাইরা তার এত প্রশংসা আর তার লেখাগুলো এত শেয়ার দিল যে মুফা বড় কোন ব্যক্তি হিসেবে মাথা চাড়া দিতে থাকলো। একই ভাবে জামায়াত ও আওয়ামীলীগের ভেলাও একই অবস্থা। এর জন্য পাগল মুফা নিজেকে অনেক বড় কিছু ভাবতে থাকে।

আসলে মুফার মত গতিহীন মানুষ নিজেদের গতির জন্য নানা ঘাটে তরী ভীরায়। যখন যে ঘাটে যায় সেই ঘাটই যদি তার জন্য উচ্ছাঙ্ক্ষাকা দেখায় তবে এই গতিহীনদের দাম বেড়ে যায়।

মুফা হলো তেমনই এক ব্যক্তি যে আলোচনা-সমালোচনর মাধ্যমে সব সময় নিজেকে সবার সামনে তুলে ধরতে চায় এবং সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।