ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

বেশ কিছুদিন আগে এক বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠানে আমার এক ক্লাশমেটের সঙ্গে দেখা। মাঝে যোগাযোগ ছিল না। এখন দেখি চেহারায় দারুণ পরিবর্তন। মোচ চেঁচে দাড়ি রেখেছে। মাথায় অবশ্য টুপি নেই। কমিনিউটিসেন্টারে বড় সাউন্ড সিস্টমে গান বাজছিল। আমার ক্লাশমেটটি হঠাৎ উষ্মা প্রকাশ করে বলল, বিয়ের মত একটা পবিত্র অনুষ্ঠানে গানবাজনা- একদম নাজায়েজ কাজ। এসব বন্ধ করা উচিত।
আমার ক্লাশমেটটি একটি প্রাইভেট ইউনিভাসিটিতে ফার্মাস্টিতে পড়ছে। আধুনিক একটা ছেলে। আমি রীতিমত একটা ধাক্কা খেলাম। বললাম, কোথায় লেখা আছে গান হারাম?

ক্লাশমেটটি ক্ষেপে গেলো। সে আগে খুবই সহিষ্ণু ছিল। এখন দেখলাম খুব একরোখা। নিজের মতটাকেই চুড়ান্ত বলে জাহির করছে। আমি তাকে বললাম, তোমার ভালো লাগে না শুনবে না। অন্যের ভালো লাগে তারা শুনবে। ব্যস, হয়ে গেলো। ঝগড়া করে লাভ কি? সে বলল, তুমি অন্ধকারে আছো। আমি বললাম, একজন বিসমিল্লা খাঁ বা মোহাম্মদ রফি যিনি পাঠান তিনিই আবার তোমার মত একজন পাঠান!

সে এবার মেজাজ হারিয়ে ফেলল। আমি এক সময় কার্টুন আঁকতাম। কথায় কথায় সেকথা তুলে আমাকে আক্রমন করতে লাগলো। আঁকাআকি হারাম। ইসলামবিরধী কাজ। জাহান্নামি কাজ ইত্যাদি ইত্যাদি।

আমি তাকে এবার অতি বিয়নের সঙ্গে মনে করিয়ে দিলাম, প্রোফেটের প্রতীক ছিল ঈগল। তাঁর পতাকায় শোভা পেতো ঈগলের ছিল। তখনকার আরবের রীতি ছিল বিভিন্ন গোত্র বা দলের প্রতীক দেখে চেনা যেতো। তা, ইসলামের নবীর ঈগলটি কে এঁকে ছিলেন তখন? সেটা কি হারাম ছিল? সে এসব কিছুই কানে তুললো না। এক রোখার মত শুধুই গাইগুই করেত লাগলো।

সভ্যতা এগুচ্ছে না পিছিয়ে যাচ্ছে এই প্রশ্নটা মাঝেমাঝে আমার মনে জাগে। ছবি আর গানের মত নির্দোষ কাজগুলির পেছনে এদের লাগার অর্থ কি? ঠিক আছে আপনার পছন্দ নয়, আপনি করলেন না। শুনলেন না। নিজের নাক কেটে অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করা কি ঠিক। ব্যক্তি স্বাধীনতা অস্বীকার করে এমন কোন মতবাদ কখনই কাম্য নয়। তাছাড় প্রকৃতি সরু দেয় মানুষকে, মানুষ গায়। লালনকে বাধবে কে? আপনার বাড়ির পাশের কার্নিশে যে দোয়েল শিস দেয় তাকে?