ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

বাপকে চিনি, দেখলেই চেনা যায়। সেই পাকিস্তান আন্দোলন থেকে চেনা যায়। পোষাকে-আষাকে, চলনে-বলনে, কাজে-কর্মে- তাদের বাপকে চিনতে কষ্ট হয়নি কোনদিন। ধর্মের লেবাসে, নেকড়ের স্বভাবে, গোটা বাংলা চষে বেরিয়েছে পুরো পাকিস্তান আমল। ২৫ মার্চ, ১৯৭১- নেকড়ের দল ছিঁড়ে-খুড়ে খেয়েছে বাঙালির হাড়মজ্জা। নয় মাস কসাইখানা খুলেছে ছাপান্ন হাজার বর্গমাইলের যত্রতত্র। জানোয়ারদের মুখোপাত্র দৈনিক সংগ্রামের তখনকার সংখ্যাগুলিতে পাকিস্তান রক্ষার জন্য পাকিস্তানি বর্বর সামরীক জান্তার সঙ্গে মিটিং-পরামর্শের ছবি-খবর আজ দলিল হয়ে আছে। হিন্দু আর আওয়ামী লীগ খতম আর বাংলার সব নারী গণিমতের মাল- সোনার বাংলা শ্মশান হলো। আ্যালান গিনসবার্গ লিখলেন বিখ্যাত `যশোর রোড’ কবিতাখানি। বাংলার শামসুর রাহমান লিখলেন `তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা…’। কী না ত্যাগ করেছে মানুষ তাকে পাবার জন্য। কী না দেখেছে মানুষের বোবা দুচোখ দিয়ে। কী ভয়ংকর সেই চেহারা! কী ভয়ংকর সেই থাবা!

গোলামের বাচ্চা গোলাম! দাঁত দিয়ে গোয়াল ঘরের দড়ি ছিঁড়ে পালিয়ে ছিল যে শয়তান তাকে আবার ধরে ভরেছি খাঁচায়। আমি মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী প্রজন্ম তাই আমার ক্ষোভ আরো বেশী। মুক্তিযুদ্ধকে আমি আবেগ দিয়ে দেখি না দেখি ন্যায়-অন্যায়ের দাঁড়িপাল্লায়। তাই যখন দেখি ঘাতকের গাড়িতে আমার লাল-সবুজ পতাকা, দেখি শহীদবেদিতে ঘাতকের নোংরা হাত, দেখি মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনায় ঘাতকের বিদ্রুপ হাসি- আমি ক্ষোভে দুঃখে দেয়ালে পোস্টার সাঁটি- `রাজাকার তুই বাংলা ছাড়!’ আমি তাই রাষ্ট্রের কাছে চিৎকার করে দাবী জানাই,`এই জানোয়ারদের হত্যা করতে হবে’। আমি তাদেরকে চিনি, আমরা তাদেরকে চিনি, সারা বাংলা তাদেরকে চেনে। কিন্তু ছেলেকে? আমি আজকাল তাই সতর্ক হয়ে উঠি। মানুষ আর জানোয়ারে পার্থক্য খুঁজি। এরা চলনে-বলনে, পোষাকে-আষাকে একদম আধুনিক। মাদ্রাসা নয়, ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষায় শিক্ষিত। ক্লিন সেভড-স্যুটেট-বুটেট এই গোলামের বাচ্চারা ভিড়ে গেছে আমাদের সবার মাঝখানে। এরা অনেক বেশী স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ। ফেইসবুককে নিয়েছে এদের বিকৃতি প্রকাশের ক্ষেত্র হিসেবে। ব্লগে ঢুকে পড়েছে এরা এদের উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য। কী আস্পর্দা দেখো! কী নির্লজ্জ বেহায়া- ঘাতকদের পক্ষে শ্লোগান দেয় স্বাধীন বাংলায়! বলে এটা রাজনৈতিক বিচার। প্রহসের বিচার। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার! মত প্রকাশের স্বাধীনতা মানে কি ন্যায়-অন্যায়ের মাঝে কোন ফারাক না রাখা। গণহত্যা কোনদিন তামাদি হয় না। হত্যাকারীকে কবর থেকে তুলে কঙ্কালকে ফাঁসি দিতে হয়। নইলে দালালদের সন্তান আর সুবিধা গ্রহণকারীরা এভাবে বেড়ে উঠবে ফসলের ক্ষেতে আগাছার মত। সোনার বাংলায় আগাছা নয় সোনার ফসল চাই। তাই, হে বিবেক, হে মনুষত্য,- জাগো! বাংলাদেশ রাজাকার মুক্ত করো! চিনো এবং চিনিয়ে দাো সব গোলামের বাচ্চাদের।