ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

অনেকে প্রশ্ন করেন ভালোবাসা কি? আমি নিজেও জানিনা ভালোবাসা কি? আমার মনে প্রশ্ন আসে সত্যি ভালোবাসা কি? আপনি কাউকে প্রশ্ন করবেন “বলুন তো ভালোবাসা কি”? প্রশ্নের উত্তর দিতে দেখবেন, অধিকাংশ মানুষ মনে করবে নিশ্চয় নর-নারীর মাঝের সম্পর্কের কথা বলছে।যদিও আমার আজকের আলোচনার বিষয় ঐ নরনারীর মাঝের সম্পর্ক নিয়েই।তবে ভলোবাসা এর বাইরে আরো কিছু। আবার কেউ মনে মনে এটি অনুধাবন করলেও দেখবেন সে ভাব নেবার জন্য বলবে “ভালোবাসা হল একটি মানুষের প্রতি আর একটি মানুষের ভালোবাসা”। আসলে কি সত্যি তারা এটি ভাবছে? অনেকে আমাকে প্রশ্ন করতে পারেন আপনি কিভাবে বুঝলেন যে, আসলে এটি সে ভাবছে না? উত্তরে শুধু আমি বলবো যে, এটি শুধুমাত্র আমার নিজস্ব ধারনা। এ উত্তর শুনে অনেকে রেগে হয়ত বলবে চান্দু তুমি ভালোবাসার কি জান। আসলে এক্ষেত্রে সত্যি বলছি আমি ভলোবাসার কিছু জানিনা। তবে আপনি একটু খেয়াল করলে দেখবেন যদি আপনি কোন ছোট শিশুকে বলেন, বাবু তুমি কাকে ভালোবাসো? উত্তরে সে নিশ্চিত ভবে বলবে মা অথবা বাবার কথা। এক্ষেত্রে আর একটা প্রশ্ন আসতে পারে যে ওতো নিতান্ত শিশু। এর উত্তরে আমি বলতে পারি নিতান্ত শিশু হলেও ঐ জানে ভালোবাসা কারে কয়?ওর উত্তরে মাঝে কোন কিন্তু কিংবা সন্দেহ বোধ বা কাউকে খুশি করার বিষয়টি নাই। আর এভাবেই যে কোনো সম্পর্কে যদি নির্দ্বিধায় এটা বলতে পারি তবেই সেটা হবে ভালোবাসা।

আমরা যারা নতুন যুগের কর্ণধার তারা অতীত নিয়ে তেমন ঘাঁটতে চাই না। কল্পনা ও করতে পারিনা ভালোবাসা অতীতে কেমন ছিল? তারপর বিভিন্ন মাধ্যম গল্পের বই, নাটক, চলচিত্র এগুলোর অনেক গুলোই অতীত কে কেন্দ্র করে তৈরি। আর সেখান থেকেই আমরা জানতে পারি ভালোবাসা অতীতে কেমন ছিল কিংবা ধারনা নিতে পারি? যেমন কিছু উদাহরণ দিই। অতীতের ভালোবাসা প্রায় ছিল পুরুষ কেন্দ্রিক। যেমন হঠাৎ করে কোন রূপসী নাড়ির সামনে দেখা হওয়া। এক্ষেত্রে দৃশ্য অংকন করতে গেলে দেখবেন ছেলেটি মেয়েটিকে প্রথম দেখায় ভালোবাসলেও না বলে পালিয়ে যায়। কিন্তু পরে লোকচক্ষুর আড়ালে খোঁজ নিয়ে দেখে সে তার আওতায় সে আছে কী না, তবেই সে সামনে আগায়। অনেক সময় বলতে পারে আবার অনেক সময় বলতে পারে না তার মনের কথা শুধু দূর থেকে ভালোবেসে যায়। আমার কাছে এটা অপার রোমান্টিকতা। আবার মেয়েদের ক্ষেত্রে দেখবেন অতীতে তাদের ভালোবাসার পুরুষ গুলো বেশিভাগ ছিল তাদের আত্মীয়-স্বজন অথবা তার পরিচিত কেউ।তারা না পারতো প্রকাশ করতে, না পারতো গোপন রাখতে। সাদ্ধে থাকলে অনেকে ভাগ্যের জোরে প্রকাশ করতে পারতো। কিন্তু সেখানে লুকিয়ে থাকতো চরম লাজুকতা ও পবিত্রতা। এবার একটা মুভির কথা বলি “রোমান হলিডে”। যদি ভাগ্যক্রমে কেউ এই পুরানো অসাধারণ মুভিটা দেখে থাকেন তবে শেষ চিত্রে গিয়ে নিশ্চিত দেখেছিলেন কর্তব্য আর দায়িত্ব বোধ কিভাবে ভালোবাসাকে চিন্তে সাহায্য করে। সাময়িক মোহই ভালোবাসা নয়, যেখানে কর্তব্য আর ভাললাগা এক হতে পারে সেখানেই সৃষ্টি হয় ভালোবাসা। প্রসঙ্গটা আনলাম কারণ আমাদের অতীতের বাঙ্গালী নাড়ি ও পুরুষ ভালোবাসাকে ঠিক এভাবেই চিন্তা করতো।তো বলতে পারি অতীতে ভালোবাসা ছিল ছাঁকনিতে ছাঁকা ভালবাসা।তবে মনে রাখবেন কিছু ব্যতিক্রম সব জায়গায় আর সব যুগেই ছিল এবং স্বীকার করি।

এবার যে প্রসঙ্গ কথা বলছি সেটাই আসি, সমসাময়িক ভালোবাসা। অনেকটা গ্লানির সাথে বলতে হয় ভালোবাসার এখন আর রূপের সৌন্দর্যতা নয় রূপের ভোক্তা। এটি অনেকটা আঙ্গুর তাজা খাওয়া আর আঙ্গুর পচিয়ে খাওয়া (উপর্যুক্ত শব্দ ব্যাবহার করলাম না)মধ্যে পার্থক্য বিশেষ, যদিও আঙ্গুর খুব সুস্বাদু। পূর্বের কবি সাহিত্যিকরা ও কিন্তু রূপের গুণকীর্তন করেছে। সেখানে ছিল নির্ভেজাল রুপের কথা, অপবিত্রতার মুখোশ ছিলোনা। হুম, আমি ও অন্যান্য কবি সাহিত্যিকদের মতো মনে করি আগে রুপ আচারী তারপর গুন বিচারী। কিন্তু এটা থেকে বিশ্ব প্রেমিক হতে পারিনা। যাকে তাকে ভাল লাগল আর বললাম ভালবাসি। আবার দুই দিন পরে আর একজনকে ভল লাগলে তাকেই আবার ভালোবাসলাম। ভাল লাগতে পারে অনেককে কিন্তু ভাল লাগার পরত মন দেয়া নেয়া কি সবার সাথে হয়। কিন্তু বর্তমান অবস্থা দেখলে মনে হয় এটাই যেন নিয়ম। এখন ভালোবাসার কোন বাছবিচার নাই, নাই কোন বয়স। পঞ্চম শ্রেণীতে উঠতেই ভালোবাসা যেন গজিয়ে উঠছে। তারপর অনেক দুর্ঘটনা, থাকেনা সম্পর্ক পিতামাতার সাথে, হয়না ঠিকভাবে ঘরবাঁধা, কখনো কখনো ডুবে যেতে হয় অতল অন্ধকার গহ্বরে। হুম, যেটা হয় সেটা হল লালসার লাল লিপ্সা। এতো না হয় গেলো কচি বয়েসের ভালোবাসার কথা। কিন্তু যারা প্রাপ্ত বয়স্ক তারাও কি ঠিক পথে এগুচ্ছে? আমি বলবো না। এখন এ যুগে আলট্রা মডার্ন ছেলে মেয়েরা কোন সম্পর্কে যাবার আগেই তৈরি করে আর এক না বলা সম্পর্ক। এটাকে কি বলবেন বৈধ সম্পর্ক? অনেক সময় দেখা যাই এ ধরণের সম্পর্কের পুনরাবৃত্তি ঘটলেও তারা থাকে নির্বাক। যেন কিছুই ঘটেনি। আমি বলবো এটাকে “হায়রে ভালোবাসা”। নিজেকে বিকায় দেয়া অথবা বিক্রি হওয়া কে যদি কেউ বলে আধুনিকতা তবে আমি সেখানে পাগল। তবে এক্ষেত্রে আমি আবার বলি ব্যতিক্রম সব জায়গায় ছিল এবং স্বীকার করি। আমার এখানের কথা গুলো শুধু খারাপ দিকগুলো নিয়ে। কিন্তু ভাল সব সময় ভাল।

ভালোবাসার একটি নিজস্ব বয়স আছে। সময়ের আগেই কোন ফল পাওয়া যায়না। এখনকার দিনে ভালোবাসার ক্ষেত্রে কোন বয়স বিচার করা হয়না। যেন বয়সটা কোন ব্যাপারই না। বুঝতে শেখার আগে, ম্যাচুরিটি আসার আগেই তারা কঠিন কঠিন সব সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সেটা হয় ভুল, কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো তাদের জীবন নিয়ে পরে টানাপোড়া। যেখানে জীবনের এসকল গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা ছিল তাদের মা-বাবা ও তার পরিবারের। সেক্ষেত্রে তারা নিজারাই তো নিজেদের কষ্ট দেয়, পরিবারকেও কষ্টে রাখে। অনেক সময় তারা তাদের জীবনের সমাপ্তির পথ বেঁচে নেয়। তবে এক্ষেত্রেও আছে অনেক কিন্তু। অনেক মা-বাবা এমনকি তাদের পরিবারের কাছেও সুখে থাকার একটি ইউনিট হল ধনসম্পত্তি, বাড়ি-গাড়ি, বিদেশ ভ্রমণ, প্রবাসী পাত্রপাত্রী ইত্যাদি। কিন্তু সব সুখ কি ওখানে থাকে? এমন চিন্তা থেকেই জন্ম দেয় আরও অনেক হৃদয় বিদারক ঘটনার। উচ্চ পরিবারে বিয়ে দেয় যেখানে টাকা পয়সা কিংবা ধন সম্পত্তির কোন অভাব নাই। অথচ দেখা যায় সেখানেই তারা পেতে পরে এবং বাস্তবে পাচ্ছে যৌতুক, মাদকাসক্ত, দুশ্চরিত্র কিংবা চরিত্রার খোঁজ। তবে সেখানে তারা ভালোবাসার বদলে টাকা পয়সার ও অনাচার অত্যাচারসহ দুর্বিষহতার সাথে ঘর সংসার করবে। এছাড়া ও কিছু যান্ত্রিক মানুষিকতা ও দায়ী থাকে অনেক ক্ষেত্রে। যেমন ২৪ ঘণ্টা কাজে নিমজ্জিত থাকা, আধুনিকতার বলয় থেকে বের হতে না পারা, অপরিচিত সামাজিক ব্যবস্থার সাথে মানিয়ে নেয়া ইত্যাদি। তাই আমি উভয় ক্ষেত্রে বলবো ভালোবাসা হওয়ার ও পরার মধ্য কিছু সময় অতিবাহিত হতে দেয়া আবশ্যক। তবে বেশি পরীক্ষা নিরীক্ষা না করাই উচিৎ। যেহেতু বাহ্যিক রূপটাকে আমরা প্রাধান্য দিই সেক্ষেত্রে প্রথমে বাইরের অবস্থায় প্রথমে যাচাই করি। মন দেয়া নেয়ার ব্যাপারে একটু বেশিই না হয় সময় ও সতর্কতা দিলাম। আর গুরুজনদেরও ভালবাসার জন্য ইউনিট ঠিক করা থেকে বিরত হওয়া এবং সঠিক ইউনিট ঠিক করা উচিৎ তাদের সন্তানদের সুখের দিকে চেয়ে। তবে আবার বলবো ভালোবাসার কোন ইউনিট হয়না। আর একটা কথা না বললেই নয় যে, আমার বেশি ব্যতিক্রম যেন না খুঁজি। জানবেন অধিকাংশ ক্ষেত্রে যাই স্বাভাবিক নয় তাই ব্যতিক্রম।