ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

 

আমার মতে ঢাকা মহানগরীর যানজট সমস্যার অন্যতম প্রধান কারন হইল ঢাকার রাস্তায় ঘন ঘন ক্রসিং পয়েন্ট থাকা এবং ক্রসিং পয়েন্ট মুখী সবগুলি রাস্তায় ট্রাফিক সিগনালের কারনে গাড়ি জমে প্রবল যানজটের সৃষ্টি করে। ঢাকা মহানগরীর শতকরা ৭৫% যানজট মূলত এই কারনে সৃষ্টি হয়।

সমাধানের উপায়:
ঢাকা মহানগরীর প্রধান প্রধান সড়ক গুলির বর্তমান ট্রাফিক সিগনাল পদ্ধতি উঠাইয়া দিয়া যদি গাড়িগুলোকে আমরা বাঁধাহীনভাবে চলাচলের সুযোগ সৃষ্টি করিয়া দিতে পারি তবে ঢাকা মহানগরীর যানজট সমস্যার সমাধান খুব সহজেই করা যাইবে। অর্থ্যাৎ এই পদ্ধতিটি বাস্তবায়িত হইলে আপনাকে গাড়ি নিয়ে আর কোন ক্রসিং পয়েন্টে ট্রাফিক সিগনালের কারনে থামতে হবেনা। আমার মতে এই পদ্ধতিটি খুব সহজেই বাস্তবায়ন করা যাবে।

প্রধানত দুইটি পদ্ধতির সমন্বয়ে এই অকল্পনীয় ও অবিশ্বাস্য সমাধানটির সহজ বাস্তবায়ন করা যাবে।

প্রথম পদ্ধতি: শুধুমাত্র গাড়ির চলার পথ নির্দিষ্ট করে দিয়েই অর্থাৎ গাড়ি কোন পথে যাবে আর কোন পথে আসবে তা নির্দিষ্ট করে দিয়েই উপরের পদ্ধতিটির বাস্তবায়ন করা যাবে। এই প্রথম পদ্ধতিটিকে ওয়ান ওয়ে পদ্ধতিও বলা যায়, কারন, যে সকল এলাকায় এই প্রথম পদ্ধতিটি বাস্তবায়িত হইবে সেই সকল এলাকার অধিকাংশ রাস্তাই ওয়ান ওয়ে হয়ে যাবে। এই প্রথম পদ্ধতিটি বাস্তবায়িত করে মাত্র ২/৩ মাসের মধ্যেই ১০০ কোটি টাকার ও কম খরচ করে ঢাকা মহানগরীর প্রায় অর্ধেক যানজট নিরসন করা সম্ভব।

দ্বিতীয় পদ্ধতি: ঢাকা মহানগরীর যে সকল রাস্তায় প্রথম পদ্ধতিটি বাস্তবায়ন করা যাবে না সেই সকল রাস্তায় দ্বিতীয় পদ্ধতিটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে অবশিষ্ট এলাকার যানজট নিরসন করা যাবে। এই পদ্ধতিটি বাস্তবায়নের জন্য কতকগুলি বিশেষ ধরনের ওভার পাস নির্মান করতে হইবে যার প্রতিটির গড় দৈর্ঘ্য হইবে ৩৫০ মিটারের মতো। এই ওভার পাস গুলি হইবে দুই লেইন বিশিষ্ট ও একমুখী এবং প্রতিটির গড় নির্মান খরচ পড়বে প্রায় ২৫ কোটি টাকার মতো। সর্বাধিক ১০০টির মতো ওভার পাস নির্মান করার প্রয়োজন হতে পারে অবশিষ্ট এলাকার যানজট নিরসনের জন্য।
উপরোক্ত দুইটি পদ্ধতির সমন্বয়ে মহানগরীর রাস্তায় কিভাবে গাড়ীর বাঁধাহীন চলাচল নিশ্চিত করে মহানগরীকে যানজট মুক্ত করা যায় তা একটি রোড ম্যাপের নকশার সাহায্যে পরিষ্কার ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। রোড ম্যাপের নকশাটিতে তীর চিহ্নের সাহায্যে গাড়ির চলার পথের দিক নির্দেশনা বুঝানো হয়েছে।

Md ashadur rahman mollah