ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

মাননীয় মন্ত্রী বাবু সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, আপনাকে আমি আপনার দলের অনুসারী না হয়েও (বর্তমানে কোন দলেরই অনুসারী না ) ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করতাম আপনার কতগুলি গুনের কারনে যেমন-আপনি খুবই স্পষ্টবাদী , দলের জন্য বিব্রতকর হলেও অনেক অপ্রিয় সত্য কথা আপনি অকপটে বলে ফেলতেন বলে আমার কাছে সত্যবাদী বলেও মনে হতেন এবং আপনি বাংলাদেশের যে কয়জন অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান আছে তাদের মধ্যে অন্যতম এবং আপনার কথা বলার অপূর্ব ভঙ্গিমা আমাকে খুবই আকর্ষন করত।

আপনার সুদীর্ঘকালের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা আমাদের দেশের বর্তমান তরুন রাজনৈতিক শিক্ষানবীশ ও ভবিষ্যতে রাজনীতিতে আসার অপেক্ষারতদের জন্য এক বিরাট শিক্ষা উপকরন হিসাবে আমার কাছে বিবেচিত ছিল এযাবৎকাল এবং আপনি চাইলে ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখতে পারেন । প্রশ্ন জাগতে পারে তা কেমন করে সম্ভব? হা বলছি, আপনি অল্প সময়ের জন্য মন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে যে দুর্নীতি করেছেন তা পুরোপুরি প্রকাশ করে দিয়ে এবং যতটুকু দূর্নীতি করেছেন তার জন্য যতটুকু উপযুক্ত শাস্তি আপনার প্রাপ্য তা স্বেচ্ছায় বরন করে নেওয়ার সৎসাহস দেখানোর মাধ্যমে তা আপনি করতে পারেন অনায়াসে এবং এই কাজটা করার মাধ্যমেই আপনি পারবেন আপনার হারানো সম্মান ও আপনার প্রতি আমার মত মানুষের সরল বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে। কারন দীর্ঘ ৫৫ বৎসরের রাজনৈতিক জীবনে আপনি‍‍‍‍‍ যা কিছু অর্জন করেছেন তা মাত্র অল্প কয়দিনের মন্ত্রিত্বের কারনে ভূলুণ্ঠিত হতে পারে না । তাছাড়া আপনার সামনে আর কোন খোলা পথ নেই দুর্নীতির দায় উতরে‍ যাবার মতো। কারন আপনি‍ যে রেলওয়ে দূর্নীতির সাথে জড়িত এব্যাপারে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই এদেশের আপামর জনসাধারনের । এখন বিশ্বব্যাংক তদন্ত করেও যদি বলে সুরঞ্জিত বাবু দুর্নীতি করে নাই তবুও কেউ আর একথা বিশ্বাস করবে না । আর আপনাকে আমার এই প্রস্তাবটি দেওয়ার কারনটি একটু খোলাসা করে বলি-আপনি যেহেতু দূর্নীতি করে ধরাই পড়েছেন সেহেতু আপনি‍ যদি আপনার সমস্ত দূর্নীতি স্বেচ্ছায় প্রকাশ করে দেন তবে আমাদের পক্ষে একজন মন্ত্রী পাচ বছরে দূর্নীতির মাধ্যমে কত টাকা উপার্জন করতে পারেন তা সহজেই বের করা সম্ভব হবে । তাছাড়া বাংলাদেশের মন্ত্রী-এমপিরা কি পরিমান দূর্নীতি করে তা বের করার বা জানার আর কি বা উপায় আছে এদেশের অতি সাধারন জনগনের কাছে বলুন? এই কথা বলছি এই কারনে‍ যে, জনগনের কষ্টের টাকায় পরিচালিত দূর্নীতি দমন কমিশন নামের‍‍ যে একটি প্রতিষ্ঠান আছে তার নামকরনটি আসলে ভুলবশত হয়েছে বলেই আমার ধারনা । এই প্রতিষ্ঠানটির আসলে নাম হওয়া উচিত ছিল দূর্নীতি মোচন কমিশন।

আর আপনাকে বলেছি‍ যতটুকু দূর্নীতি করেছেন ততটুকু দুর্নীতির শাস্তি স্বেচ্ছায় মাথা পেতে নিতে কারন আপনি তো অল্প সময়ে খুব বেশী দূর্নীতি করতে পারেন নাই , তাই আপনার শাস্তিও খুব বেশী একটা হবেনা, তাছাড়া দলীয়করণের সুফল তো কিছু পাবেনই । তাই বলছি, সাহস করে যদি এই মহতি উদ্যোগটি আপনি নেন তবে উপরে বর্ণিত রাজনীতিকদের জন্য যে শিক্ষাটি হবে তা হলো আপনার এতো অল্প দূর্নীতির জন্য আপনার জন্য যে শাস্তি নির্ধারিত হবে সেই তুলনায়‍ যারা অনেক বেশী দূর্নীতি করে থাকে ধরা পড়লে তাদের কি পরিমান শাস্তি হতো বা হওয়া উচিত তা তাদের জন্য একটি হাতে কলমে শিক্ষা নেওয়া হবে বৈ কি । আর আমাদের জনগনের জন্যও এ শিক্ষা ভবিষ্যতে দূর্নীতি বিরোধী আন্দোলনের জন্য পাথেয় হয়ে থাকবে আর আপনি দূর্নীতি করে শাস্তী ভোগ করেও সেই দূর্নীতি বিরোধী আন্দোলনের অগ্রপথিক হয়ে থাকবেন চিরকাল । অবশেষে বলব আপনার ঘুমন্ত বিবেক জাগ্রত হউক । উদয় হউক দূর্নীতি বিরোধী মনোভাবের অসীম সাহসী ড্রাইভার আজম খানের মতো যে হবে একদিন দূর্নীতি বিরোধী আন্দোলনের সুপারমডেল । হয়ত এমন একদিন আসবে ‍যেদিন দূর্নীতি বিরোধী মনোভাব উজ্জীবিত করতে এদেশের তরুনেরা গায়ে পড়বে দূর্নীতি বিরোধী সুপারমডেল ড্রাইভার আজন খানের ছবি সম্বলিত টিশার্ট। এমন একটি টিশার্ট আমি চাই মাননীয় মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের জন্যও ।