ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

যাত্রাবাড়ি-গুলিস্থান ফ্লাইওভার নির্মান প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে অপরিকল্পিত ও অদূরদর্শী ব্যবস্থাপনার এক বিরল দ্রিষ্টান্ত স্হাপন করেছে ফ্লাইওভার নির্মানকারী প্রতিষ্ঠান ‍‍‌। যাত্রাবাড়ি ঢাকা মহানগরীর প্রধান প্রবেশধার হওয়া সত্বেও তিনটি বিভাগীয় শহরের বিপুল পরিমান গাড়ীর ঢাকা মহানগরীতে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার কোনরূপ বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহন না করিয়াই নির্মানকারী প্রতিষ্ঠান ফ্লাইওভার নির্মান কাজ শুরু করে, ফলে নাগরিক জীবনে শুরু হয় এক অবর্ণনীয় ও অসহনীয় মাত্রার তীব্র যানজটের । এই যানজট বর্তমানে এতটাই প্রকট আকার ধারন করেছে যে চিটাগাং রোড থেকে গুলিস্থান পর্যন্ত মাত্র ৭কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে দিনের অধিকাংশ সময় জুড়েই চার-পাচ ঘন্টা পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে । আরও উদ্বেগের বিষয় হলো এই ফ্লাইওভার নির্মানের উদ্দেশ্য নিয়ে । যেভাবে ফ্লাইওভারে উঠা-নামার জন্য রেম্প গুলি নির্মান করা হচ্ছে ,তা দেখে মনে প্রশ্ন জাগছে যে, ফ্লাইওভারের নীচ দিয়ে রিকসা ছাড়া আর কোন গাড়ি চলাচল করতে পারবে কি না ?

ফ্লাইওভারের নীচ দিয়ে গাড়ির স্বাভাবিক চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সিরিষ্টির উদ্দেশ্যেই কিছু রেম্প নির্মান করা হচ্ছে বলে আমার কাছে প্রতীয়মান হয়, যেমন-স্বামীবাগ কবরস্থান ও রাজধানী সুপারমার্কেটের মাঝখানের রেম্পটি রাজধানী সুপারমার্কেট সংলগ্ন মন্দির ও টিকাটুলি পুলিশফাড়ির মাঝখানের রাস্তা দিয়া নির্মিত হলে টিকাটুলির প্রধান সড়কটি দিয়া সায়েদাবাদ মুখী ও দয়াগন্জমুখী গাড়ি গুলি স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারত যা বর্তমানে প্রায় অসম্ভব । অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে যে, যাত্রাবাড়ি দিয়ে চলাচলকারী সকল গাড়িকেই বাধ্যতামূলকভাবে ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে চলাচল করতে হবে, তা প্রয়োজন থাকুক বা না থাকুক । কারনটা তো সোজা, ফ্লাইওভারে উঠাতে পারলেইতো টোল দিতে হবে আর টোল মানেইতো টাকা অর্থ্যাৎ জনগনের পকেট কেটে টাকা বের করে আনা আর কি ! অথচ যাত্রাবাড়ি চৌরাস্তামুখী রাস্তাগুলিতে গাড়ির রুট সামান্য একটু এদিক-সেদিক পরিবর্তন করে রাস্তাগুলিকে ওয়ানওয়ে রাস্তায় রুপান্তর করা যায় । আর এই রাস্তা গুলিকে ওয়ানওয়ে রাস্তায় পরিবর্তন করার ফলে যাত্রাবাড়ি-সায়েদাবাদ এলাকার বর্তমানের ক্রসিংপয়েন্ট গুলি দিয়া কোন রকম ট্রাফিক সিগনালের সম্মুখিন না হয়েই বাধাহীন ভাবে গাড়িগুলি চলাচল করতে পারবে অর্থ্যাৎ যাত্রাবাড়ি চৌরাস্তা ও সায়েদাবাদ তিন রাস্তার মোড়ে ট্রাফিক সিগনালের কারনে কোনদিকের গাড়ির আর থামার দরকার হবে না । ফলে এই এলাকায় ট্রাফিক সিগনালের কারনে গাড়ি জমে যানজট লাগার সুযোগ থাকবে না । এখন এই ওয়ানওয়ে পদ্ধতি কিভাবে বাস্তবায়ন করা যাবে তার বর্ননা খুব মনোযোগ সহকারে পড়ুন, সম্ভব হলে অত্র এলাকার নকশা থাকলে আমার বর্ননার সাথে মিলিয়ে দেখুন । আর এই এলাকার রাস্তাঘাট গুলি যারা ভালভাবে চিনেন তারা সহজেই তা বুঝতে পারবেন ।

আমরা সকলেই জানি যে এই এলাকার সব রাস্তাই টু ওয়ে পদ্ধতির । আমার প্রস্তাবিত এই ওয়ানওয়ে পদ্ধতির নূতন রুটগুলি হবে নিন্মরুপ- বর্তমান যাত্রাবাড়ি কাচাবাজারের পূর্বদিক দিয়া যাত্রাবাড়ি-ঢেমরা সড়ক থেকে বৌবাজারের ভিতর দিয়া আসা সংযোগ সড়কের দক্ষিন প্রান্ত থেকে অর্থ্যাৎ ফ্লাইওভার যেখান থেকে শুরু সেইখান থেকে এই একমুখী বা ওয়ানওয়ে পদ্ধতির রাস্তা শুরু হইয়া যাত্রাবাড়ি পর্যন্ত ,তারপর যাত্রাবাড়ি হইতে ধোলাইর পাড় পর্যন্ত,আবার ধোলাইর পাড় থেকে মীরহাজির বাগের ভিতর দিয়া দয়াগন্জের তিনরাস্তার মোড় হইয়া সায়েদাবাদ ব্রীজ পর্যন্ত, আবার সায়েদাবাদ ব্রীজ থেকে সায়েদাবাদ তিনরাস্তার মোড়(জনপথ মোড়) পর্যন্ত । এরপর জনপথ মোড় বা সায়েদাবাদ তিনরাস্তার মোড় থেকে গোলাপবাগ ষ্টেডিয়াম পর্যন্ত । আবার গোলাপবাগ ষ্টেডিয়ামের দক্ষিন দিক দিয়া ধলপুর কমিউনিটি সেন্টার হইয়া সায়েদাবাদ ব্রীজ পর্যন্ত । তারপর সায়েদাবাদ ব্রীজ হইতে যাত্রাবাড়ি থানার উত্তর দিক দিয়া ঢেমরা সড়ক দিয়া কিছুদুর ঢেমরার দিকে অগ্রসর হইয়া যাত্রাবাড়ি কাচাবাজারের পূর্বদিক দিয়া বউবাজারের ভিতর দিয়া চলে যাওয়া সংযোগ সড়কের উত্তর প্রান্ত পর্যন্ত এবং এই উত্তর প্রান্ত থেকে সংযোগ সড়কটির দক্ষিন প্রান্ত পর্যন্ত এই ওয়ানওয়ে রাস্তাটির সীমারেখা হইবে । আর শহীদ ফারুক সড়কটি হইবে যাত্রাবাড়ি ও দয়াগন্জ এর মাঝের সংযোগ সড়ক এবং টু ওয়ে পদ্ধতির । এখন আসি এই ওয়ানওয়ে রাস্তা দিয়া কিভাবে গাড়ি চলাচল করবে তার বর্ননায়। যেখান থেকে ওয়ান ওয়ে রাস্তার বর্ননা শুরু করেছিলাম সেখান থেকে গাড়ি চলাচলের বর্ননাও শুরু করলাম অর্থ্যাৎ চিটাগাং রোডের দিক থেকে আসা গাড়ি ও ঢেমরার দিক থেকে সংযোগ সড়ক হয়ে সংয়োগ সড়কের দক্ষিন প্রান্তে এসে ডানদিকে টার্ন করা যাত্রাবাড়ি মুখী গাড়ি গুলি শুধুমাত্র ফ্লাইওভারের পূর্বপ্রান্ত থেকে শুরু হওয়া ওয়ানওয়ে রাস্তা দিয়া ফ্লাইওভারের উভয় পাশ দিয়া যাত্রাবাড়ি পর্যন্ত যাবে ।
যাত্রাবাড়ি থানার পুরাতন ভবনের পশ্চিম প্রান্তে এসে গাড়িগুলি দু,ভাগ হয়ে একভাগ ডানদিকে ইউটার্ন করে ঢেমরার দিকে চলে যাবে, আরেক ভাগ বামদিকে টার্ন করে ধোলাইর পাড়ের দিকে চলে যাবে যারা এতদিন সোজা পথে সায়েদাবাদের দিকে ও শহীদ ফারুক দিয়া পুরাতন শহরের দিকে যাইত। তারপর বুড়িগংগা দ্বিতীয় সেতু বা পোস্তগোলার দিক থেকে আসা গাড়ি গুলি ও যাত্রাবাড়ির দিক থেকে আসা গাড়িগুলি একত্রে ধোলাইর পাড় হইতে যে রাস্তাটি মীরহাজির হয়ে দয়াগন্জের দিকে চলে গেছে সেই রাস্তা দিয়া দয়াগন্জের তিনরাস্তার মোড় পর্যন্ত যাবে । তিনরাস্তার মোড়ে গাড়ি গুলি দু,ভাগ হয়ে একভাগ সোজা পশ্চিমদিকে পুরাতন শহরের দিকে চলে যাবে , অন্যভাগ ডানদিকে টার্ন করে পুরাতন শহরের দিক থেকে আসা বামদিকে টার্ন করা গাড়ির সাথে মিশে সোজা সায়েদাবাদ ব্রীজের দিকে যাবে । এই গাড়িগুলি থেকে কিছু গাড়ি আবার শহীদ ফারুক সড়ক দিয়া যাত্রাবাড়ি হইয়া ধোলাইর পাড়ের দিকে যেতে পারবে কিন্ত ঢেমরার দিকে যেতে পারবে না। অন্যদিকে সায়েদাবাদ ব্রীজের দিকে আসা গাড়িগুলি সায়েদাবাদ ব্রীজে এসে দু,ভাগ হয়ে একভাগ ডানদিকে টার্ন করে যাত্রাবাড়ির দিকে চলে যাবে আর অন্যভাগ ধলপুর কমিউনিটি সেন্টারের দিক থেকে আসা ডানদিকে টার্ন করা গাড়ির সাথে মিশে সায়েদাবাদ তিনরাস্তার (জনপথ)মোড়ের দিকে যাবে ।

জনপথ মোড় বা তিন রাস্তার মোড়ে এসে গাড়ি গুলি আবার দু,ভাগ হয়ে একভাগ সোজা পশ্চিমে রাজধানী সুপারমার্কেটের দিকে চলে যাবে আর অন্যভাগ ডানদিকে টার্ন নিয়ে রাজধানী সুপারমার্কেট ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে আসা বামদিকে টার্ন নেওয়া গাড়ির সাথে মিশে জনপথ দিয়ে সোজা কমলাপুরের দিকে চলে যাবে। গাড়িগুলি গোলাপবাগ ষ্টেডিয়ামের কাছে আসার পূর্বে কিছু গাড়ি বামদিকে টার্ন নিয়ে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে ঢুকে পড়বে এবং অবশিষ্ট গাড়িগুলি গোলাপবাগ ষ্টেডিয়ামের কাছে এসে আবার দু,ভাগ হয়ে যাবে । একভাগ সোজা কমলাপুরের দিকে চলে যাবে আর অন্যভাগ ডানদিকে টার্ন নিয়ে কমলাপুরের দিক থেকে আসা ও বামদিকে টার্ন নেওয়া গাড়ির সাথে মিশে গোলাপবাগ ষ্টেডিয়ামের দক্ষিনের রাস্তা দিয়া ধলপুর কমিউনিটি সেন্টারের সামনে দিয়া সায়েদাবাদ ব্রীজের দিকে আসবে। সায়েদাবাদ ব্রীজের সামনে এসে গাড়িগুলি আবার দু,ভাগ হয়ে যাবে। একভাগ ডানদিকে টার্ন নিয়ে দয়াগন্জের দিক থেকে আসা বামদিকে দিকে টার্ন নেওয়া গাড়ির সাথে মিশে জনপথ মোড়ের দিকে যাবে আর অন্যভাগ বামদিকে টার্ন নিয়ে দয়াগন্জের দিক থেকে আসা ডানদিকে টার্ন নেওয়া গাড়ির সাথে মিশে যাত্রাবাড়ির দিকে চলে যাবে। গাড়িগুলি যাত্রাবাড়ি এসে আবার তিনভাগ হয়ে যাবে। একভাগ ডানদিক ইউটার্ন নিয়ে শহীদ ফারুক দিয়া সড়কের পশ্চিম প্রান্তে গিয়া ডানদিকে টার্ন করে সায়েদাবাদ ব্রীজর দিকে চলে যাবে কিন্ত বামদিকে টার্ন নিয়ে পুরাতন শহরের দিকে যেতে পারবে না, দ্বিতীয় ভাগ যাত্রাবাড়ি চৌরাস্তা থেকে ডানদিকে টার্ন নিয়ে চিটাগাং রোডের দিক থেকে আসা বামদিকে টার্ন নেওয়া গাড়ির সাথে মিশে ধোলাইর পাড়ের দিকে চলে যাবে। আর অবশিষ্ট ভাগের গাড়ি গুলি চিটাগাং রোডের দিক থেকে আসা পুরাতন থানা ভবনের পশ্চিম দিক দিয়া ঢেমরা রোডের দিকে টার্ন করা গাড়ির সাথে মিশে ঢেমরার দিকে কিছুটা অগ্রসর হইয়া সংযোগ সড়কের উত্তর প্রান্তে এসে আবার দু,ভাগ হয়ে যাবে। একভাগ সোজা ঢেমরার দিকে চলে যাবে আর অন্যভাগ ডানদিকে টার্ন করে ঢেমরার দিক থেকে আসা বামদিকে টার্ন করা গাড়ির সাথে মিশে সংযোগ সড়ক দিয়ে গিয়ে সংযোগ সড়কের দক্ষিন প্রান্তে আবার দু,ভাগ হয়ে একভাগ বামদিকে টার্ন করে ফ্লাইওভারের ওপর থেকে আসা গাড়ির সাথে মিশে সোজা চিটাগাং রোডের দিকে চলে যাবে আর অন্যভাগ ডানদিকে টার্ন করে ফ্লাইওভার ও কাচাবাজারের মাঝখানের রাস্তা দিয়া কিছুটা অগ্রসর হইয়া ফ্লাইওভারের নীচ দিয়া চিটাগাং রোডের দিক থেকে আসা গাড়ির সাথে মিশে যাত্রাবাড়ির দিকে যাবে । যাত্রাবাড়ি চৌরাস্তা এসে গাড়ি গুলি পূর্বের ন্যায় ভাগ হয়ে যার যার পথে চলে যাবে।

আমার প্রস্তাবিত এই ওয়ানওয়ে পদ্ধতির রাস্তাগুলি বাস্তবায়ন করতে হলে অপরিহার্যভাবে কিছু কার্য সম্পাদন করতে হবে যে গুলি নিন্মরুপ:-
১। আমার প্রস্তাবিত এই ওয়ানওয়ে পদ্ধতির রাস্তার মাঝের সকল ডিভাইডার ও লাইটপোষ্ট গুলি সম্পূর্নভাবে অপসারন করতে হবে।
২। গোলাপবাগ ষ্টেডিয়ামের দক্ষিনাংশের রাস্তাটি ধলপুর কমিউনিটি সেন্টার থেকে সায়েদাবাদ ব্রীজ পর্যন্ত যাওয়া রাস্তার সমান প্রশস্ত করতে হবে এবং যাত্রাবাড়ি কাচাবাজারের পূ্র্বের সংযোগ সড়কটি আরও প্রশস্ত করতে হবে।
৩। প্রতিটি তিনরাস্তার মোড়ে তিন কৌনিক ডিভাইডার ও চৌরাস্তার মোড়ে চার কৌনিক ডিভাইডার স্থাপন করতে হবে।
৪। ওয়ানওয়ে রাস্তায় শাখা রাস্তা থেকে আসা গাড়িগুলিকে কোনভাবেই আড়াআড়ি রাস্তা ক্রশ করতে দেওয়া যাবে না, গাড়িগুলিকে রাস্তায় চলাচলকারী গাড়ির অনুকূলেই চলতে হবে।
৫। ওয়ানওয়ে রাস্তার কোন অংশেই স্থায়ী গাড়ি পার্কিং দেওয়া যাবে না;
৬। ওয়ানওয়ে রাস্তায় কোনভাবেই বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ি ঢুকতে দেওয়া যাবে না।
৭। ওয়ানওয়ে রাস্তাগুলি গাড়ির স্বাভাবিক চলাচল উপযোগী করে দিতে হবে।
এই ওয়ানওয়ে পদ্ধতির রাস্তা গুলি ফ্লাইওভার চালুর পরেও অব্যাহত রাখা যাবে যদি
(ক)ধোলাইর পাড়ের দিক থেকে আসা গাড়ির ফ্লাইওভারে ওঠার রেম্পটি ধোলাইরপাড় বাস ষ্ট্যান্ডের উপর দিয়ে নিয়ে নামনো যায়,
(খ) কমলাপুরের দিক থেকে আসা গাড়ির ফ্লাইওভারে ওঠার রেম্পটি গোলাপবাগ মাঠের উত্তর প্রান্ত পর্যন্ত সম্প্রসারন করা যায় যাতে গোলাপবাগ মাঠের দক্ষিনের রাস্তায় রেম্পের নীচ দিয়ে গাড়িগুলি চলাচল করতে পারে।
আমার এই প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করতে কত টাকা লাগতে পারে ও কত সময়ে তা বাস্তবায়ন করা যাবে তা নির্ধারনের ভার আমি পাঠকদের উপরই ছেড়ে দিলাম । অবশেষে আমার এই প্রস্তাবটি ভেবে দেখার জন্য সরকারের প্রতি বিনীতভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি ।