ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

শিরোনামীয় বক্তব্যটি নির্মম মনে হলেও খুব শীঘ্রই এর বাস্তব প্রতিফলন আমরা দেখতে পাবো, এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস । কারন, আমাদের দেশে একটি কথা প্রচলিত আছে যে-বেশী বাড়লে তাকে অবশ্যই করুন পরিনতি ভোগ করতে হবে। এই প্রসংগে ছোট বড় অনেক সন্ত্রাসীর করুন পরিনতির উদাহরন দেওয়া যাবে ভূড়ি ভূড়ি । করুন পরিনতি ভোগ করা এই সকল সন্ত্রাসীরা মূলত অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জন করতে গিয়ে গুম,খুন, নারীধর্ষন থেকে শুরু করে এহেন কোন অপকর্ম নাই‍ যে তারা সংঘটিত করে নাই । করুন পরিনতি ভোগের আগ পর‍্যন্ত তারা এতোটাই বেপোরোয়া হয়ে যেত যে তাদের বুঝিয়ে ভালো পথে আনার কোন সুযোগই থাকত না । পরিনামে নির্মম মৃত্যই তাদের সীমাহীন বাড়াবাড়ির একমাত্র সমাধান হয়ে দাড়ায় । কিছুদিন পূর্বেও সন্ত্রাসীরাই জনগনের শান্তি বিনষ্টকারী হিসাবে চিহ্নিত ছিল । কিন্ত বর্তমানে জনগনের সুখশান্তি বিনষ্টকারী হিসাবে আর সন্ত্রসীদের আধিপত্য নেই । এদের জায়গা এসে দখল করেছে আমাদেরই ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নামধারী রাজনীতিবিদ নামের আমার ভাষায় দূর্নীতিবিদেরা, আর তাদের কাজে স‍‍‍হ‍ায়তা করে সন্ত্রাসীরা ।

এতোকাল যাবৎ আমরা অপরাধমূলক পেশা হিসাবে যে নাম গুলি জানি, সেইগুলির মধ্যে অন্যতম হলো-চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাদাবাজি, বাটপারি, ঘুষখুরী, খুন, রাহাজানি ইত্যাদি । কিন্ত বর্তমানে উপরোল্লিখিত সকল অপরাধের সমন্বয়ে এক নূতন অপরাধমূলক পেশা চালু হয়েছে আমাদের দেশে, যার নাম রাজনীতি । এই রাজনীতির পেশাজিবীদেরকে আবার আমরা জনগনই ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করে দেই, এই সকল অপরাধমূলক কর্মকান্ড নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাওয়ার জন্য । শুধু কি তাই ? তাদের অপরাধমূলক কাজে যাতে কোন বাধাবিপত্তি না আসে ,তার জন্য জনগনের খরচায় তাদের জন্য নিয়োজিত থাকে পুলিশ, র‍েব, ডিবি,সিআইডি, এনএসআই এমনকি বিজিবি-সেনাবাহিনী পর‍্যন্ত । তারপরও কোথাও আটকাইয়া গেলে আছে আদালত । এইখানেই শেষ না । এরপরও যদি কোন কারনে গায়ে ময়লা লাগে তবে, তা দুধদিয়ে ধূয়ে সাফ করার জন্য আছে দূদক । বলেন এখন, যেই পেশায় এমন সুযোগ সুবিধা আছে, সেই পেশা মানে রাজনীতিবিদেরা কি কারনে জনগনের মংগলের জন্য কাজ করবে ? এইসকল রাজনীতিবিদেরা যত খারাপ কাজই করুক না কেন, জনগনের কি করার আছে তাদের এই সকল অপকর্ম থামানোর জন্য ? একমাত্র আল্লাহ ই পারে জনগনকে এই সকল রাজনীতিবীদদের কবল থেকে রক্ষা করতে । আর জনগনকে উদ্ধারের অংশ হিসাবেই আল্লার ইচ্ছায় শাসকদল কর্তৃক বিরোধীদলের শীর্ষ নেতাদেরকে গুম, খুন ও পুলিশ দিয়ে লাঠিপেটা থেকে শুরু করে লাত্তি,উষ্টা,কিল,ঘুষি পর‍্যন্ত ভোগ করায় যেমন-গত বিএনপি সরকারের সময়ে খুন হয় আহসান উল্লাহ মাষ্টার, এস,এম কিবরিয়া,বর্তমান প্রেসিডেন্টের স্ত্রী আইভি রহমান সহ অসংখ্য নেতাকর্মী আর পুলিশের বেধরক পিটুনি খায় এর আগের আওয়ামীসরকারের স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী,সাজেদা চৌদুরী, মতিয়া চৌধুরীসহ নামকরা নামকরা সব নেতারা । আবার বর্তমান সরকারের সময়ে গুম হয় বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, চৌধূরী আলমসহ অগনিত নেতাকর্মী ও খুন হয় বিএনপি নেতা রফিক, আওয়ামীলীগেরই পৌর মেয়র লোকমানসহ অসংখ্য উভয়দলেরই নেতাকর্মী এবং পুলিশ কর্তৃক শারিরীকভাবে নির‍্যাতনের শিকার হয় তারেক জিয়া, কোকো, সংসদের হুইপ জয়নাল আবেদিন ফারুকসহ অসংখ্য মন্ত্রী হওয়ার যোগ্য সব নেতারা এবং সেই সাথে কারাভোগ করছে সাবেক দোর্দন্ড প্রতাপশালী স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর,শিক্ষা উপমন্ত্রী পিন্টু, এমপি নাসিরউদ্দিন পিন্টুসহ আরোও অনেক বড় বড় শীর্ষ নেতারা , পালিয়ে বিদেশে অবস্থান করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদাজিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ আরো অনেক নাম না জানা নেতারা । এইভাবে চলতে থাকলে আগামী দুইটার্মের পরে বর্তমানের সরকারী ও বিরোধীদলের আর কোন নেতা অবশিষ্ট থাকবে কিনা রাজনীতি করার জন্য তা যথেষ্ট সন্দেহের উদ্রেক সৃষ্টি করে মনে ।

রাজনীতিবিদের এই পরিনতি জনগনের সাথে অনৈতিক কাজের ফলভোগ ছাড়া আর কিছুই না । আসলে রাজনীতিবিদেরা ক্ষমতায় গেলে অতীত ও ভবিষ্যতকে ভুলে গিয়ে শুধু বর্তমানে ডুবে‍ থাকে । এই যে দেখুন, আজ আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব ম,খা আলমগীর সাহেব বেশ গর্বের সাথেই বললেন‍‍ যে, ডিসি হারুনকে রাষ্ট্রপতি পদক ও সর্বোচ্চ পুলিশ কর্মকর্তাপদক দেওয়ার ক্ষেত্রে জ,আ ফারুকের পিটানোকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে । এইখানে দেখুন আমরা জনগন কিন্ত বুঝতে পারছি এই ম,খা আলমগীর আগামীতে বিরোধীদলে গেলে নির্ঘাত গুম,খুন অথবা পুলিশ কর্তৃক নির‍্যাতিত হবেন কিন্ত মন্ত্রী সাহেব তা বুঝতে পারছেন না । অর্থ্যাৎ অতীতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের পরিনতির কথা উনার মনে নাই আর ভবিষ্যতে যে বিরোধীদলে যেতে হবে তাও তিনি ভুলে গেছেন । এইভাবেই আল্লাহ তায়ালা মানুষের কর্মের প্রতিদান দিয়ে থাকেন ।

বর্তমানে আমাদের দেশের রাজনীতিবিদেরা এতোটাই সীমাহীন দূর্নীতি ও অপকর্মে আকন্ঠ নিমজ্জিত হয়ে গেছেন‍ ‍যে জনগনের দ্বারা এর প্রতিকার হওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই । একমাত্র উপরওয়ালাই পারবেন তাদের এই অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি থামিয়ে দিয়ে তাদের পরিবর্তে‍ যোগ্য লোকের শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে যা খুব শীঘ্রই দেখতে পাবো বলে আমার বিশ্বাস । তাই দেশবাসির প্রতি আমার আহবান থাকল যে, আপনারা হতাশ হবেন না, কারন সুদিন আর বেশী দুরে নয় । গুনে গুনে মাত্র দশটি বছর অপেক্ষা করুন । সুদিন আসবেই । ইনশাআল্লাহ ।