ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

রাসায়নিক বিক্রিয়ায় রং পরিবর্তনের জন্য যদি কোন নির্দিষ্ট পরিমান যৌগের জন্য যদি ১০ফোঁটা এনজাইম বা নিয়ামকের প্রয়োজন হয়, তবে ঐ যৌগের সাথে ৯ ফোঁটা পর্যন্ত এনজাইম বা নিয়ামক মিশালেও ঐ যৌগের রং বিন্দু পরিমানও পরিবর্তন হবে না কিন্ত ১০ম ফোঁটা ঐ যৌগের সাথে মিশানোর সাথে সাথে সম্পূর্ন‍‍ যৌগটির রং সম্পূর্ণ বদলাইয়া গিয়া অন্য রং ধারন করবে – এটা রাসায়নিক বিক্রিয়ার একটি সাধারন ধর্ম । তেমনি মানুষের রাগ , ক্ষোভ, ধৈর্য্য ও সহনশীলতার ও একটি চরম সীমারেখা আছে‍, যেই পর্যন্ত তা মানুষ নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে কিন্ত সীমারেখাটি অতিক্রান্ত হলেই মানুষ তখন আর নিজেকে নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারে না। আর তখনই তার মধ্যে বিস্ফোরন ঘটে যায় । যার ফল শ্রুতিতে মানুষ সেই মুহুর্তে‍ যে কোন অঘটন ঘটিয়ে ফেলতে পারে । আর ঘটনাটি যদি হয় রাষ্ট্রীয় ‍‍পর্যায়, তখনই এই রুপ গন বিস্ফোরনের মতো ঘটনা ঘটে যায় এবং আসে পরিবর্তন, যা আমরা অতীতেও দেখেছি বহুবার-বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে, ৭১‘সালের মুক্ত‍িযুদ্ধে, ৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ।

ঠিক সেই রকমই আরেকটি পরিবর্তনের দ্বার প্রান্তের সুস্পষ্ট ইংগিত- ‘শাহবাগ স্কয়ারের’ এই গন বিস্ফোরন, আর এইখানে নিয়ামকের ভূমিকা পালন করেছে কাদের মোল্লার বিচারের রায়টি । গণতান্ত্রিকভাবে জনগনের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পরেও বিগত ৯০ পরবর্তী সরকার গুলি জনগনের আশাআকাঙ্খার প্রতি কোনরূপ তোয়াক্কা না করেই দিনকে দিন স্বৈরাচার থেকে চরম স্বৈরাচার, দুর্নীতিবাজ থেকে চরম দুর্নীতিবাজে পরিনত হয়েছে, ক্ষমতার মোহে ন্যায়-নীতি ও বিবেকের এমনি বিসর্জন দিয়েছে যে তাদের মধ্যে বিন্দু পরিমান আর অবশিষ্ট নেই, এই সকল মানবীয় গুনাবলীর।

জনগনকে তারা রাজনীতির মাঠের খেলার উপকরন হিসাবে ব্যবহার করছে বছরের পর বছর ধরে। এমনকি, যে মর্মস্পর্শী ও বেদনাবিধুর স্মৃতি মানুষকে অবিরত তাড়া করে বেড়ায়, যেই স্মৃতি মনে হলে এখনও মানুষের গা শিহরিত হয়ে ওঠে, যেই দৃশ্য মনে হলে এখনও যে কোন মানুষকে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে হয়, সেই স্বাধীনতা যুদ্ধের লক্ষ লক্ষ বীর শহীদ ও সম্ভ্রমহারা নারীদেরকেও রাজনীতির উপকরন হিসাবে ব্যবহার করতে তারা এতটুকু কুণ্ঠাবোধ করেনি । রাজাকারদের বিচারের কথা বলে তারা মুক্তিযুদ্ধে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলির মনের ক্ষতস্থানগুলিতে বার বার আঘাতের পর আঘাত করে ক্ষতবিক্ষত করেছে এবং ক্রমশ প্রতিশোধপরায়ণ করে তুলেছে কিন্ত সবকিছুই ছিল তাদের রাজনীতির এক ঘৃণ্য ছলনা, যা অবশেষে কাদের মোল্লার বিচারের রায়ের মাধ্যমে বেরিয়ে এসেছে । আসলে কাদের মোল্লার বিচারের রায় ছিল জনগনের প্রতি ভন্ড রাজনীতির নিষ্ঠুরতম শেষ কুঠারাঘাত, যা রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের বিশ্বাসের পরিসমাপ্তি টেনে এক অকল্পনীয় ও অবিশ্বাস্য পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে, যা দেখে মনে হচ্ছে নিশ্চিত মৃত্যু পথযাত্রী ডুবন্ত মানুষের পানি ফুড়ে বেরিয়ে এসে একবুক ভরা নি:শ্বাস ফেলে নূতন জীবনের যেন স্বাদ নেয়া । মানুষ যে রাজনীতির অসহনীয় দম বন্ধকরা, নি:শ্বাস ফুরিয়ে আসা পরিস্থিতি থেকে মুক্ত হতে চরম বেকুল হয়ে পড়েছিল, এই ছাত্র-যুব বিস্ফোরন তারই জ্বলন্ত প্রমাণ। এই যুব বিস্ফোরন ক্রমশ বর্তমান নষ্ট রাজনীতির পরিসমাপ্তি ঘটাবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস । এই গন বিস্ফোরন ভন্ড-প্রতারক রাজনীতিবিদদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাবে, এটা এখন নিশ্চিত করেই বলা যায় । এখন শুধু প্রয়োজন সঠিক লক্ষ্যস্থল ঠিক করে, তারপর সঠিক পরিকল্পনা গ্রহন করে লক্ষ পূরনে অব্যাহতভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। কোনরকম ভুল পথে পা বাড়ানো যাবেনা একদমই । বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত । কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না এই তরুন সমাজকে, অতীতেও কেউ পারেনি। পরিশেষে বলব- ভন্ড রাজনীতি নিপাত যাক, তরুন সমাজ জিন্দাবাদ।