ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

রাজাকার শব্দের সাথে আমরা সবাই পরিচিত। ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তি যুদ্ধ চলাকালীন সময় যারা মুক্তি বাহিনীর বিপক্ষে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত দিয়ে ও অন্যান উপায়ে পাকিস্তানী বাহিনীকে সাহায্য করে আমাদের মুক্তির পথকে করেছিল কঠিন ইতিহাসে তারাই রাজাকার নামে পরিচিত। আমি তাদেরকে পাকিস্তানের পক্ষে এক ধরণের ভাইরাস মনে করি। এরা যেমনি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বাংলার প্রতিটি গ্রাম গঞ্জে তেমনি আছে সব রাজনৈতিক দলে। আমরা বাঙালী জাতি এক বাক্যে তাদের বিচার চাই। অথচ একটি বারও কি আমরা ভেবে দেখেছি এই দেশের বুকে প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে এসব রাজাকারদের নামে কত রাস্তা-ঘাট, স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন গড়ে উঠেছে।

অবাক হতে হয় এই ভেবে যে যারা বাঙালী জাতি সত্তাকে অস্বীকার করল, বেঈমানি করল বাঙালি জাতির সাথে, যারা দেশটাকেই চাইল না তারাই দেশের মাটিতে অমরত্ব লাভ করে। আর যারা দেশটাকে ভালবেসে, বাঙালী জাতিয়তাবোদে উদ্ববোদ্ধ হয়ে নির্দ্বিধায় প্রাণ উৎসর্গ করল দেশকে শত্রুমুক্ত করতে তারাই কিনা উপেক্ষিত হয় দেশের মাটিতে।

অথচ আজো কান পাতলে শুনা যায় আমার বীরাঙ্গনা মা-বোনদের আর্ত-চিৎকার, আজো ছেলে হারা শত শত মায়ের কাঁন্নায় ভারী হয় বাংলার আকাশ বাতাশ, আজো ভাই হারা বোনের, স্বামী হারা স্ত্রীর চোখের জল স্মরণ করিয়ে দেয় মুক্তিকামী বীর সৈনিকদের মহান আত্নত্যাগের কথা। কত ত্যাগের বিনিময়ে এদেশটি স্বাধীন হয়েছে অথচ আজ স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থানকারী রাজাকাররা এদেশের নির্বিচ্ছিন্ন ক্ষতার অধিকারী। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো এর জন্যে দায়ী।

আমাদের সকল রাজনৈতিক দলেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে দেশের শত্রু এই রাজাকাররা। রাজনৈতিক দলগুলো রাজাকারদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে বলেই আজ দেশে রাজাকারদের মত পশুরা ধাপিয়ে বেড়াচ্ছে, নিজেদের নামে গড়ে তুলছে স্কুল-কলেজ, রাস্তাঘাটসহ নানান সামাজিক সংগঠন অথচ এরা এদেশের নাগরিকত্ব লাভেরই যোগ্য নয়। এত ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা লাভের পরেও আমরা কলংকিত এক জাতি। কেননা স্বাধীনতার পর এতগুলো বছর কেঁটে গেলেও এসব রাজাকারদের কোন বিচার হয়নি।হয়ত কিছুটা দায়বদ্ধতা অথবা জাতিকে কলংকমুক্ত করার লক্ষ্যে বর্তমানে এদের বিচার শুরু হয়েছে।কিন্তু কি লাভ এদের ফাঁসি বা যাবতজীবন কারাদন্ড দিয়ে।এভাবে কি এদের নিশ্চিহ্ন করা সম্ভব? আদৌ সম্ভব নয়।কারণ স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত এতগুলো বছর ধরে এরা সমাজে এমনভাবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠা করেছে যার ফলে মৃত্যু এদেরকে নিঃচিহূ করতে অক্ষম।

এদেরকে নিশ্চিহ্ন করতে হলে প্রয়োজন এদের নামে গড়ে উঠা প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্টান, রাস্তাঘাট ও মসজিদ থেকে এদের নাম অপসারণ করে এক একজন মুক্তিযোদ্ধার নাম ব্যবহার করা এবং এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাতে ভবিষ্যতে কোন রাজাকারের নামে কোন প্রকার প্রতিষ্ঠান বা রাস্তাঘাট নির্মান না হয়।

কোন রাজাকারের সন্তান মাথা উঁচু করে বলতে না পারে যে আমার বাবার নামে অমুক প্রতিষ্ঠান আছে। রাজাকারের সন্তানের কাছে যেন লজ্জা পেতে না কোন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে।
তবেই হয়ত শান্তি পাবে আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধা ভাইয়েদের ও বীরঙ্গনা মা-বোনের আত্মা। জাতি হবে কিছুটা দায় মুক্ত।