ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

একটি স্বাধীন দেশে এমন বর্বরচিত্ত ঘটনা কারো কাম্য নয়। বাংলাদেশের গুরত্বপূর্ণ স্থানগুলোর মধ্যে টিএসসি চত্বর অন্যতম একটি জায়গা। এমন গুরত্বপূর্ণ জায়গাতে এরকম দুঃসাহসিক নোংরামী কর্মকান্ড করার সাহস কি করে পায় ঐ সকল পশুরা। গত চৌদ্দই এপ্রিল টিএসসিতে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ঘটে যাওয়া নারীদের বিবস্ত্র করে লাঞ্ছনা ও যোন নিপিড়নের ঘটনায় পুরো জাতি আজ নির্বাক। টিএসসিতে ঊনিশটি সিসি ক্যামেরা আছে একথা কারো অজানা নয়। যেকোন আচার অনুষ্ঠানে গুরত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। টিএসসিতেও ঐ দিন মোতায়েন করা হয় বিশ জন অতিরিক্ত পুলিশ। কিন্তু বাস্তবতা বলে ভিন্ন কথা। এই মোতায়েন ছিল কেবলই কাগজ কলমে লিখিত। প্রকৃত অর্থে সাড়ে ছয়টার আগ পর্যন্ত দু’জনের বেশী একজনও পুলিশ ঐ স্থানে ছিলেন না। আমার কাছে পুরো ঘটনাটিই এক রহস্যে আবৃত। যখনই গভীর ভাবে ভাবি তখনই মনে হয় এটি একটি সুপরিকল্পীত ঘটনা। যার পেছনে রয়েছে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী তথা পুলিশে সমর্থন। এমনটি ভাববার পিছনে কিছু যৌক্তিক কারণ আছে।
আমরা যদি ঘটনাটির দিকে লক্ষ করি তবে কী দেখি? সাড়ে পাঁচটা থেকে সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত ঘটনা স্থলে কোন পুলিশের দেখা মিলেনি। কিন্তু সাড়ে ছয়টার দিকে যখন ঘটনা প্রায় শেষ তখনই আগমন ঘটে কয়েকজন পুলিশের এবং স্বতির নিঃশ্বাস নিয়ে লিটন নন্দীরা নিপিড়নকারীদের তুলে দেন তাদের হাতে । কিন্তু কি ভূমিকা রেখেছিল তখন তারা? ছেড়ে দেয় এমন ঘৃণ্যিত জঘন্য সন্ত্রাসীদের। কি কারণে এমন কাজটি করলো পুলিশ? কী স্বার্থ রয়েছে তাদের এর পিছনে? কোন প্রমাণ ছাড়া কেমন করে তারা জানলো যে এরা নিপিড়নকারী নয় তাহলে কি তারা পূর্ব থেকেই জানতো যে এমনটি ঘটবে এবং কে বা কারা এমনটি ঘটাবে?

এবার আসি সিসি ক্যামেরার বিষয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক প্রধান সম্মানিত প্রক্টর যখন টিভি টক শো’তে মিথ্যাচার করে বলেন লিটন নন্দীর বক্তব্য ভিত্তিহীন। তখন লিটন নন্দী দাবি করেন  সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখার। লিটন নন্দীর কথায় সাংবাদিকরাও একাত্তত্বা পোষন করে এ ব্যাপার সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন যে কেন তারা ভিডিও ফুটেজটি দেখছেন না? পুলিশ প্রধান খুব সুন্দর ভাষায় ও সহজ ভগ্ঙিতে জানান যে তারা তা দেখেছেন কিন্তু এমন কোন ঘটনার নজির তারা পাননি। এখন আমার কথা হচ্ছে কি করে একই সাথে ঊনিশটি ক্যামেরাই ঐ একটি ঘন্টা ধারণ করতে অক্ষম হল।প্রশ্ন হচ্ছে ঐ একটি ঘন্টা কি ক্যামেরাগুলো আদৌ সচল ছিল নাকি জাতিকে পৈচাষিক উল্লাসের ঘৃণ্যিত সাক্ষী করতে অচল করে দেয়া হয়ে ছিল একযোগে নির্দিষ্ঠ সময়ের জন্য সব ক’টি ক্যামেরা। কিন্তু কেন? এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর পুরো বিষয়টিকে ভিত্তিহীন বলে এক প্রকার উড়িয়েই দেন।

পরবর্তিতে যখন বাংলাদেশের ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এমন ঘটনায় সারা দেশে একযোগে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয় তখন ছাত্র ইউনিয়নের সকল উপরের নেতা কর্মীদের কাছে পুলিশের উপরের লেভেল থেকে ফোন আসে এবং বলা হয় বিক্ষোভ মিছিল থেকে বিরত থাকতে।

এখন আমাদের জানার বিষয় হলো কে বা কারা পিছন থেকে এদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে? কারা ইন্ধন যোগাচ্ছেন এমন ঘৃনিত কাজের। আমি বলবো গত ১৪ই এপ্রিল ঐ সকল নারীরা নগ্ন হয়নি নগ্ন হয়েছে পুরো বাংলাদেশ, নগ্ন হয়েছে স্বাধীনতা। এমন ঘটনায় বার বার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা। তাই পরিশেষে বলবো কেবল আইন তৈরী করে কিংবা হাজার সিসি ক্যামেরা লাগালেও এমন ন্যাক্কাড় জনক ঘটনা থামানু সম্ভব নয় যদি না আইনের বাস্তবায়ন না হয়, সিসি ক্যামেরাগুলো নিয়মিত কাজে লাগানো না হয় এবং সর্বপ্রথম প্রয়োজন আমাদের পুলিশবাহিনী তথা নিরাপত্তা বাহিনীকে হতে হবে আরো সচেতন আরো একনিষ্ঠ হতে হবে নিজ নিজ দায়িত্বের প্রতি। তা না হলে কখনোই সন্ত্রস দমন করা সম্ভব নয়। আর এমন করেই যদি অপরাধীদের আড়াল থেকে বাঁচিয়ে দেয়া হয় তবে আধৌ অপরাধ দমন সম্ভব নয়। বরং এরকম ভাবে অপরাধীদের শাস্তি না দিয়ে আরো অপরাধী সৃষ্টির প্রতি উৎসাহিত করা হচ্ছে।
তাই আজ আমাদের একটাই চাওয়া এসকল নিপিড়নকারীদের এমন শাস্তি দেওয়া হউক যাতে করে আর কেউ এমন লজ্জাজনক কাজের সাহস না করে।