ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

কবরে শুয়ে আছি আমি। ওরা আমায় খুবলে খুবলে ছিঁড়ে
ছিঁড়ে খেয়েছে তাতেও শান্ত হয়নি নরপশুরা, টেনে হেঁচড়ে ছিঁড়ে ফেলেছে চুলের গোছা, থ্যতলে দিয়েছে গোটা শরীর। কি বীভৎস, কি যন্ত্রণার তা ভাষা প্রকাশ করার মত নয়। জানো আমি অনেক আশায় ছিলাম সেনানিবাসের কেউ না কেউ আমায় বাঁচাবে। আমি চিৎকার করতে গিয়েও চিৎকার করতে পারিনি।
আমাকে এই অসুস্থ সমাজ বাঁচতে দেয়নি। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরও এদেশ আমায় নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। আজ আমার বড্ড হাসি পায় যারা নারীর সম্মান নারীর অধিকার বলে চিৎকার করে তাদের কথা মনে হলে। যে সমাজ নারীকে সুরক্ষিত রাখতে পারে না সে সমাজ কি করে নারীকে তার অধীকার দিবে।
এ দেশ বিকল হয়ে গেছে। বিচার ব্যবস্থা বলতে কিছুই অবশিষ্ট নেই।
আচ্ছা আমার আগেও তো অনেক তনুদের সাথে এমন হয়েছে ওরা তো ন্যায় বিচার পায় নি। আমি কি ন্যায় বিচার পাবো? আচ্ছা আমার আগে যাদের সাথে এমনটি হয়েছিল যদি ওরা ন্যায় বিচার পেত তবে হয়ত আজ আমাকে এমনটির স্বীকার হতে হতো না।
কেমন আছে আমার বাবা-মা? কে তাদের শান্তনা দেবে? আমার পাগল সহপাঠীগুলো রাজপথে নেমে গেছে আমার হত্যার বিচার দাবীতে। কিন্তু ওরা জানেনা এদেশ মেয়েদের সম্মান করতে জানে না। ক্ষমতার কাছে ন্যায় বিচার অসহায়।
আমি কবরে শুয়ে শুয়ে বড্ড অস্বস্থিরতায় ভোগছি। এই বুঝি হায়নারা আবার কোন তনুকে স্বীকার বানালো। এই বুঝি আপনার বোন বা মেয়েকে তনু বানিয়ে দিল।
আচ্ছা আজ যদি আমি না হয়ে আমার জায়গায় আপনার মেয়ে বা বোনও তো হতে পারতো। তখন কি আপনি চুপ করে থাকতেন? আপনি কি পারতেন ন্যায় বিচার দাবী না করে থাকতে???
তবে আমার জন্য কেন ন্যায় বিচার হবে না?
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার কাছে আমি তনু কবর থেকে আকুল আবেদন করছি আমার হত্যাকারীদের শাস্তির ব্যবস্থা করুন যাতে আর কোন তনুদের এমন পরিস্থিতির স্বীকার না হতে হয়।