ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

ঘুষ একটি সামাজিক প্রক্রিয়ায় রূপ নিয়েছে। আমি ঘুষ নেব কাজেই তোমাকেও ঘুষ দিতেই হবে। চলছে তো চলছেই এমন একটি অবস্থা আরকি। অনেকটা মৌলিক চাহিদা অন্ন, বস্র, বাসস্থানের মত ঘুষও একটি মৌলিক চাহিদায় রূপ নিয়েছে।

চাকুরী করবা দয়াল বাবার সাথে, তা দয়াল বাবারও তো একটা খরচ আছে তাই না। দয়াল বাবার খরচ দিয়ে চাকুরী পাওয়াতেই কি এই ঘুষ প্রক্রিয়া শেষ। না এরপর শুরু হয় ঘুষের আরেক ধাপ। বলে যাক চাকুরী যখন ঘুষ দিয়ে নিলাম তখন আর ঘুষ খাবো না কেন। মনে হয় খেতেই হবে এবং চালু থাকতেই হবে এটিই হলো ঘুষের চলমান প্রক্রিয়া।

পুলিশ, সরকারি চাকরিজীবী কিংবা প্রাইভেট সেক্টরগুলোতে চলতে থাকে ঘুষের এই চলমান প্রক্রিয়া বা ঘুষ অধিকার। আসলে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যেই এই ঘুষের অধিকারটা দিয়ে দিলেই হয়। সাধারণ জনগণের মৌলিক অধিকার হলো অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা। আর এদের একটা বেশি থাকবে সেটা হলো ঘুষ অধিকার। সাথে একটা পরিমাণও নির্ধারণ করে দিয়ে দেওয়া হবে যে কোন ধরণের চাকরিতে কত টাকা ঘুষ দিতে হবে। এতে করে সবাই বুঝল যে তার টাকার পরিমান অনুযায়ী সে কোন চাকরিটা পাবে। আর উচ্চপদস্থদেরও লজ্জিত হওয়ার প্রয়োজন নাই বরং বুক ফুলিয়ে মৌকিল অধিকারের মতই ভোগ করলো এই ঘুষ অধিকার।

এদিকে সাধারণ জনগন শিক্ষা নামক যে একটা অধিকার আছে তা ভুলে গিয়ে এই ফালতু কাজে বাবা-মার টাকা পয়সা নষ্ট না করে বরং ঘুষ নামক উপরের লেভেলের জন্য টাকা জমানো শুরু করে দিলো। মেধার মূল্যায়নই যখন হবে না তখন মেধার বিকাশের কি বা প্রয়োজন। এটি কেবল টাকা আর সময় অপচয়ের নামান্তর মাত্র।