ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

দেশটা যে কতটা হস্যকর বস্তুতে পরিণত হয়েছে গোটা বিশ্বের কাছে তা আমরা খুব সহজেই অনুমান করতে পারি। জনমত, জবাবদিহিতা কোন কিছুই যেন আজ আর গনতন্ত্রে সচল নয়। এই অবস্থায় মন্ত্রী মহলের হাস্যকর কর্মকান্ডে জনগন বার বার হতাশ হচ্ছে। আমাদের দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চেয়ার একটা অদ্ভুত জায়গা। এ চেয়ারে যেই যখন বসেছেন (গত ২০ বছরের কথা বলছি), তিনিই কোনো না কোনো ফালতু মন্তব্য করে লোক হাসিয়েছেন, মানুষকে রাগিয়েছেন। ‘মাটির নিচের সন্ত্রাসীও ধরে আনবো’, ‘আল্লাহর মাল আল্লাহই নিয়ে গেছে’, ‘উই আর লুকিং ফর শত্রুজ’, ‘আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যেই সাগর-রুনির হত্যাকারীদের গ্রেফতার’, ‘পিলার ধরে নাড়াচাড়ার কারণেই রানা প্লাজা ভেঙ্গে পড়েছে’ এ জাতীয় কথাবার্তা আমরা হামেশাই শুনেছি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাছ থেকে। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান খান কামালও জঙ্গি হামলা ও গুপ্তহত্যার ঘটনাগুলোকে ‘বিচ্ছিন্ন হামলা’ বলতে বলতে সমাজের শুভ বোধসম্পন্ন মানুষগুলোর কাছ থেকে নিজেকে ক্রমাগতই ‘বিচ্ছিন্ন’ করেছেন। কিন্তু আমাদের গণমাধ্যমও ঠিক সময়ে ঠিক দায়িত্বটি পালন করতে পারে নি।বরং ভুল সময়ে ভুল করে অতিরিক্ত দায়িত্ববান সাজতে গিয়ে প্রকারান্তরে তারা দেশের অনেক ক্ষতিই করেছেন বটে। এই যেমন ৭/১ এ হলিআর্টিজান বেকারি রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলা চলাকালীন তাদের অহেতুক সরাসরি সম্প্রচার অনেক ক্ষতি করেছে। এগুলো যে তারা সবসময় না বুঝে করে- আমি ঠিক তেমনটা মনে করিনা।কারণ সেদিন তারা নিজেরা এক পর্যায়ে সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ করলেও বিদেশি চ্যানেলের কাছে ফুটেজ বিক্রি করেছে, বিদেশি চ্যানেল সেগুলো ঠিকই সরাসরি সম্প্রচার করেছে। এগুলো ভুল নয়, অপরাধ। আজ যখন জঙ্গিবাদী সন্ত্রাস নিয়ে সারা বাংলাদেশ চিহ্নিত,তখন সবারই একটু একটু করে দায়িত্বশীল হওয়া উচিৎ।এমন কোনো কাজ আমাদের করা উচিৎ না,যাতে জঙ্গিবাদ বিরোধী জাতীয় দায়িত্বের স্থান থেকে আমরা বিচ্যুত হই। এমন কোনো বিভ্রান্তিকর সংবাদ কোনো গণমাধ্যমের পরিবেশন করা উচিৎ না যা আমাদের জাতীয় ঐক্য থেকে বিন্দুমাত্রও বিচ্যুতি ঘটায়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্টাপাল্টা কথা আগে অনেকবার বলেছেন। সরকারও কিছু ভুলভ্রান্তির উর্ধে নয়। কিন্তু এই গুলশান ও শোলাকিয়া হামলার পর থেকে সরকারের একটা দায়িত্বশীল চেহারা আমরা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করছি।এ সময়ে এসে গতকাল কিছু গণমাধ্যম আবারও সেই ভুল বা অপরাধ করে চলেছে। তারা সংবাদ পরিবেশন করছেন এমনভাবে- ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন যে গুলশান হামলার সব তথ্য আমাদের কাছে ছিলো।’ আসলে কি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেছেন? নাকি আগে-পরে আরো কিছু কথা বলেছেন? গণ মাধ্যমগুলো তার আগে-পরের কথাবাদ দিয়ে ওটুকুই পরিবেশন করছে যেটুকু দিয়ে আমরা বিভ্রান্ত হতে পারি। গতকাল রাতে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদ ও আজকের বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্রের সংবাদ ঘেঁটে যা দেখলাম, তাএরকম: “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘গুলশান হামলার আগে এ বিষয়ে সব ধরনের গোয়েন্দা তথ্য আমাদের কাছে ছিলো। গোয়েন্দা তথ্য ছিলো, গুলশান এলাকায় কিছু একটা ঘটতে পারে। এ কারণে আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি ছিলো। এর পেছনে কারা, কারা এদের মদদ দিয়েছে, তা আমাদের জানা আছে। প্রস্তুতি থাকার কারণেই দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পেরেছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ঘটনার তিন মিনিটের মাথায় আমাদের পুলিশসদস্য এস আই ফারুক সেখানে যান।তার গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর কমিশনার জানতে পেরে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে যেতে বলেন। সেখানে হামলাকারীরা ভেতরে কী অবস্থায় ছিল,জিম্মিদের কী অবস্থায় রেখেছিলো, তা জানার জন্য যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছিলো। এরপর আপনারা সবাই দেখেছেন, সেনাবহিনীর নেতৃত্বে দক্ষতার সঙ্গে ১৩ মিনিটের মাথায় আমাদের অভিযান সফল হয়।’ তিনি বলেন, ‘শোলাকিয়ায়ও একই ধরনের হামলার চেষ্টা হয়েছিল, পুলিশ চেকপোস্টে আমাদের পুলিশসদস্য নিহত হয়েছেন।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে সব তথ্য আছে, কারা মানুষ হত্যা করার মতো ঘৃণ্য কাজের সঙ্গে জড়িত।তাদের ব্যাপারে সব জানি আমরা।’” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এখানে ভুল বা অন্যায় কি বলেছেন, তা আমার মতো স্বল্পজ্ঞানের মানুষের পক্ষে বোঝা সম্ভব না। আসুন, এই চরম সময়ে এসে অন্তত আমরা স্বার্থ হাসিলের নোংরা খেলা থেকে বেরিয়ে এসে একটু দায়িত্বশীল হই।
নির্বাহী সম্পাদক পারিস বার্তা ফ্রান্স