ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

 

 

ভিক্ষা, সাহায্য , প্রার্থনা এই শব্দগুলো একটি আর একটির প্রতিশব্দ। ভিক্ষুক অনেক প্রকারের দেখা যায়। যেমনঃ জীবন বাঁচানোর জন্য ভিক্ষা, কমার্শিয়াল ভিক্ষা, ছদ্মবেশী ভিক্ষা, গোয়েন্দা ভিক্ষা ইত্যাদি। জীবন বাঁচানোর জন্য যে ভিক্ষা সেটা বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। মেধাহীন, অশিক্ষিত, বোকা, অকর্মন্য, অসহায়, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাই ভিক্ষার মত এ ঘৃণ্য কাজটি করে থাকে। তবে যদি এ পর্যায়ের ব্যক্তিদের লালন-পালন করার দায়িত্ব কেউ গ্রহণ করে তাহলে কেউ ভিক্ষা করে না।

আমাদের পৃথিবীতে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে অসহায় ভিক্ষুকের সংখাই বেশি। এর কারণ দারিদ্রতা, উপযুক্ত শিক্ষার অভাব, কুসংস্কার, জন্ম নিয়ন্ত্রণের লাগামহীনতা ও সরকারের দুরদর্শিতার অভাব।
প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বে কোন ব্যক্তি জীবন রক্ষার জন্য ভিক্ষা করে না। এই দেশগুলো জাতীয়ভাবে অনেক ধনী, এবং মাথাপিছু আয় অনেক বেশি। ওরা রাষ্ট্রীয়ভাবে পাঁচটি মৌলিক চাহিদা পূরণ করে। এসব দেশে ভিক্ষুক থাকার প্রশ্নই আসে না।

স্বাধীন হওয়ার পর দেশের মানুষকে বাঁচানোর জন্য দাতা দেশগুলোর কাছ থেকে ভিক্ষা করছে বাংলাদেশ এবং মোটা অংকের ঋণ গ্রহণ করছে। ঋণের বোঝা নিয়ে এ দেশ আগানোর চিন্তা করলেও আরও বেশি পিছনে চলে যায়। কারণঃ শিক্ষার অনগ্রসরতা, লাগামহীন জন্ম নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দুর্ণীতি। তবে বর্তমান সরকার এ সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ও দারিদ্রতাও অনেকটা কমেছে। ছোট বেলায় অর্থাৎ আজ থেকে চল্লিশ বছর আগে দেখেছি। বাংলাদেশের মানুষ প্রায় সবাই কৃষির উপর নিভরশীল ছিল। কিন্তু বর্তমানে এমনটি নেই। কারণ পোশাক শিল্পসহ অন্যান্য কলকারখানা গড়ে উঠেছে, কৃষিক্ষেত্রের উন্নতি, শিক্ষার হার বৃদ্ধি, যোগাযোগের উন্নতি। এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একটি বড় উৎস হল শ্রমশক্তি বিদেশে রপ্তানি।

একটি দেশের প্রত্যেকটি ব্যক্তিকে যখন সুস্থ্য-সবল, শিক্ষিত, মেধাবী, দক্ষ, কর্মট ও জ্ঞানী করে গড়ে তোলা যাবে তখনই দেশটি হবে উন্নত। প্রথমেই ব্যক্তির উন্নতি পরে পরিবারের উন্নতি। প্রত্যেকটি পরিবারের উন্নতি মানেই সমাজের উন্নতি, সমাজের উন্নতি মানেই জাতি বা দেশের উন্নতি। তখনই আমরা বলেতে পারব উন্নত জাতি, উন্নত দেশ। আমাদের সমাজের দিকে তাকালে দেখতে পাই, সুস্থ-সবল একজন ব্যক্তি সাহায্য চায় অর্থাৎ পরমুখাপেক্ষী থাকে। আবার দেখা যায়, একজন পঙ্গু ব্যক্তিও একটি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করে অর্থ উপার্জন করছে কিন্তু ভিক্ষা করছে না। আসলে এটা মেধা ও মানসিকতার উপর নির্ভর করে।

এদেরকে সচ্ছল, শিক্ষিত, বুদ্ধিমান ও কর্মট করে তুলতে পারলেই দেশের উন্নতি সম্ভব। দেশের প্রত্যেকটি মানুষ শিক্ষিত, বুদ্ধিমান ও কর্মট হলেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। এ কাজটি সঠিকভাবে করতে হলে সরকারকে কঠিন ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে যে, এদেশে কোন ভিক্ষুক থাকতে পারবেনা। অশিক্ষিত থাকতে পারবেনা। আর অসহায়, পঙ্গু, বয়স্ক ও প্রতিবদ্ধি ব্যক্তি, যাদের বরণ-পোষণের কেউ নেই তাদের দায়িত্ব সরকারকে বহন করতে হবে। তাহলে ভিক্ষা করার মানসিকতা আস্তে আস্তে কমে যাবে ।আর মানুষের মানসিকতা উন্নত ও মার্জিত করতে হলে বাধ্যতামুলক প্রাথমিক শিক্ষাকে কঠোর হস্তে বাধ্যতামুলক করতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষার জন্য সারা বাংলাদেশে সরকারের জনবল প্রচুর। তারা যদি সঠিকভাবে কাজ করে তাহলে আমাদের দেশে কোন অশিক্ষিত মানুষ থাকার কথা নয়।

একটি শিশু যে পরিবেশেরই হউক না কেন তাকে পরিপূর্ণ প্রাথমিক শিক্ষা দিতে হবে। যদি কোন শিশু ৮০ নম্বরের বেশি পেয়ে পাস করে তাহলে সেই শিশুটি উন্নত মানসিকতার হবে। এ ধরণের শিশু কখনও ভিক্ষা ও চুরির মত অসামাজিক কাজ করবে না। ঠিকমত কাজ করলে প্রত্যকটি শিশুকে ৮০ নম্বরের বেশি পাওয়ার মেধা ও দক্ষতা সম্পন্ন করে গড়ে তোলা যাবে। এ কাজটিতে সফল হতে হলে সরকারের কঠিন ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এখনও আমাদের দেশে অনেক পরিবার আছে তারা সন্তানদের স্কুলে দেয় না। কমপক্ষে শতকরা ২০ জন শিশু বিদ্যালয়ে আসেনা। এছাড়া ভর্তি হওয়ার পর ঝরে পড়ে আরও শতকরা ২০ জন শিশু। স্কুলে আসা, না আসা ওদের উপর নির্ভর করে। এগুলো দেখার কেউ নেই। এভাবে চললে শিক্ষার হার বাড়ানো সম্ভব নয় । প্রাথমিক শিক্ষার হার ১০০% না হলে দেশের উন্নতির কথা চিন্তাই করা যায় না।