ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

56516_194
রংপুর মেডিকেল কলেজের ৩ জন ডাক্তারসহ ৭ জন গ্রেপ্তার(ছবিঃ দৈনিক নয়া দিগন্ত)

প্রতিষ্ঠানের বাহিরে সরকারের তত্ত্বাবধানে যে সকল পরীক্ষা গ্রহণ করা হয় তা হল পাবলিক এক্সামিনেশন। প্রাথমিক সমাপনি পরীক্ষা, জেএসসি পরীক্ষাসহ বোর্ড, বিশববিদ্যালয় পরীক্ষা। অর্থাৎ যে সকল পরীক্ষায় সার্টিফিকেট দেয়া হয়। আর এই সনদগুলো জীবনের মানদন্ড। এছাড়া আরও কিছু গুরুত্বপুর্ণ পরীক্ষা রয়েছে যা জীবনের কর্মক্ষেত্র নির্ধারণ করে। যেমন বিভিন্ন চাকুরির পরীক্ষা, বিসিএস ক্যাডার পরীক্ষা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা, ও মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা ইত্যাদি।
কয়েকদিন ধরে টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রশ্নপত্র পাশের ব্যাপারটি নিয়ে মাথা ধরে গেছে। বিশেষ করে ডঃ মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের “মেডিকেল ভর্তিপরীক্ষা: একটি দীর্ঘশ্বাস” শিরোনামে লেখাটি পরে আমার বিবেক আরো ঝড়ের মত নাড়া দিয়েছে। না লিখে আর পারলামনা।
আমরা সবাই জানি প্রশ্ন ফাঁসের ব্যাপারটি আরো অনেক আগে থেকে চলে আসছে। এবারের মত প্রতি বছরেই এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। কিন্তু শেষমেশ কোন কিছুই হয়না। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন ফাঁস হয়ে আসছে। ধামাচাপা দিয়ে কর্তৃপক্ষ চালিয়ে দিয়েছে। প্রতিরোধের কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
আসলে ক্যান্সার রোগ যখন শুরু হয় তখন যদি প্রতিরোধ বা প্রতিকারের ব্যবস্থা করা হয় তাহলে রুগীকে সুস্থ করা যায়। তা নাহলে এ রোগটি সারানো কঠিন। প্রশ্ন ফাঁসের রোগটি এখন আমাদের সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে। এটিও একটি কঠিন ব্যাধি হয়ে দাড়িয়েছে।
পাঁচ বছর আগে যারা জেএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করে পাস করেছে তারাই এসএসসি ও এইচএসসি –এর প্রশ্ন ফাঁস করে পাস করেছে। তাদের কিন্তু এ ছাড়া এর কোন উপায় নাই। এদেরকে এ নেশাটি ক্যান্সারের মত গ্রাস করেছে। আর যাই বলেন না কেন এভাবে পাস করা ডাক্তারদের দ্বারা কঠিন রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হবে না। রোগ নিরাময় করার তো প্রশ্নই আশে না। মেধাবীরা এদের সাথে প্রতিযোগিতায় হেরে যাচ্ছে। যাদের ডাক্তার হওয়ার কথা ছিল তারা হতে পারছেনা।
আমি শিক্ষক হিসাবে প্রতি বছর জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করি। গত বছর জেএসসি পরীক্ষার হল থেকে বের হয়ে আসছি। আসার সময় এক অভিভাবকের কথা শুনে অবাক হয়ে গেলাম। অল্প শিক্ষিত এক ছাত্রীর মা বলছে, “এই প্রশ্নগুলো পরীক্ষার আগের দিন দেয় কেন? আরো একমাস আগে দিতে পারেনা?”
আমার এক আত্মীয়কে প্রশ্ন করলাম, “ রফিকের(ছদ্মনাম) এসএসসি পরীক্ষা কেমন হচ্ছে?” তিনি উত্তর করলেন, “ভাল, সব পাইছে, চিন্তা নাই।” অর্থাৎ ফাঁস করা প্রশ্ন পেয়েছে। পরে বুঝতে পারলাম বিষয়টি সবাই জানে। শুধু কর্তা ব্যক্তিরাই জানেন না।
আজকের নয়া দিগন্ত পত্রিকায় পড়লামঃ রংপুর মেডিকেল কলেজের ৩ জন শিক্ষক, প্রাইমেট কোচিং সেন্টারের এমডিসহ ৭ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এভাবে এই কাজে জরিত সকল অপরাধীকে ধরে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করলে হয়তো বা সমাধান খুঁজে পাওয়া যাবে।
আমার মতে এখান থেকেই প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনাটি সরকারকে কঠোর হস্তে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। আর এবারের মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করে নতুন পরীক্ষা নেয়া উচিত। তাহলেই অপরাধীরা বুঝতে পারবে যে, প্রশ্ন ফাঁস হলে পরীক্ষা বাতিল হয়।
বর্তমানে এভাবে সকল পর্যায়ে দুর্নীতি বাসা বাঁধলে এ জাতিকে নিয়ে বেশিদূর আগানো যাবে না। যুদ্ধ করে যে জাতি স্বাধীন হয়েছে সে জাতির উচিত পরিশ্রম ও মেধা দিয়ে উন্নত জাতি হিসেবে গড়ে উঠা। কিন্তু তা না হয়ে সকল ক্ষেত্রে দুর্নীতির প্রতিযোগিতা চলছে। এই প্রতিযোগিতায় বেধাবীরা মার খাচ্ছে। বাঙালি বীরের জাতিকে ধ্বংস করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। এভাবে আর চলতে দেয়া যায় না। সকলকে সোচ্চার হতে হবে। দুর্নীতির স্রোতে গা ভাসিয়ে দিলে চলবে না। একটি জাতিকে ধ্বংস করার জন্য দুর্নীতি একটি বড় হাতিয়ার। আর একটি জাতিকে সমৃদ্ধিশালী করার জন্য সততাই যথেষ্ঠ।
তাই জাফর ইকবাল স্যারের মতই আমিও বলব সরকারকে উদ্দেশ্য করে যে, এখন থেকে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ করে জাতিকে রক্ষা করুন। তা না হলে জাতি অন্ধকারের অতল গভীরে তলিয়ে যাবে নিঃসন্দেহে।